ঢাকা , সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাসিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায় দলের নেতা-কর্মীরা মহানগর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে চাঁদা বন্ধের দাবীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ রাসিকের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালিত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একুশ আমাদের পাথেয়, বিভাগীয় কমিশনার নগরীতে ট্যাপেন্টাডল-সহ মাদক কারবারী গ্রেফতার শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার রামুতে হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় দুই ভাই মাদারীপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ কোমরে রশি নিয়ে বাবার জানাজায় ছাত্রদল নেতা সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ভরদুপুরে গুলি করে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই চাঁদাবাজি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা আইজিপির ১২ মার্চ,বসছে সংসদ নির্বাচিত হবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নিয়ামতপুরে বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার- ৩ প্রবীণ নেতাকে সাহায্য করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আসাদ নিয়ামতপুরে ব্যাডেন পাওয়েলের জন্মবার্ষিকী পালন নোয়াখালীতে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই ​রাজশাহীতে যুবদলের ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ: ত্যাগীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন অভিযোগ শীতে আসে গরম পড়লেই চলে যায় পাখির কলকাকলিতে মুখর রাণীশংকৈলে রামরায় দিঘী শান্তির সিংড়া গড়তে সকলের সহযোগিতা চাইলেন নবনির্বাচিত এমপি অধ্যক্ষ আনু

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তানধারণে অনীহা! জনসংখ্যা কমতে পারে এক তৃতীয়াংশ

  • আপলোড সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:১৪:০৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:১৪:০৯ অপরাহ্ন
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তানধারণে অনীহা! জনসংখ্যা কমতে পারে এক তৃতীয়াংশ দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তানধারণে অনীহা! জনসংখ্যা কমতে পারে এক তৃতীয়াংশ
সিউল পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা স্পষ্ট হলেও সবচেয়ে চরম সংকটের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ে না করা ও সন্তান না নেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় এক তৃতীয়াংশে সঙ্কুচিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট প্রজনন হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৭২, যা ২০২২ সালে ছিল ০.৮১। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জন্মহার কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। একটি দেশের স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখতে যেখানে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ২.১, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান হার তার অনেক নিচে।

সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর এক পুরোনো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, দেশটির ইতিহাসে প্রথমবার জনসংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে ২০২০ সালে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান হারে জন্মহার কমতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা ৫ কোটি ২ লক্ষ থেকে নেমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, তীব্র পেশাগত চাপ, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সন্তান লালনপালনের বাড়তি দায়িত্ব তরুণ সমাজকে প্রেম, ডেটিং, বিয়ে ও পরিবার গঠন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী বিয়ে করতে চান না। তাঁদের মধ্যে ৯৩ শতাংশের আশঙ্কা, বিয়ের পর গৃহকর্মের অতিরিক্ত বোঝা তাঁদের কাঁধে এসে পড়বে।

২০২৩ সালের আরেকটি সরকারি সমীক্ষায় দেখা যায়, চাকুরিরতা নারীরা সন্তান লালনপালনকে কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। শহরাঞ্চলে বিশেষ করে তরুণীরা পরিবার পরিকল্পনার চেয়ে পেশাগত উন্নতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনসংখ্যা সংকটের পেছনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও বড় ভূমিকা রাখছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লিঙ্গবৈষম্যের কারণে অল্পবয়সি পুরুষদের মধ্যে নারীবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। পাশাপাশি পারিবারিক কাজ ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পুরুষ ও নারীর মধ্যে বড় ধরনের অসমতা রয়েছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৬০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীদের গড়ে ছয়টি সন্তান ছিল। সত্তরের দশকের শুরুতেও এই সংখ্যা ছিল চার। অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সে সময় সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করে। ১৯৮২ সালের দিকে অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন হার নেমে আসে ২.৪-এ। তবে সাম্প্রতিক দশকে সেই হার দ্রুত তলানিতে ঠেকেছে।

একই সঙ্গে দেশটিতে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, অন্যদিকে সন্তানধারণে অনীহার ফলে কমছে পরিবারের সংখ্যাও। সরকার আশঙ্কা করছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিয়ে ও সন্তানধারণে যুবসমাজকে উৎসাহিত করতে একগুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। সরকারি উদ্যোগের আওতায় কোনও পুরুষ বা নারী বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে ডেটে যেতে চাইলে সেই ডেটের সম্পূর্ণ খরচ বহন করা হচ্ছে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া, রেস্তরাঁয় খাওয়া, সিনেমা দেখা বা একান্ত সময় কাটানোর জন্য যুগলপ্রতি প্রায় ৩৫০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৩১ হাজার টাকা) পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ডেটিংয়ের সময় যদি যুগলের অভিভাবকদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, সেই খরচও আলাদাভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে যুগলদের জন্য থাকছে আরও বড় আর্থিক প্রণোদনা, সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সন্তানধারণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে কোনও দম্পতি সন্তান নেওয়া থেকে বিরত না থাকেন।

তবু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু আর্থিক প্রণোদনা নয়, কর্মসংস্কৃতি, লিঙ্গসমতা এবং পরিবার কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে দক্ষিণ কোরিয়ার এই জনসংখ্যা সংকট দীর্ঘমেয়াদে কাটানো কঠিন হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাসিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায় দলের নেতা-কর্মীরা মহানগর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে

রাসিক মেয়র হিসেবে দেখতে চায় দলের নেতা-কর্মীরা মহানগর বিএনপি নেতা রবিউল আলম মিলুকে