ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক কর্মশালা নগরীর আবাসিক হোটেল-মোটেলের মালিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এই প্রথম দেশের অর্থনীতির আকার ছাড়াল ৫০০ বিলিয়ন ডলার নড়াইলে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে ফাঁস নিলেন রাবি শিক্ষার্থী রাণীশংকৈলে গ্রাম আদালত বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ‘বলিউডের কেউ আমাকে মেসেজ করে না!’ নতুন ছবির প্রচারে ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে বিঁধলেন কঙ্গনা ঢুকতে দেয়নি আমেরিকা, দেশে ফিরতেই বীরের সম্মান পেলেন ‘আফ্রিকার সেরা রেফারি’ ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে কাল, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে যেসব চমক আসরের পর কাজা নামাজ পড়া যাবে কি? ব্যভিচার ও মানহানির মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা হাম উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু ‘অভিনয়ে ফিরতে চাই’, অনেক দিন বড়পর্দা থেকে দূরে এনা রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় যুবকের মৃত্যু ২৮ ঘন্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার ধর্ষণে প্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, যুবক গ্রেফতার নিয়ামতপুরে ২০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে পুলিশের রাতভর অভিযান: ১,৪১৫ পিস ইয়াবাসহ ৫ মাদক কারবারী আটক নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭

ঘাড় 'ফাটানো' আরামদায়ক হলেও মোটেও নিরাপদ নয়

  • আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৫:০৭:২৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৫:০৭:২৪ অপরাহ্ন
ঘাড় 'ফাটানো' আরামদায়ক হলেও মোটেও নিরাপদ নয় ফাইল ফটো
ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে বা চাপ অনুভব করলে অনেকেই অভ্যাসবশত ঘাড় 'ফাটান'- এক ধরনের ‘ক্র্যাক’ শব্দ তুলে মুহূর্তের মধ্যে আরাম পাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার শুধুমাত্র অভ্যাসবশতও এই কাজটি করে থাকেন। স্ট্রেস কমানো হোক বা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার পর জমে থাকা অস্বস্তি - এই অভ্যাস বহু মানুষের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ।

খুব নিরীহ এই অভ্যাস! সাধারণ মনে হলেও কাজটি কি আদৌ নিরাপদ? নাকি এর ফলে স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন ডা. কুণাল সুদ, এমডি অ্যানেস্থেসিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিনে ডাবল বোর্ড-সার্টিফায়েড চিকিৎসক। ১৪ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ঘাড় 'ফাটানো' কতটা বিপজ্জনক হতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে সমস্যা তৈরি হয়।

ঘাড় 'ফাটালে' আসলে শরীরের ভিতরে কী হয়?
ডা. কুণাল সুদের কথায়, “যাঁরা নিয়মিত ঘাড়ে টান বা অস্বস্তি কমাতে পপ বা ক্র্যাক করেন, তাঁদের জন্য আগে বোঝা জরুরি যে, শরীরের ভিতরে সেই সময় ঠিক কী ঘটছে।”

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যে পরিচিত ‘পপ’ বা ‘ক্র্যাক’ শব্দটি শোনা যায়, সেটাই আসল বিপদ নয়। “এই সাময়িক আরাম আসে জয়েন্ট হঠাৎ করে স্ট্রেচ হওয়ার ফলে এবং সিনোভিয়াল ফ্লুইডে থাকা গ্যাস বুদবুদ তৈরি হওয়ার কারণে। এই শব্দটি নিজে কিন্তু ক্ষতিকর নয়,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।

আসল ঝুঁকি কোথায়?
ডা. সুদের মতে, সমস্যার শুরু হয় কতবার এবং কত জোরে ঘাড় নাড়ানো হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে। “যখন বারবার ঘাড়কে তার স্বাভাবিক সীমার বাইরে জোর করে টানা হয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়,” তিনি বলেন।

এই ধরনের অভ্যাসের ফলে ধীরে ধীরে ঘাড়ের লিগামেন্ট ঢিলে হয়ে যেতে পারে এবং সার্ভিক্যাল স্পাইন (সহজ কথায়, 'ঘাড়ের কাছে মেরুদণ্ডের সঙ্গে জয়েন্টের জায়গা' বলে বোঝা যেতে পারে) স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। এর ফল - হঠাৎ কোনও মোচড় বা নড়াচড়ার সময় ঘাড়ে আরও অনিয়ন্ত্রিত গতি তৈরি হওয়া।

কীভাবে বাড়তে পারে আঘাত বা স্ট্রোকের ঝুঁকি?
ঘাড়ের স্থিতিশীলতা কমে গেলে ভিতরে হাড়ের গঠনগুলিও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। ডা. সুদ জানাচ্ছেন, “হঠাৎ বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জোরে ঘাড় নাড়াচাড়া করলে ঘাড়ের ভিতর দিয়ে যাওয়া ভার্টিব্রাল ও ক্যারোটিড ধমনীর উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়তে পারে।”

খুব বিরল হলেও, কিন্তু এই চাপ মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে, এমনটাই সাবধানবানী চিকিৎসকের। “ধমনীর ভিতরের স্তর ছিঁড়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় সার্ভাইকাল আর্টারি ডিসেকশন। এই জায়গায় রক্ত জমে গিয়ে ক্লট তৈরি হতে পারে, যা পরে মস্তিষ্কে পৌঁছে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে স্ট্রোকের কারণও হতে পারে,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তাহলে কি ঘাড় 'ফাটানো' একেবারেই বিপজ্জনক?
ডা. কুণাল সুদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “যাঁরা ঘাড় 'ফাটান', তাঁদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কখনও এমন কিছু হবে না। তবে এই ঝুঁকিটি কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্পষ্ট। সেই কারণেই বারবার ও জোর করে ঘাড়ে চাপ দেওয়া, বিশেষ করে নিজে নিজে, চিকিৎসকরা কখবনই এমনটা সমর্থন করেন না,” বলেন তিনি।

ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে বা টান ধরলে তার জন্য নিরাপদ বিকল্পও রয়েছে। ডা. সুদের পরামর্শ—
হালকা মোবিলিটি এক্সারসাইজ
বসা, চলার ভঙ্গি ঠিক করা
নির্দিষ্ট পেশি শক্ত করার ব্যায়াম
সব চেয়ে ভাল উপায়, প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা
এই সব পদ্ধতি জোর করে ঘাড় 'ফাটানো'র চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

তাঁর শেষ কথা, “পরের বার যখন ঘাড় 'ফাটানো'র তাগিদ অনুভব করবেন, তখন একবার হলেও ভেবে দেখুন, আপনার ঘাড়ের ভিতরে আসলে কী ঘটছে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীর আবাসিক হোটেল-মোটেলের মালিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়  সভা

নগরীর আবাসিক হোটেল-মোটেলের মালিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা