ঢাকা , সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাসিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায় দলের নেতা-কর্মীরা মহানগর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে চাঁদা বন্ধের দাবীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ রাসিকের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালিত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একুশ আমাদের পাথেয়, বিভাগীয় কমিশনার নগরীতে ট্যাপেন্টাডল-সহ মাদক কারবারী গ্রেফতার শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার রামুতে হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় দুই ভাই মাদারীপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ কোমরে রশি নিয়ে বাবার জানাজায় ছাত্রদল নেতা সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ভরদুপুরে গুলি করে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই চাঁদাবাজি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা আইজিপির ১২ মার্চ,বসছে সংসদ নির্বাচিত হবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নিয়ামতপুরে বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার- ৩ প্রবীণ নেতাকে সাহায্য করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আসাদ নিয়ামতপুরে ব্যাডেন পাওয়েলের জন্মবার্ষিকী পালন নোয়াখালীতে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই ​রাজশাহীতে যুবদলের ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ: ত্যাগীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন অভিযোগ শীতে আসে গরম পড়লেই চলে যায় পাখির কলকাকলিতে মুখর রাণীশংকৈলে রামরায় দিঘী শান্তির সিংড়া গড়তে সকলের সহযোগিতা চাইলেন নবনির্বাচিত এমপি অধ্যক্ষ আনু

ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা

  • আপলোড সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:৪২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:৪২ অপরাহ্ন
ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ও নৃশংস অভিযানে দেশজুড়ে কমপক্ষে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যদিও ইরান সরকার এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫,০০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪,৭১৬ জন বিক্ষোভকারী, ২০৩ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ৪৩ জন শিশু এবং ৪০ জন এমন বেসামরিক নাগরিক, যারা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি, বলে দাবি সংস্থাটির।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক ইরানি সার্জনের প্রত্যক্ষ বর্ণনায় উঠে এসেছে, ৮ জানুয়ারি রাতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আটটার পর তেহরানের রাস্তায় একযোগে গুলির শব্দ, চিৎকার ও বিস্ফোরণ শোনা যেতে থাকে।

তিনি জানান, এর আগে হাসপাতালে আসা আহতদের বেশিরভাগই ছুরি বা ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে আহত হলেও, ওই রাতের পর থেকে রোগীরা আসতে থাকেন সরাসরি যুদ্ধাস্ত্রের গুলিতে আহত হয়ে। গুলিগুলো শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, যা স্পষ্টতই সতর্কতামূলক নয় বরং প্রাণঘাতী উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়েছিল।

ওই সার্জনের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালগুলো গণহতাহতের এলাকায় পরিণত হয়। জরুরি অস্ত্রোপচারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, কিন্তু পর্যাপ্ত সার্জন, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রক্তের সরবরাহ ছিল না।

যে হাসপাতালে সাধারণত রাতে দুটি জরুরি অস্ত্রোপচার হয়, সেখানে ওই রাতে সন্ধ্যা ৯টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে অন্তত ১৮টি অস্ত্রোপচার করতে হয়। অনেক রোগীর অস্ত্রোপচার পরদিন সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে।

চিকিৎসক আরও জানান, অপারেশন থিয়েটার থেকেই তিনি DShK মেশিনগানের মতো ভারী অস্ত্রের শব্দ শুনেছেন, যা সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পরে শহরের রাস্তায় পিকআপ ট্রাকের পেছনে এসব ভারী অস্ত্র বসানো অবস্থায় চলাচল করতেও দেখেছেন তিনি।

তার ভাষায়, এটি কোনো পুলিশি তৎপরতা ছিল না। মনে হচ্ছিল বেসামরিক মানুষের ওপর যুদ্ধকালীন নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চিকিৎসক জানান, অনেক আহত ব্যক্তি গ্রেপ্তার বা নজরদারির ভয়ে হাসপাতালে আসেননি। কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে, এই আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল।

ফলে অনেকেই গোপনে ফোনে চিকিৎসকের সহায়তা চান। আহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত ছিলেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দরকার ছিল না; রাস্তায় উপস্থিত থাকলেই যথেষ্ট ছিল।

সরকারি কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব না থাকলেও, হাসপাতালের শয্যা ধারণক্ষমতা ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় নিয়ে ওই সার্জনের ধারণা, শুধু তেহরানেই এক রাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে, আর দেশজুড়ে এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি সরকারি পরিসংখ্যান নয়, বরং চিকিৎসা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা অনুমান।

ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের কারণে সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। তবে চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যা ঘটেছে তা সরকারিভাবে স্বীকার করা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ।

দ্য গার্ডিয়ান ও ইরানের মানবাধিকার কেন্দ্রের কাছে দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সাম্প্রতিক এই দমন-পীড়ন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাসিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায় দলের নেতা-কর্মীরা মহানগর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে

রাসিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায় দলের নেতা-কর্মীরা মহানগর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে