ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ , ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরমাজারদিয়া এলাকায় বিপুল পরিমান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল জব্দ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে: এমপি মিলন গণঅভ্যুত্থানের অর্জন টেকসই করতে জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান পুঠিয়ায় জুলাই শহীদ আলী রায়হানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরা হলো না বাড়ি, নোনো নদীতে বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধ ও কিশোরের,গুরুতর আহত আরও এক কিশোর নিজস্ব জমি ক্রয় উপলক্ষে চতুর্বেদী সার্বজনীন মন্দিরে কীর্তন ও আনন্দ মহোৎসব মান্দায় আর্জেন্টিনার পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরের মৃত্যু শাহমখদুমে মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালতে এক মাসের কারাদণ্ড ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: শিল্পমন্ত্রী লালপুরে খালে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু রাজপাড়া থানায় ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারী গ্রেপ্তার লালপুরে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, আড়াই কেজি গাঁজা উদ্ধার রোমে ফ্লাইট জটিলতায় কাজেম শাহ, আট ঘণ্টা বিমানে অপেক্ষার পর হোটেলে পাবনায় প্রথমবারের মত চালু হলো শিশুদের সফট ইনডোর প্লে-গ্রাউন্ড 'পিএস ডিজনিল্যান্ডে প্লে-গ্রাউন্ড আত্রাইয়ে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-৮ মহানগরীজুড়ে পুলিশের অভিযানে নারীসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ১৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০ পুকুরে শাক ধুতে গিয়ে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু শরীয়তপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে ‘চোর’ সাজিয়ে নির্যাতন, গ্রেফতার ২

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’

  • আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:২২:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:২২:৫৩ অপরাহ্ন
কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে  কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’
গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ- এটি গ্রাম বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ। বর্তমান সময়ে পুকুর ভরা মাছ থাকলেও নেই কেবল গোলাভরা ধান। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কৃষকদের ধান রাখার সেই ‘গোলাঘর’।

শস্য ভান্ডারখ্যাত দেশের বৃহত্তর নওগাঁ জেলা। এই জেলা ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। মান্দা উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্য ধানের গোলা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের কৃষকের ধান রাখার জন্য ধানের গোলা তেমন আর চোখে পড়ে না। আগে কৃষক বলতে গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ও গোলা ভরা ধান এখন প্রবাদ বাক্যে পরিণত হতে চলেছে। অতীতে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা এখন বিলুপ্ত প্রায়।

 আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত ও কৃষকের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। অতীতে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে ধান মজুদ রাখার জন্য বাঁশ, বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি করা হতো গোলাঘর। এর পর তার গায়ে ভিতরে ও বাহিরে বেশ পুরু করে মাটির আস্তারণ লাগানো হত। চোরের ভয়ে এর মুখ বা প্রবেশ পথ রাখা হত বেশ উপরে।এক সময়ে সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করত কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসেব কষে। শুধু তাই নয় কন্যা ও বর পক্ষের বাড়ির ধানের গোলার খবর নিতো উভয় পক্ষের লোকজন। যা এখন শুধু কল্পকাহিনী। গোলাঘর দেখা যেত অনেক দূর থেকে। জানা গেছে, একটি গোলাঘর তৈরি করতে খরচ হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে কৃষাণিরা গোলাঘর লেপে (মাটির আস্তর) প্রস্তুত করে রাখতো। আগের দিনে গোলাঘর দেখে অনুমান করা যেতো এলাকায় কে কত বড় জোতদার। গোলা ঘরের বদলে মানুষ এখন চট ও প্লাস্টিকের বস্তায় ধান ভরে ঘরে মজুদ রাখছেন।গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। এখন আর দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা গোলা নির্মাণ শ্রমিকদের দেখা মেলে না। তারা বাড়িতে এসে বাঁশ দিয়ে তৈরি করত ধানের গোলা। কাজ না থাকায় এখন তারা ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে।এই গোলা ছিল সমভ্রান্ত কৃষক পরিবারের ঐতিহ্য। সে সময় ভাদ্র মাসে কাদা পানিতে ধান শুকাতে না পেরে কৃষকরা ভেজা আউশ ধান রেখে দিতো গোলা ভর্তি করে।

গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হত শক্ত। কিন্তু সম্প্রতি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক কলের লাঙ্গল যেন উল্টে পাল্টে দিয়েছে গ্রাম অঞ্চলের চালচিত্র। গোলায় তোলার মত ধান আর তাদের থাকে না। গোলার পরিবর্তে কৃষকরা ধান রাখা শুরু করেছে আধুনিক গুদামঘরে। নতুন প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ মীরপাড়া গ্রামের ইকবাল জানান, গোলাঘর একটি পুরোনো ঐতিহ্য এটা আমার দাদার স্মৃতি এটা ১০০ বছরের পুরোনো আমার বাবা ব্যবহার করতো তার পর বর্তমানে আমি ব্যবহার কি এই গোলাঘর প্রায় (হারিয়ে) গেছে। একই গ্রামের অপর একজন বয়োবৃদ্ধ (মরিজান ) বলেন, আগে চরায় কাম কইরা জিরাইবার নেইগা গায়ের ধনী মানসে ঘরে কাচারি ঘরে গামছা পাইরা হুয়া থাকছি। এহুন ঠান্ডা নাগাইনা (এসি) কাচারি ঘর বানায়া তালা দিয়া থোয়।বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর।তারা জানান, আগের দিনে ধান রাখার জন্য গোলাঘর ব্যবহার করা হতো। গোলাঘরে ধান রাখায় ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা পেতো। একটি বড় গোলা ঘরে সাধারণত ২-৩শ’ মণ পর্যন্ত ধান রাখা যেতো। উপজেলার কয়েকটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো দেখা মেলে গোলাঘরের। তবে এতে এখন আর ধান রাখা হয় না। গ্রাম-বাংলার এ ঐতিহ্যটুকু শুধুই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন তারা।

 আগামী প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক গুদাম ঘর ধানচাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলা ঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলা থেকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গণঅভ্যুত্থানের অর্জন টেকসই করতে জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান

গণঅভ্যুত্থানের অর্জন টেকসই করতে জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান