ঢাকা , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের যাকাত বিতরণ, অসহায়দের পাশে মানবতার হাত রাণীশংকৈলে পাটনার প্রকল্পের ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টশন সিনিয়রদের পেছনে ফেলে রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ধান রোপণের সময় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি নগরীর বুধপাড়ায় গাঁজা-সহ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার রাসিকের নতুন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের দায়িত্ব গ্রহণ, মাজার জিয়ারত হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক নগরীর নওদাপাড়ায় বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার রাজশাহীতে হারানো ৪১ মোবাইল ফোন মালিকদের ফেরত দিল পুলিশ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র সাধারণ নির্দেশনা গোদাগাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর রাসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন শহিদ জিয়ার দেখানো পথে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী, ফেনসিডিল ও মদ জব্দ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করল ইরান ব্যায়াম হোক মজার ছলে নোয়াখালীতে গৃহবধূ হত্যা: স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেপ্তার

ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা

  • আপলোড সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:৪২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:৪২ অপরাহ্ন
ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হাজারের বেশি নিহতের আশঙ্কা
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ও নৃশংস অভিযানে দেশজুড়ে কমপক্ষে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যদিও ইরান সরকার এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫,০০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪,৭১৬ জন বিক্ষোভকারী, ২০৩ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ৪৩ জন শিশু এবং ৪০ জন এমন বেসামরিক নাগরিক, যারা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি, বলে দাবি সংস্থাটির।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক ইরানি সার্জনের প্রত্যক্ষ বর্ণনায় উঠে এসেছে, ৮ জানুয়ারি রাতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আটটার পর তেহরানের রাস্তায় একযোগে গুলির শব্দ, চিৎকার ও বিস্ফোরণ শোনা যেতে থাকে।

তিনি জানান, এর আগে হাসপাতালে আসা আহতদের বেশিরভাগই ছুরি বা ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে আহত হলেও, ওই রাতের পর থেকে রোগীরা আসতে থাকেন সরাসরি যুদ্ধাস্ত্রের গুলিতে আহত হয়ে। গুলিগুলো শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, যা স্পষ্টতই সতর্কতামূলক নয় বরং প্রাণঘাতী উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়েছিল।

ওই সার্জনের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালগুলো গণহতাহতের এলাকায় পরিণত হয়। জরুরি অস্ত্রোপচারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, কিন্তু পর্যাপ্ত সার্জন, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রক্তের সরবরাহ ছিল না।

যে হাসপাতালে সাধারণত রাতে দুটি জরুরি অস্ত্রোপচার হয়, সেখানে ওই রাতে সন্ধ্যা ৯টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে অন্তত ১৮টি অস্ত্রোপচার করতে হয়। অনেক রোগীর অস্ত্রোপচার পরদিন সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে।

চিকিৎসক আরও জানান, অপারেশন থিয়েটার থেকেই তিনি DShK মেশিনগানের মতো ভারী অস্ত্রের শব্দ শুনেছেন, যা সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পরে শহরের রাস্তায় পিকআপ ট্রাকের পেছনে এসব ভারী অস্ত্র বসানো অবস্থায় চলাচল করতেও দেখেছেন তিনি।

তার ভাষায়, এটি কোনো পুলিশি তৎপরতা ছিল না। মনে হচ্ছিল বেসামরিক মানুষের ওপর যুদ্ধকালীন নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চিকিৎসক জানান, অনেক আহত ব্যক্তি গ্রেপ্তার বা নজরদারির ভয়ে হাসপাতালে আসেননি। কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে, এই আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল।

ফলে অনেকেই গোপনে ফোনে চিকিৎসকের সহায়তা চান। আহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত ছিলেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দরকার ছিল না; রাস্তায় উপস্থিত থাকলেই যথেষ্ট ছিল।

সরকারি কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব না থাকলেও, হাসপাতালের শয্যা ধারণক্ষমতা ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় নিয়ে ওই সার্জনের ধারণা, শুধু তেহরানেই এক রাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে, আর দেশজুড়ে এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি সরকারি পরিসংখ্যান নয়, বরং চিকিৎসা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা অনুমান।

ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের কারণে সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। তবে চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যা ঘটেছে তা সরকারিভাবে স্বীকার করা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ।

দ্য গার্ডিয়ান ও ইরানের মানবাধিকার কেন্দ্রের কাছে দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সাম্প্রতিক এই দমন-পীড়ন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক