৩০ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ১২:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন


ওরস্যালাইন-টেস্টি স্যালাইন তৈরি হয় ফরিদপুরের নকল কারখানায়
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৫-২০২৪
ওরস্যালাইন-টেস্টি স্যালাইন তৈরি হয় ফরিদপুরের নকল কারখানায় ছবি: সংগৃহীত


দেশের উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ডের স্যালাইন তৈরির একটি নকল কারাখানার সন্ধান মিললো ফরিদপুরে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর দেওয়া তথ্যমতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত অভিযান চালিয়ে সিলগালা করেন ওই নকল কারখানা। একই সঙ্গে কারখানা মালিককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। ওই কারখানায় শুধু স্যালাইনই নয়, বিভিন্ন নামী দামী ব্র্যান্ডের শিশু খাদ্যের মোড়কের সদৃশ্য মোড়কে তৈরি হচ্ছিল নানা ধরনের শিশু খাদ্যও। 

সরেজমিন কারখানা ও গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, দেখতে হুবুহু এসএমসি ওরস্যালাইনের মত নকল ওরস্যালাইন এবং ইউনিভার্সেল টেস্টি স্যালাইনের হুবুহু নকল টেস্টি স্যালাইন বানানো হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে কোনভাবেই বোঝার উপায় নেই পণ্যটি নকল, শুধু মোড়কের নিচে ছোট করে রুপা ফুড প্রডাক্টস লেখা ছাড়া বাকী সবই আসল পণ্যের মত। 

গোয়েন্দা সংস্থ এনএসআই’র সূত্র জানায়, বেশ কয়েকদিন আগে তারা ফরিদপুর শহরতলীর কানাইপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের জাফর মোল্যার মালিকানাধীন রুপা ফুড প্রডাক্টস নামের এই প্রতিষ্ঠানটির খোঁজ পান। যেখানে নকল স্যালাইন বানানো হয়। খোঁজ পাওয়ার পরে ছদ্মবেশে সরেজমিনে তদন্তে নামে এনএসআই। তদন্তে নেমে নকল স্যালাইন বানানোর বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয় ওই কারখানায়। 

অভিযানে গিয়ে জীবন রক্ষাকারী নকল স্যালাইন উৎপাদন অবাক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতকেও। 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শাহাদাৎ হোসেন নকল স্যালাইনের একটি প্যাকেট দেখিয়ে বলেন, ‘দেখেন আসল এসএমসি ওরস্যালাইনের সঙ্গে কোন পার্থক্য নেই এর। স্যালাইন কোন খাবার নয়, এটি একটি ওষুধ। স্যালাইন বানাতে গেলে যে ধরনের অনুমতি লাগে তা নেই এই কারখানা মালিকের। একই সঙ্গে অদক্ষ কর্মী দিয়ে করা হচ্ছিল স্যালাইনের প্যাকেজিং। এছাড়া হুবুহ মোড়ক নকল করাও অপরাধ। স্যালাইন ও খাদ্যপণ্য মজুদ করার যে প্রক্রিয়া সেটাও মানা হয়নি এখানে। এসকল অপরাধে কারখানামালিক জাফর মোল্যাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানা ও গোডাউন সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে কারখানা ও গোডাউনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র আরো জানায়, এই একই কারখানায় নামী দামী ব্র্যান্ডের চিপস, চানাচুর, বুট, মটর ভাজার মোড়কের আদলে মোড়ক বানিয়ে বানানো হচ্ছে নিম্মমানের পন্য। এসব পণ্য শহরতলী ও দুর্গম চরাঞ্চলে বিক্রি করা হচ্ছিল। যা সাধারণ ক্রেতারা নামী ব্র্যান্ডের পণ্য মনে করেই ক্রয় করে আসছিল। 

জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশীদ জানান, স্যালাইনসহ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করার যে নিয়ম তাও মানা হয়নি এখানে। এভাবে রাখা হলে সঠিক পণ্যের মানও নষ্ট হতে পারে। এদের স্যালাইন তৈরির কোন বৈধ কাগজ নেই। 

তিনি আরো জানান, একই অপরাধে কয়েক মাস আগে এই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তখন কারখানামালিক মুচলেকা দিয়েছিল এ ধরনের অপকর্ম আর করবেন না, কিন্তু তিনি তার কোন অপকর্মই বন্ধ করেননি। 

অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তার বৈধ কাগজপত্র আছে বলে দাবী করেন অভিযুক্ত কারখানা মালিক জাফর মোল্যা। 

জীবন রক্ষাকারী ওষুধ স্যালাইনের মত পণ্য নকল করার বিষয়টি অবাক করেছে স্থানীয়দেরও। তারা কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দাবী করেছেন এমন অপরাধীদের।