১৬ এপ্রিল ২০২৪, মঙ্গলবার, ০১:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন


সরিষার বাম্পার ফলন, দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক
অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৩-২০২৪
সরিষার বাম্পার ফলন, দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক সরিষার বাম্পার ফলন, দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক


ঈশ্বরদীতে সরিষার ফলন হয়েছে বাম্পার। তিন বছরে  সরিষার আবাদ বেড়েছে ৩ গুণ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ সরিষা চাষিরা। সরিষা বিক্রি করে বিগত ২ বছর বিপুল পরিমাণ লাভের মুখ দেখলেও এবারে বাজার দর কম থাকায় লাভ হবে কি না এই আশঙ্কা চাষিদের। 

তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দাম কম হলেও কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে না, হয়তো বিগত বছরগুলোর চেয়ে লাভ কম হবে। এরইমধ্যে বাজারে সরিষার তেলের দাম কমে গেছে। দুইশত টাকা কেজির তেল ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা সন্তুষ্ঠ হলেও চাষিদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

আগে বাজারে সবধরণের তেলের দাম বেশি থাকায় বিগত দুই বছর সরিষার ভালো দাম পায় কৃষকরা। যে কারণে সরিষার চাষে বিপুল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ফলে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা আবাদ করেছে কৃষক। 

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ঈশ্বরদীতে এবারে ১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ২০২১-২২ মৌসুমি ৬৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হলেও ২০২২-২৩ মৌসুমে আবাদ বেড়ে ১ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। বিগত দুই মৌসুমে ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে। এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। তবে সরিষার দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় আবাদে খরচ বেড়েছে। যে কারণে লাভবান হওয়া তো দূরের কথা, লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আমন ধান কাটার পরে সরিষার আবাদ শুরু হয়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সরিষার বীজ জমিতে বপন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সরিষা কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলা হয়। এরইমধ্যে বেশিরভাগ সরিষাই মাঠ থেকে কেটে মাড়াইয়ের জন্য বাড়ির আঙিনায় রোদে শুকানো হচ্ছে। কৃষি অফিস এবারে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বেশি পরিমাণ  জমিতে চাষা হয়েছে। বারি-১৪, বারি-১৬, বারি- ১৮, বিনা-৯ বিনা-১১ ও টরি-৭ উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ সরিষা প্রকারভেদে ২,০০০ থেকে ২,২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রতি মণ বিক্রয় হয়েছে ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ টাকা। এরও আগের বছর বিক্রয় হয়েছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। সরিষার দাম এবারে গত দুই বছরের চেয়ে অনেকটা নিম্নমুখী।

সরেজমিন উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সরিষা চাষিই মাঠ থেকে সরিষা কেটে এনে মাড়াই করে এখন শুকাতে শুরু করেছেন। তারা বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কেউ কেউ স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দাম গত দুই বছরের চেয়ে কম হওয়ায় তারা হতাশ। তাদের মুখে নেই হাসি।

মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর গ্রামের সরিষা চাষি মিজান বলেন, এবারে তিন বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। জমির খাজনা এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় সরিষা আবাদে খরচ বেড়েছে চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু গত বছরের লাভের অংক হিসেব করলে এবারে লাভ হবে কি না, সেই শঙ্কায় আছি। স্থানীয় বাজারে সরিষার দাম বিগত দুই বছরের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় লোকসান হতে পারে।

আরামবাডিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আব্দুল আলীম জানান, সরিষা লাভজনক ফসল। আমন ধানকাটার পর ধানের জমিতে সরিষা আবাদ করলে প্রতি বিঘায় ৪-৫ মন সরিষা হয়। একবিঘা জমিতে সরিষা আবাদে প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়। বাজার দাম কম হলেও কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে না, হয়তো বিগত বছরের চেয়ে লাভ কম হবে। 

ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ জহির রায়হান জানান, তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আমরা সরিষা চাষের জন্য কৃষকদের যথারীতি উৎসাহ প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার কৃষককে উচ্চ ফলনশীল জাতের ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ও ১০ এমওপি বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় এবার সরিষার আবাদে কোনো প্রকার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ নেই। ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে। অপেক্ষা করে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন।