ঢাকা , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক নগরীর নওদাপাড়ায় বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার রাজশাহীতে হারানো ৪১ মোবাইল ফোন মালিকদের ফেরত দিল পুলিশ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র সাধারণ নির্দেশনা গোদাগাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর রাসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন শহিদ জিয়ার দেখানো পথে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী, ফেনসিডিল ও মদ জব্দ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করল ইরান ব্যায়াম হোক মজার ছলে নোয়াখালীতে গৃহবধূ হত্যা: স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেপ্তার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ঘুম থেকে উঠেই গলা শুকিয়ে আসে, নেপথ্যে থাকতে পারে আরও কিছু শারীরিক সমস্যা প্রকাশ পেল সিয়াম-সুস্মিতার ‘শুদ্ধতার প্রেম’ নোয়াখালীতে কাভাড ভ্যান চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু, চালক আটক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিল চীন শবে কদরের ফজিলত ও ৫ আমল তানোরে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় সৌদির উপহারের খেজুর বিতরণ

রাজশাহী-১: টার্ম কার্ড সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট

  • আপলোড সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০২:৫২:৫০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০২:৫২:৫০ অপরাহ্ন
রাজশাহী-১: টার্ম কার্ড সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট রাজশাহী-১: টার্ম কার্ড সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই শক্তিশালী (হেভিওয়েট) হওয়ায় এবার ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখানে জয়-পরাজয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারদের টার্ম কার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এবার মোট ৫ জন প্রার্থী থাকলেও লড়াই কার্যত বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে ধারণা করছে অভিজ্ঞ মহল।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন ও জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। বাকি তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আব্দুর রহমান, কিন্তু লড়াই জমে উঠেছে মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।

রাজশাহী-১ আসনের তানোর উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন। তানোর উপজেলার আয়তন ২৯৫ দশমিক ৪০ বর্গ কিলোমিটার এবং গোদাগাড়ী উপজেলার আয়তন ৪৭৫ দশমিক ২৬ বর্গ কিলোমিটার।মোট আয়তন  ৭৭০ দশমিক ৬৬ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক দিয়ে সংসদীয় আসন হিসেবে দেশের ৮ম বড় এলাকা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৯টি। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার প্রায় ৮০ হাজার ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারগণ আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, শরীফ উদ্দীন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক সামরিক সচিব ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। মুজিবুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং ১৯৮৬ সালে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ১৯৯১ সালে মুজিবুর রহমান প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার ও ১৯৯৬ সালে  ২৭ হাজার ৬০০ ভোট পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে আইনি জটিলতায় ব্যারিস্টার আমিনুল হক অংশ নিতে পারেননি। তার পরিবর্তে অংশ নেন তার ভাই (সাবেক) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড, এম এনামুল হক। নির্বাচনে বির্তকিত ফলাফল ঘোষণায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও তেমন কোনো প্রচারণা ছাড়াই বিএনপির প্রার্থী এম এনামুল হক পেয়েছিলেন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৫০ ভোট। এই ভোট প্রাপ্তি বলে দেয় এখানে বিএনপি-জামাতের মধ্যে ভোটের ফারাক কতো।

স্থানীয়দের মতে এবারের লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মালম্বী  ভোটারগণ, কারণ তারা মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বাকিরা বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে তারা যেদিকে ঝুঁকবে সেই দিকের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, যেহেতু বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল, তাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত  ভোটররা হয়তো সেদিকেই ঝুঁকতে পারেন। কারণ আদর্শিক জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত পুরোপুরি বিপরীতমুখী। তাই তাদের প্রতি আওয়ামী লীগের সহানুভূতি কমই থাকবে। আবার যেহেতু ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, তাই নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ বিবেচ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি আওয়ামী লীগ সমর্থক  ভোটারদের কাছে।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত আওয়ামী লীগের বড় একটি ভোট ব্যাংক সব সময়ই ছিল। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুটা হয়তো কমেছে। আগামী নির্বাচনে দলটির ভোটার-সমর্থকেরা হয়তো ভোট দিতে যাবেন এবং আসন ভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। যাঁদের ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে, যাঁদের সম্পদ রয়েছে, কেউ কেউ চাকরি ও কর্ম টেকাতে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করবেন, যেন আগামীতে টিকে থাকতে পারেন।এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পচ্ছন্দ বিএনপি। কারণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেভাবেই নির্বাচন হোক বিএনপি একক সংখ্যগরিষ্ঠতা পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আবার মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন বিজয়ী হলে তার মন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।এবিবেচনায় সরকার গঠন করবে বিএনপি, এখানকার এমপি হবেন মন্ত্রী,তাহলে অহেতুক বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়ে ভোট নস্ট ও সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি করার মতো ঝুঁকি নিবেন না আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারগণ।

তানোরের বাধাইড় ইউপি এলাকার বাসিন্দা আসগর আলি বলেন, এবার মনে হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। তবে জয় নির্ধারিত হতে পারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মালম্বীদের ভোটে। আর যেহুতু তারা আওয়ামী সমর্থক সেহেতু ভোটে আওয়ামী লীগ না থাকায় তারা বিএনপিকে ভোট দিবে।সেই ক্ষেত্রে এখানে বিএনপির বিজয়ী হবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে তাদের ভোট পেতে তাঁদের কাছে দুই দলের লোকজনই যাচ্ছেন।

এছাড়াও প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক পরিবারের অবদানের জন্য রাজশাহী-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির প্রভাব ও শক্তিশালী রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক