ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুঠিয়ায় ইউএনও'র নাম ভাঙ্গিয়ে আমবাগান কেটে চলছে পুকুর খনন, মাটি যাচ্ছে দোয়েল ইটভাটায় মোহনপুরে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনে বাঁধা: নো-ম্যানস ল্যান্ডে তাদের করুণ দিনযাপন নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ রিভার সিটি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নগরীর চন্দ্রিমায় চিকিৎসকের বাড়ির কেয়ারটেকার গ্রেফতার, ২ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে উদ্যোগ, গাইডলাইন প্রণয়নের পথে সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা দেশ প্রেমিক ও রাষ্ট্রনায়ক...এমপি নয়ন বিয়েবাড়িতে আরেক পিস রোস্ট চাওয়ায় মারামারি, আহত ৩ গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা লালমনিরহাটের তিন সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবি লক্ষ্মীপুর হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে ধর্ষণ, ওয়ার্ডবয় আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ফের উত্তপ্ত মণিপুর! অবাধে গুলিবর্ষণ, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু কুকি সম্প্রদায়ের ৩ জনের রাজশাহীতে চরবাসীর বিক্ষোভ খেয়াঘাটের ইজারা বাতিলের দাবি ঈদের পর দুর্গাপুরে বেড়েছে জ্বর ও ডায়রিয়া রোগী, সংকটে হাসপাতাল

ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা

  • আপলোড সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:৪২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:৪২ অপরাহ্ন
ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ও নৃশংস অভিযানে দেশজুড়ে কমপক্ষে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যদিও ইরান সরকার এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫,০০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪,৭১৬ জন বিক্ষোভকারী, ২০৩ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ৪৩ জন শিশু এবং ৪০ জন এমন বেসামরিক নাগরিক, যারা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি, বলে দাবি সংস্থাটির।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক ইরানি সার্জনের প্রত্যক্ষ বর্ণনায় উঠে এসেছে, ৮ জানুয়ারি রাতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আটটার পর তেহরানের রাস্তায় একযোগে গুলির শব্দ, চিৎকার ও বিস্ফোরণ শোনা যেতে থাকে।

তিনি জানান, এর আগে হাসপাতালে আসা আহতদের বেশিরভাগই ছুরি বা ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে আহত হলেও, ওই রাতের পর থেকে রোগীরা আসতে থাকেন সরাসরি যুদ্ধাস্ত্রের গুলিতে আহত হয়ে। গুলিগুলো শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, যা স্পষ্টতই সতর্কতামূলক নয় বরং প্রাণঘাতী উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়েছিল।

ওই সার্জনের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালগুলো গণহতাহতের এলাকায় পরিণত হয়। জরুরি অস্ত্রোপচারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, কিন্তু পর্যাপ্ত সার্জন, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রক্তের সরবরাহ ছিল না।

যে হাসপাতালে সাধারণত রাতে দুটি জরুরি অস্ত্রোপচার হয়, সেখানে ওই রাতে সন্ধ্যা ৯টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে অন্তত ১৮টি অস্ত্রোপচার করতে হয়। অনেক রোগীর অস্ত্রোপচার পরদিন সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে।

চিকিৎসক আরও জানান, অপারেশন থিয়েটার থেকেই তিনি DShK মেশিনগানের মতো ভারী অস্ত্রের শব্দ শুনেছেন, যা সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পরে শহরের রাস্তায় পিকআপ ট্রাকের পেছনে এসব ভারী অস্ত্র বসানো অবস্থায় চলাচল করতেও দেখেছেন তিনি।

তার ভাষায়, এটি কোনো পুলিশি তৎপরতা ছিল না। মনে হচ্ছিল বেসামরিক মানুষের ওপর যুদ্ধকালীন নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চিকিৎসক জানান, অনেক আহত ব্যক্তি গ্রেপ্তার বা নজরদারির ভয়ে হাসপাতালে আসেননি। কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে, এই আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল।

ফলে অনেকেই গোপনে ফোনে চিকিৎসকের সহায়তা চান। আহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত ছিলেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দরকার ছিল না; রাস্তায় উপস্থিত থাকলেই যথেষ্ট ছিল।

সরকারি কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব না থাকলেও, হাসপাতালের শয্যা ধারণক্ষমতা ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় নিয়ে ওই সার্জনের ধারণা, শুধু তেহরানেই এক রাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে, আর দেশজুড়ে এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি সরকারি পরিসংখ্যান নয়, বরং চিকিৎসা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা অনুমান।

ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের কারণে সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। তবে চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যা ঘটেছে তা সরকারিভাবে স্বীকার করা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ।

দ্য গার্ডিয়ান ও ইরানের মানবাধিকার কেন্দ্রের কাছে দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সাম্প্রতিক এই দমন-পীড়ন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীর চন্দ্রিমায় চিকিৎসকের বাড়ির কেয়ারটেকার গ্রেফতার, ২ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার

নগরীর চন্দ্রিমায় চিকিৎসকের বাড়ির কেয়ারটেকার গ্রেফতার, ২ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার