ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুর গড়ালেই ডেস্কে বসে ঝিমুনি কাটাতে টিফিন বাক্সে রাখুন ৫ রকম সুস্বাদু স্ন্যাক্স লটারি পদ্ধতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন, স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি কীভাবে? ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের অজান্তেই কিডনির ক্ষতি করতে পারে শরীরে বাসা বাঁধা অন্য রোগ অনুষ্কাও কি রশ্মিকার পথে হেঁটে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মেহেরপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হরমুজ প্রণালী বন্ধ: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লো ৩ শতাংশের বেশি ২০২৬ বিশ্বকাপের সব ম্যাচ মেক্সিকোতে খেলতে চায় ইরান কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত নগরীতে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজা সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৬ গোদাগাড়ীতে ইফতার ও দোয়া মাহফিল হরমোনের কারসাজিতে চোখের যে ৫ লক্ষণ অবহেলা করলে বড় বিপদ! পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না ইজরায়েল! যুদ্ধের মাঝেই বড় ঘোষণা ট্রাম্পের কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলায় ৪০০ জনের মৃত্যু মাগফিরাতের শেষ সুযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭ জন পরিচ্ছন্নকর্মী নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২৪ নিয়ামতপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, বাড়ি-ঘর-ফসলের ক্ষতি বরিশালে ধর্ষণচেষ্টার পর শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

ঘাড় 'ফাটানো' আরামদায়ক হলেও মোটেও নিরাপদ নয়

  • আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৫:০৭:২৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৫:০৭:২৪ অপরাহ্ন
ঘাড় 'ফাটানো' আরামদায়ক হলেও মোটেও নিরাপদ নয় ফাইল ফটো
ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে বা চাপ অনুভব করলে অনেকেই অভ্যাসবশত ঘাড় 'ফাটান'- এক ধরনের ‘ক্র্যাক’ শব্দ তুলে মুহূর্তের মধ্যে আরাম পাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার শুধুমাত্র অভ্যাসবশতও এই কাজটি করে থাকেন। স্ট্রেস কমানো হোক বা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার পর জমে থাকা অস্বস্তি - এই অভ্যাস বহু মানুষের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ।

খুব নিরীহ এই অভ্যাস! সাধারণ মনে হলেও কাজটি কি আদৌ নিরাপদ? নাকি এর ফলে স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন ডা. কুণাল সুদ, এমডি অ্যানেস্থেসিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিনে ডাবল বোর্ড-সার্টিফায়েড চিকিৎসক। ১৪ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ঘাড় 'ফাটানো' কতটা বিপজ্জনক হতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে সমস্যা তৈরি হয়।

ঘাড় 'ফাটালে' আসলে শরীরের ভিতরে কী হয়?
ডা. কুণাল সুদের কথায়, “যাঁরা নিয়মিত ঘাড়ে টান বা অস্বস্তি কমাতে পপ বা ক্র্যাক করেন, তাঁদের জন্য আগে বোঝা জরুরি যে, শরীরের ভিতরে সেই সময় ঠিক কী ঘটছে।”

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যে পরিচিত ‘পপ’ বা ‘ক্র্যাক’ শব্দটি শোনা যায়, সেটাই আসল বিপদ নয়। “এই সাময়িক আরাম আসে জয়েন্ট হঠাৎ করে স্ট্রেচ হওয়ার ফলে এবং সিনোভিয়াল ফ্লুইডে থাকা গ্যাস বুদবুদ তৈরি হওয়ার কারণে। এই শব্দটি নিজে কিন্তু ক্ষতিকর নয়,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।

আসল ঝুঁকি কোথায়?
ডা. সুদের মতে, সমস্যার শুরু হয় কতবার এবং কত জোরে ঘাড় নাড়ানো হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে। “যখন বারবার ঘাড়কে তার স্বাভাবিক সীমার বাইরে জোর করে টানা হয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়,” তিনি বলেন।

এই ধরনের অভ্যাসের ফলে ধীরে ধীরে ঘাড়ের লিগামেন্ট ঢিলে হয়ে যেতে পারে এবং সার্ভিক্যাল স্পাইন (সহজ কথায়, 'ঘাড়ের কাছে মেরুদণ্ডের সঙ্গে জয়েন্টের জায়গা' বলে বোঝা যেতে পারে) স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। এর ফল - হঠাৎ কোনও মোচড় বা নড়াচড়ার সময় ঘাড়ে আরও অনিয়ন্ত্রিত গতি তৈরি হওয়া।

কীভাবে বাড়তে পারে আঘাত বা স্ট্রোকের ঝুঁকি?
ঘাড়ের স্থিতিশীলতা কমে গেলে ভিতরে হাড়ের গঠনগুলিও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। ডা. সুদ জানাচ্ছেন, “হঠাৎ বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জোরে ঘাড় নাড়াচাড়া করলে ঘাড়ের ভিতর দিয়ে যাওয়া ভার্টিব্রাল ও ক্যারোটিড ধমনীর উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়তে পারে।”

খুব বিরল হলেও, কিন্তু এই চাপ মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে, এমনটাই সাবধানবানী চিকিৎসকের। “ধমনীর ভিতরের স্তর ছিঁড়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় সার্ভাইকাল আর্টারি ডিসেকশন। এই জায়গায় রক্ত জমে গিয়ে ক্লট তৈরি হতে পারে, যা পরে মস্তিষ্কে পৌঁছে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে স্ট্রোকের কারণও হতে পারে,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তাহলে কি ঘাড় 'ফাটানো' একেবারেই বিপজ্জনক?
ডা. কুণাল সুদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “যাঁরা ঘাড় 'ফাটান', তাঁদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই কখনও এমন কিছু হবে না। তবে এই ঝুঁকিটি কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্পষ্ট। সেই কারণেই বারবার ও জোর করে ঘাড়ে চাপ দেওয়া, বিশেষ করে নিজে নিজে, চিকিৎসকরা কখবনই এমনটা সমর্থন করেন না,” বলেন তিনি।

ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে বা টান ধরলে তার জন্য নিরাপদ বিকল্পও রয়েছে। ডা. সুদের পরামর্শ—
হালকা মোবিলিটি এক্সারসাইজ
বসা, চলার ভঙ্গি ঠিক করা
নির্দিষ্ট পেশি শক্ত করার ব্যায়াম
সব চেয়ে ভাল উপায়, প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা
এই সব পদ্ধতি জোর করে ঘাড় 'ফাটানো'র চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

তাঁর শেষ কথা, “পরের বার যখন ঘাড় 'ফাটানো'র তাগিদ অনুভব করবেন, তখন একবার হলেও ভেবে দেখুন, আপনার ঘাড়ের ভিতরে আসলে কী ঘটছে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীতে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজা সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৬

নগরীতে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজা সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৬