বছর দুয়েক আগে স্থানীয় বাজারের একটি বীজ ভান্ডার থেকে স্বল্প জীবনকালের উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের বীজ কিনেছিলেন কৃষক বিরেন প্রামানিক। জমিতে রোপণ করে ফলনও ভালো পেয়েছিলেন । কিন্তু বিপত্তি দেখা দিলো সেই ধান বিক্রি করতে গিয়ে। কেউ আর কিনতে চায় না। বাধ্য হয়ে সেই ধান চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।
বাজারে চাহিদা না থাকায় নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিরেন প্রামানিকের মতো অনেক কৃষক উফশী জাতের স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
কৃষকেরা বলছেন, স্বল্প জীবনকালের এসব ধানের ফলন 'সন্তোষজনক'। প্রচলিত জাতের ধানের তুলনায় তাড়াতাড়ি কাটা যায় । এতে করে আমন ও বোরো মৌসুমের মাঝখানে বাড়তি অন্য একটি ফসল চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হন তাঁরা। বাজারে চাহিদা না থাকায় স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এসব ধান 'নূন্যতম' পরিমাণে আমদানি না হওয়ায় কিনতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় হতে জানা গেছে, উপজেলায় ব্রি- ৬৫, ৭৫,৮৭,৯৪ ও বিনা-১৭ জাতের উচ্চ ফলনশীল স্বল্প জীবনকালের ধান চাষ করা হয়। এসব জাতের ধান রোপণের ১১০দিন থেকে ১৩০ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায়। যেখানে প্রচলিত জাতের ধান রোপণের ১৪০ দিন পরে কর্তন করা যায়।
উপজেলার ভাবিচা গ্রামের কৃষক গোপাল চন্দ্র প্রামানিক বলেন, আমি গত বছর বোরো মৌসুমে ব্রি- ৬৫ জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে গেলে কেউ কিনতে রাজি হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছিল।
একই গ্রামের কৃষক বিরেন প্রামানিক বলেন, অল্প জমিতে উফশী জাতের সেই ধান রোপণ করে ফলন ভালো হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সামনে মৌসুমে আরও বেশি জমিতে রোপণ করবো। কিন্তু কোথাও বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়েছিলাম।
আরেক কৃষক মিন্টু চন্দ্র বলেন, তিনি কয়েক বছর আগে হিরা-১ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান লাগিয়েছিলেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন।
ধান ব্যবসায়ী সুমন কুমার প্রামানিক বলেন,পাইকারী ক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে 'এক ট্রাক' (৫০০ মণ) অথবা 'এক ট্রাক্টর' (২২০ মণ) হিসেবে ধান কেনেন। এর কম হলে 'খল' পূরণ হয় না, তখন তাঁরা কিনতে চান না। স্বল্প জীবনকালের এসব ধান কৃষকেরা রোপণ করেন কম। তাই অল্প ধান কেনা সম্ভব হয় না।
তানোরের স্বশিক্ষিত কৃষিবিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ স্বল্প জীবনকালের বেশ কিছু জাত উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, কোনো জাতের 'এক ট্রাক' বা 'এক ট্রাক্টর' ধান না হলে ব্যবসায়ীদের 'খল' পূরণ হয় না। তাই এসব জাতের ধান কিনতে চান না।
তিনি আরও বলেন, একই এলাকার সব কৃষক যদি অল্প জমিতেও এসব স্বল্প জীবনকালের ধান রোপণ করে তাহলে বেশি পরিমাণ ধান উৎপাদন হবে। ব্যবসায়ীদের 'খল'ও পূরণ হবে। তখন কৃষকদের এসব ধান বাজারে বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা হবে না।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্প জীবনকালের বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। আমন মৌসুমে ব্রি-৮৭ জাতের ধান স্বর্না-৫ জাতের সম বৈশিষ্ট্যের ধান। যেখানে স্বর্না জাতের ধান রোপণের ১৪০ দিন পরে কর্তন করা যায় সেখানে ব্রি-৮৭ ধান রোপণের ১২০-১২৫ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায়। এক্ষেত্রে কৃষকেরা কার্তিক মাসেই আলু, সরিষা,গমসহ অন্যান্য 'মধ্যবর্তী' ফসল রোপণ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এসব স্বল্প জীবনকালের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণের ক্ষেত্রে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বাজারে চাহিদা না থাকায় নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিরেন প্রামানিকের মতো অনেক কৃষক উফশী জাতের স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
কৃষকেরা বলছেন, স্বল্প জীবনকালের এসব ধানের ফলন 'সন্তোষজনক'। প্রচলিত জাতের ধানের তুলনায় তাড়াতাড়ি কাটা যায় । এতে করে আমন ও বোরো মৌসুমের মাঝখানে বাড়তি অন্য একটি ফসল চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হন তাঁরা। বাজারে চাহিদা না থাকায় স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এসব ধান 'নূন্যতম' পরিমাণে আমদানি না হওয়ায় কিনতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় হতে জানা গেছে, উপজেলায় ব্রি- ৬৫, ৭৫,৮৭,৯৪ ও বিনা-১৭ জাতের উচ্চ ফলনশীল স্বল্প জীবনকালের ধান চাষ করা হয়। এসব জাতের ধান রোপণের ১১০দিন থেকে ১৩০ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায়। যেখানে প্রচলিত জাতের ধান রোপণের ১৪০ দিন পরে কর্তন করা যায়।
উপজেলার ভাবিচা গ্রামের কৃষক গোপাল চন্দ্র প্রামানিক বলেন, আমি গত বছর বোরো মৌসুমে ব্রি- ৬৫ জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে গেলে কেউ কিনতে রাজি হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছিল।
একই গ্রামের কৃষক বিরেন প্রামানিক বলেন, অল্প জমিতে উফশী জাতের সেই ধান রোপণ করে ফলন ভালো হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সামনে মৌসুমে আরও বেশি জমিতে রোপণ করবো। কিন্তু কোথাও বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়েছিলাম।
আরেক কৃষক মিন্টু চন্দ্র বলেন, তিনি কয়েক বছর আগে হিরা-১ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান লাগিয়েছিলেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন।
ধান ব্যবসায়ী সুমন কুমার প্রামানিক বলেন,পাইকারী ক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে 'এক ট্রাক' (৫০০ মণ) অথবা 'এক ট্রাক্টর' (২২০ মণ) হিসেবে ধান কেনেন। এর কম হলে 'খল' পূরণ হয় না, তখন তাঁরা কিনতে চান না। স্বল্প জীবনকালের এসব ধান কৃষকেরা রোপণ করেন কম। তাই অল্প ধান কেনা সম্ভব হয় না।
তানোরের স্বশিক্ষিত কৃষিবিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ স্বল্প জীবনকালের বেশ কিছু জাত উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, কোনো জাতের 'এক ট্রাক' বা 'এক ট্রাক্টর' ধান না হলে ব্যবসায়ীদের 'খল' পূরণ হয় না। তাই এসব জাতের ধান কিনতে চান না।
তিনি আরও বলেন, একই এলাকার সব কৃষক যদি অল্প জমিতেও এসব স্বল্প জীবনকালের ধান রোপণ করে তাহলে বেশি পরিমাণ ধান উৎপাদন হবে। ব্যবসায়ীদের 'খল'ও পূরণ হবে। তখন কৃষকদের এসব ধান বাজারে বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা হবে না।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্প জীবনকালের বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। আমন মৌসুমে ব্রি-৮৭ জাতের ধান স্বর্না-৫ জাতের সম বৈশিষ্ট্যের ধান। যেখানে স্বর্না জাতের ধান রোপণের ১৪০ দিন পরে কর্তন করা যায় সেখানে ব্রি-৮৭ ধান রোপণের ১২০-১২৫ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায়। এক্ষেত্রে কৃষকেরা কার্তিক মাসেই আলু, সরিষা,গমসহ অন্যান্য 'মধ্যবর্তী' ফসল রোপণ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এসব স্বল্প জীবনকালের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণের ক্ষেত্রে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
প্রতিনিধি :