একদিকে দাঁড়ি পাল্লার শক্তিশালী উপস্থিতি, অন্যদিক নৌকার পাশাপাশি হাতুড়ির ভোট ব্যাংক, সবমিলিয়ে বেশ খানিকটা জটিলতায় রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। অন্য নির্বাচনি এলাকার মতো কেবল আওয়ামী লীগ নয়, ওয়ার্কার্স পার্টির ভোটারদের পেছনেও ছুটতে হচ্ছে তাদের। ফলে জয়-পরাজয় প্রশ্নে এখানে কার পাল্লা ভারী তা বলা মুশকিল। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, নৌকা আর হাতুড়ির ভোট যেদিকে যাবে তিনিই হাসবেন বিজয়ের হাসি।
জানা গেছে,আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জমে উঠেছে দ্বি-মাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই। কৃষিনির্ভর বরেন্দ্র অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনটি রাজশাহী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা, যা জাতীয় সংসদের ৫২ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে শুরু থেকেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসন। এই আসনে এবারের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন চারজন প্রার্থী। প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক ভিত্তি ও ভোটব্যাংক, যা পুরো নির্বাচনী সমীকরণকে করে তুলেছে জটিল ও অনিশ্চিত। মূলত রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির ভোটই ভোটের সমীকরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। ফলে এদুটি দলের ভোটই হতে পারে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে জয়-পরাজয়ে 'ফ্যাক্টর'। রাজশাহী-১ আসনে অন্তর্ভুক্ত তানোর উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন। তানোর উপজেলার আয়তন ২৯৫ দশমিক ৪০ বর্গ কিলোমিটার এবং গোদাগাড়ী উপজেলার আয়তন ৪৭৫ দশমিক ২৬ বর্গ কিলোমিটার।মোট আয়তন দাঁড়ায় ৭৭০ দশমিক ৬৬ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক দিয়ে সংসদীয় আসন হিসেবে দেশের ৮ম বড় এলাকা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৯টি। বিপুল ভোটারসংখ্যা ও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার কারণে এখানে ভোটের হিসাব বরাবরই জটিল এবং ফলাফল পূর্বানুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। ধানের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক দুরদর্শিতা,পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য এই অঞ্চলে তাঁকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।শরিফ উদ্দিনের বড় ভাই ছিলেন রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সাংসদ এবং ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তাঁর এক ভাই ড, এনামুল হক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এবং এক ভাই ড, এম আসাদুজ্জামান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই পরিবারের দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে তানোর ও গোদাগাড়ীসহ দেশের মানুষ তাঁদের 'রত্নগর্ভা পরিবার' হিসেবে সম্মান করে আসছেন।নির্বাচনী মাঠে এই সামাজিক পুঁজি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী,দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকেও এই আসনের অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহমান (ঈগল প্রতীক) নিয়ে এবং গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী শাহজাহান (ট্রাক প্রতীক) নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও এই দুই প্রার্থীর সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবে ভোট ভাগাভাগির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা খুব একটা জোরালো মনে হচ্ছে না।
এদিকে নির্বাচনী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিএনপি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ে কমিটি গঠন করে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটি এবার আরও সংগঠিত ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নিজে মাঠে নেমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সংগঠিত ভোটব্যাংক আরও সংহত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে সবচেয়ে বড় ও নির্ধারক ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির ভোটব্যাংক। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সরাসরি কোনো প্রার্থী না থাকলেও তানোর ও গোদাগাড়ীতে দলটির একটি উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দলের ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থীই এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে না হলেও নীরবে এই ভোট ব্যাংককে নিজেদের দিকে টানার কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের একটা অংশের ভোটার রয়েছেন, যারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করেন বা কারও স্বজন সরকারি চাকরি করেন, তাঁরা তাঁদের আসনে যে দলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, তারা সেদিকেই ঝুঁকবেন তাদের ব্যবসা ও চাকরি রক্ষায়। স্থানীয়ভাবে নিজস্ব সম্পদ রক্ষা ও মামলা এড়ানোর ভাবনা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অনেক ভোটার। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজস্ব নিরাপত্তা সর্বাধিক বিবেচ্য বিষয় হবে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে তাঁরা প্রভাবশালী প্রার্থীর দিকেই ঝুঁকবেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকগণ বলছে,তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলের সাধারণ সমর্থকদের একটা বড় অংশই দলটির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।তবে কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল, তাই আওয়ামী লীগের ভোটররা হয়তো সেদিকেই ঝুঁকতে পারেন। আদর্শিক জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ-জামায়াত পুরোপুরি বিপরীতমুখী। তাই তাদের প্রতি আওয়ামী লীগের সহানুভূতি কমই থাকবে। আবার যেহেতু ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, তাই নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ বিবেচ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একাধিক জৈষ্ঠ নেতা বলেন,এবার তাদের প্রথম পচ্ছন্দ বিএনপি। কারণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেভাবেই নির্বাচন হোক বিএনপি একক সংখ্যগরিষ্ঠতা পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আবার মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন বিজয়ী হলে তার মন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।এবিবেচনায় সরকার গঠন করবে বিএনপি, এখানকার এমপি হবেন মন্ত্রি ,তাহলে অহেতুক বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়ে ভোট নস্ট ও সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি করার মতো ঝুঁকি নিবেন না আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী-সমর্থকগণ। বিগত ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই আসনে জয়ী হন। তিনি এবারও প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দিনের বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এই আসনে একাধিকবার এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন।তিনি ছিলেন অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব। এই আসনে দৃশ্যমান যে উন্নয়ন হয়েছে তার প্রায় সবগুলোয় তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে।
একইসঙ্গে তার উন্নয়নের সঙ্গে জামায়াতের সাবেক এমপির উন্নয়নের তুলনা করছে ভোটারগণ।যেখানে যোজন যোজন দুরুত্বে এগিয়ে রয়েছেন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক তথা বিএনপি।
জানা গেছে,আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জমে উঠেছে দ্বি-মাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই। কৃষিনির্ভর বরেন্দ্র অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনটি রাজশাহী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা, যা জাতীয় সংসদের ৫২ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে শুরু থেকেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসন। এই আসনে এবারের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন চারজন প্রার্থী। প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক ভিত্তি ও ভোটব্যাংক, যা পুরো নির্বাচনী সমীকরণকে করে তুলেছে জটিল ও অনিশ্চিত। মূলত রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির ভোটই ভোটের সমীকরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। ফলে এদুটি দলের ভোটই হতে পারে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে জয়-পরাজয়ে 'ফ্যাক্টর'। রাজশাহী-১ আসনে অন্তর্ভুক্ত তানোর উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী উপজেলায় রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন। তানোর উপজেলার আয়তন ২৯৫ দশমিক ৪০ বর্গ কিলোমিটার এবং গোদাগাড়ী উপজেলার আয়তন ৪৭৫ দশমিক ২৬ বর্গ কিলোমিটার।মোট আয়তন দাঁড়ায় ৭৭০ দশমিক ৬৬ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক দিয়ে সংসদীয় আসন হিসেবে দেশের ৮ম বড় এলাকা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৯টি। বিপুল ভোটারসংখ্যা ও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার কারণে এখানে ভোটের হিসাব বরাবরই জটিল এবং ফলাফল পূর্বানুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। ধানের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক দুরদর্শিতা,পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য এই অঞ্চলে তাঁকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।শরিফ উদ্দিনের বড় ভাই ছিলেন রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সাংসদ এবং ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তাঁর এক ভাই ড, এনামুল হক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এবং এক ভাই ড, এম আসাদুজ্জামান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই পরিবারের দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে তানোর ও গোদাগাড়ীসহ দেশের মানুষ তাঁদের 'রত্নগর্ভা পরিবার' হিসেবে সম্মান করে আসছেন।নির্বাচনী মাঠে এই সামাজিক পুঁজি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী,দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকেও এই আসনের অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহমান (ঈগল প্রতীক) নিয়ে এবং গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী শাহজাহান (ট্রাক প্রতীক) নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও এই দুই প্রার্থীর সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবে ভোট ভাগাভাগির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা খুব একটা জোরালো মনে হচ্ছে না।
এদিকে নির্বাচনী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিএনপি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ে কমিটি গঠন করে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটি এবার আরও সংগঠিত ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নিজে মাঠে নেমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সংগঠিত ভোটব্যাংক আরও সংহত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে সবচেয়ে বড় ও নির্ধারক ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির ভোটব্যাংক। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সরাসরি কোনো প্রার্থী না থাকলেও তানোর ও গোদাগাড়ীতে দলটির একটি উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দলের ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থীই এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে না হলেও নীরবে এই ভোট ব্যাংককে নিজেদের দিকে টানার কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের একটা অংশের ভোটার রয়েছেন, যারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করেন বা কারও স্বজন সরকারি চাকরি করেন, তাঁরা তাঁদের আসনে যে দলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, তারা সেদিকেই ঝুঁকবেন তাদের ব্যবসা ও চাকরি রক্ষায়। স্থানীয়ভাবে নিজস্ব সম্পদ রক্ষা ও মামলা এড়ানোর ভাবনা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অনেক ভোটার। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজস্ব নিরাপত্তা সর্বাধিক বিবেচ্য বিষয় হবে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে তাঁরা প্রভাবশালী প্রার্থীর দিকেই ঝুঁকবেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকগণ বলছে,তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলের সাধারণ সমর্থকদের একটা বড় অংশই দলটির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।তবে কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল, তাই আওয়ামী লীগের ভোটররা হয়তো সেদিকেই ঝুঁকতে পারেন। আদর্শিক জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ-জামায়াত পুরোপুরি বিপরীতমুখী। তাই তাদের প্রতি আওয়ামী লীগের সহানুভূতি কমই থাকবে। আবার যেহেতু ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, তাই নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ বিবেচ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একাধিক জৈষ্ঠ নেতা বলেন,এবার তাদের প্রথম পচ্ছন্দ বিএনপি। কারণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেভাবেই নির্বাচন হোক বিএনপি একক সংখ্যগরিষ্ঠতা পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আবার মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন বিজয়ী হলে তার মন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।এবিবেচনায় সরকার গঠন করবে বিএনপি, এখানকার এমপি হবেন মন্ত্রি ,তাহলে অহেতুক বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়ে ভোট নস্ট ও সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি করার মতো ঝুঁকি নিবেন না আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী-সমর্থকগণ। বিগত ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই আসনে জয়ী হন। তিনি এবারও প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দিনের বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এই আসনে একাধিকবার এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন।তিনি ছিলেন অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব। এই আসনে দৃশ্যমান যে উন্নয়ন হয়েছে তার প্রায় সবগুলোয় তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে।
একইসঙ্গে তার উন্নয়নের সঙ্গে জামায়াতের সাবেক এমপির উন্নয়নের তুলনা করছে ভোটারগণ।যেখানে যোজন যোজন দুরুত্বে এগিয়ে রয়েছেন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক তথা বিএনপি।
আলিফ হোসেন