৩০ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ১২:৩৯:৫৪ পূর্বাহ্ন


বদলি হজ করানোর পর শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেলে করণীয়
ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৫-২০২৪
বদলি হজ করানোর পর শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেলে করণীয় ফাইল ফটো


হজের মৌসুমে কাবার পৌঁছার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে, এমন প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। কোরআনে হজ ফরজ করে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা বলেন,

اِنَّ اَوَّلَ بَیۡتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیۡ بِبَکَّۃَ مُبٰرَکًا وَّ هُدًی لِّلۡعٰلَمِیۡنَ فِیۡهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبۡرٰهِیۡمَ ۬ۚ وَ مَنۡ دَخَلَهٗ کَانَ اٰمِنًا وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡهِ سَبِیۡلًا وَ مَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ

নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। (সুরা আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭)

কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয় এবং হজ পালন করার শারীরিক সক্ষমতাও থাকে, তার জন্য নিজে হজ করা জরুরি। বদলি হজ করালে অর্থাৎ অন্যকে দিয়ে হজ করালে তার ফরজ হজ আদায় হবে না।

যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং হজ আদায়ের সক্ষমতাও ছিল, কিন্তু শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করেনি, তারপর হজ্ব আদায়ের সক্ষমতা হারিয়ে মাজুর হয়ে পড়েছে, এমন ব্যক্তির ওপর নিজের পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো অথবা মৃত্যুর সময় বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া ফরজ।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাসআম গোত্রের এক নারী নবিজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর বান্দার উপর ফরযকৃ্ত হাজ আমার বয়োবৃদ্ধ পিতার উপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ (আপনি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারেন)। ঘটনাটি বিদায় হজের সময় ঘটেছিল। (সহিহ বুখারি: ১৪২৫)

কেউ যদি অসুস্থতার কারণে হজ করতে অক্ষম হয়ে যায় এবং আর কখনও হজ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না ভেবে বদলি হজ করায়, কিন্তু এরপর নিজে হজ করার শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করে, হজে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্যও তার থাকে, তাহলে তার জন্য পুনরায় নিজে হজ করা ফরজ। এ রকম ক্ষেত্রে আগে আদায়কৃত বদলি হজ নফল গণ্য হবে এবং সেজন্য সে সওয়াব পাবে, কিন্তু তা তার পক্ষ থেকে ফরজ হজ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। সুস্থতা অর্জন করার পর আর্থিক সামর্থ্য থাকলে তার জন্য নিজে হজ করা জরুরি।