ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য, বিশ্বে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান রাজশাহীতে ৬৬ হাজার ৩৯৫ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা মহানগরীতে পুলিশের অভিযানে আটক ৩১ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী সিটি ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত তানোরের উদায়ন ক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি রন্জু সম্পাদক সোহেল পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী নগরীর বোয়ালিয়ায় ইসকাফ সিরাপসহ মাদক কারবারি সুইট গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল: রাজশাহীতে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সোহাগ আলী গ্রেপ্তার বুধপাড়া আলিম মাদ্রাসার নতুন ৪র্থ তলা ভবনের উদ্বোধন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃক্ষরোপণ সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ, রাসিক প্রশাসককে বাজুসের কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা সম্পন্ন পবায় বিপুল পরিমান এ্যালকোহল ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুইজন গ্রেফতার দুই দিনের সফরে আগামীকাল রাজশাহী আসছেন ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীতে বিপুল পরিমান ঊঝশঁভ ও ইয়াবা সহ মাদক কারবারী গ্রেফতার ৩ রাজশাহীতে ৬৬ হাজার ৩৯৫ শিশুকে দেওয়া হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেশরহাট বণিক সমবায় সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ২০২৬ খোলাবোনা মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া লালপুরে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন লালপুরে ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ

নবী প্রেরণ মানবজাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ

  • আপলোড সময় : ২০-০১-২০২৬ ০১:১৭:০১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০১-২০২৬ ০১:১৭:০১ অপরাহ্ন
নবী প্রেরণ মানবজাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ছবি: সংগৃহীত
এই বিশাল পৃথিবী ও এর বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিজগত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এক বিস্ময়কর শৃঙ্খলা ও নিয়মের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আকাশ, বাতাস, সূর্য, চন্দ্র, রাত ও দিন—সবকিছু একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেছে। সূর্য কখনো তার উদয়াস্তের পথে বিচ্যুত হয় না, সমুদ্র তার সীমা অতিক্রম করে স্থলভাগ গ্রাস করে না, রাত ও দিন নির্ধারিত সময়ে আবির্ভূত হয়। এই সুবিন্যস্ত নিয়ম ইঙ্গিত দেয়—এই বিশ্ব কোনো বিশৃঙ্খল দুর্ঘটনার ফল নয়; বরং এক মহান পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

এই নিয়ম ও শৃঙ্খলা শুধু জড় জগতেই সীমাবদ্ধ নয়; জীবজগতেও তা সমানভাবে কার্যকর। পশুপাখি, কীটপতঙ্গ—প্রত্যেকেই তার নিজস্ব জীবনপ্রণালি অনুসরণ করে চলে। কে কী খাবে, কোথায় বাস করবে, কীভাবে আত্মরক্ষা করবে—এসব বিষয়ে তারা কখনো বিভ্রান্ত হয় না। পাখি জানে কীভাবে বাসা বানাতে হয়, মৌমাছি জানে কীভাবে সুগঠিত মৌচাক তৈরি করতে হয়, মাকড়সা জানে কীভাবে নিখুঁত জাল বুনতে হয়। এসব জ্ঞান তারা কোনো বিদ্যালয়ে গিয়ে শেখেনি, কোনো বই পড়ে আয়ত্ত করেনি। বরং প্রকৃতির ভেতরেই যেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিহিত রয়েছে।

এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করায়—এই নিঃশব্দ, বাকহীন প্রাণীরা কি নিজেরাই এসব শিখে নিয়েছে, নাকি কোনো উচ্চতর শক্তি তাদের পথ দেখিয়েছে? ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর উত্তর সুস্পষ্ট—স্রষ্টাই প্রত্যেক সৃষ্টিকে তার উপযোগী রূপ ও জীবনপদ্ধতি দান করেছেন। অর্থাৎ, সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তাকে তার চলার পথও শিখিয়ে দিয়েছেন। এটাই প্রকৃত হেদায়েত বা পথনির্দেশ।

এই পথনির্দেশ মানুষের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। একটি সদ্যোজাত শিশুর দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। জন্মের পরপরই সে মায়ের বুকের দিকে মুখ ফেরায়, দুধ পান করে, ক্ষুধা পেলে কাঁদে, আর আরাম পেলে হাসে। তাকে কেউ এসব শেখায় না; তবু সে জানে—কীভাবে নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে হয়। এই স্বাভাবিক জ্ঞান ও প্রবৃত্তি প্রমাণ করে যে মানুষের ভেতরেও জন্মগত নির্দেশনা সক্রিয় রয়েছে।

কিন্তু মানুষ শুধু প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করে বাঁচার জন্য সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানুষের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি। মানুষ ভালো-মন্দ উভয় পথেই চলতে পারে। সে চাইলে ন্যায়ের পথে অগ্রসর হতে পারে, আবার চাইলে অন্যায় ও ধ্বংসের পথও বেছে নিতে পারে। এই ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে করেছে সবচেয়ে দায়িত্বশীল এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী। কারণ একটি পশু সীমিত ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু মানুষ তার বুদ্ধি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মুহূর্তেই লক্ষ লক্ষ প্রাণ ধ্বংস করতে সক্ষম।

এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে—মানুষের জন্য শুধু প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি যথেষ্ট নয়। তার প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট জীবনদর্শন, নৈতিক দিকনির্দেশনা ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই জীবনব্যবস্থা কে নির্ধারণ করবে? মানুষ নিজে, নাকি তার স্রষ্টা?

বাস্তব জীবনের একটি সাধারণ উদাহরণ এ ক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক। কোনো যন্ত্র যে তৈরি করে, সেই নির্মাতাই সবচেয়ে ভালো জানে—কীভাবে সেই যন্ত্র ব্যবহার করলে তা সঠিকভাবে কাজ করবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই প্রতিটি যন্ত্রের সঙ্গে একটি ব্যবহারবিধি দেওয়া হয়। সেই বিধি অমান্য করলে যন্ত্র নষ্ট হয়। মানুষের জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন—কোন পথে চললে মানুষ প্রকৃত কল্যাণ লাভ করবে।

এই কারণেই স্রষ্টা মানুষের জন্য নিজস্ব বিধান প্রেরণ করেছেন। এই বিধান কোনো কল্পনাপ্রসূত দর্শন নয়; বরং মানবজীবনের প্রতিটি স্তরকে সামনে রেখে প্রণীত একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। আর এই ব্যবস্থার বাহক হলেন নবীগণ। আসমানি কিতাব মানুষের সামনে জীবনব্যবস্থার মূলনীতি উপস্থাপন করে, আর নবীগণের জীবন সেই নীতির বাস্তব রূপ। তারা কেবল উপদেশদাতা নন; বরং আদর্শ জীবনের জীবন্ত উদাহরণ।

নবীগণের শিক্ষা মানুষের অস্তিত্বের প্রতিটি অঙ্গকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তারা মানুষের চিন্তাকে শুদ্ধ করে, দৃষ্টিকে সংযত করে, বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে, হাতকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়, পা-কে সত্যের পথে অগ্রসর হতে উৎসাহ দেয়। তারা মানুষকে শেখায়—ক্ষমতা পেলে অহংকারী না হতে, দুর্বল পেলে অত্যাচার না করতে, সম্পদ পেলে অপচয় না করতে এবং দারিদ্র্যে পড়লে হতাশ না হতে।

মানুষ জীবনের যে অবস্থানেই থাকুক না কেন—ব্যক্তিগত বা সামাজিক, সুখ বা দুঃখ, ক্ষমতা বা দুর্বলতা, যুদ্ধ বা শান্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সঠিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এই দিকনির্দেশনা মানব-রচিত কোনো তত্ত্ব বা সাময়িক আদর্শ দিতে পারে না। কারণ মানবীয় চিন্তা সীমাবদ্ধ, পরিবর্তনশীল ও স্বার্থনির্ভর। এক যুগে যা ন্যায় বলে বিবেচিত হয়, অন্য যুগে তা অন্যায় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু নবীগণের শিক্ষা সময়, স্থান ও পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে।

এই কারণে নবুওয়্যত শুধু আখেরাতের মুক্তির বার্তা নয়; বরং দুনিয়ার জীবনকে সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও অর্থবহ করার একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ। যেমন খাদ্য শরীরের প্রয়োজন মেটায়, তেমনি নবীগণের শিক্ষা আত্মা ও বিবেকের ক্ষুধা মেটায়। এই শিক্ষা ছাড়া মানুষ বাহ্যিক উন্নতি অর্জন করতে পারে—অট্টালিকা বানাতে পারে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে, ভোগ-বিলাসে মেতে উঠতে পারে; কিন্তু সে নিজের প্রকৃত পরিচয় ও জীবনের উদ্দেশ্য ভুলে যায়।

মানবজাতির প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হলো—নবী প্রেরণ করা ও আসমানি কিতাব নাজিল করা। এই অনুগ্রহ ছাড়া মানুষ দিকহারা যাত্রীর মতো—যার সামনে পথ আছে, কিন্তু দিশা নেই। আর দিশাহীন অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত মানুষকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য, বিশ্বে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান

THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য, বিশ্বে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান