ঢাকা , রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাতিয়ায় পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে সেচ্ছায় অব্যাহতি নিলেন রেজাউল করিম ও শামসুল রহমান ভরসা নুন-জলেই! ৫৭ বছরের ভাগ্যশ্রী কী ভাবে গরমে সুস্থ ও সুন্দর রাখেন নিজেকে? রাজশাহী নগরীতে নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার তানোরে চারটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন মুজিবুর রহমান এমপি টিভি দেখার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ গল্প করার কথা বলে অফিসে ডেকে নারীকে ধর্ষণ স্বামীর মুখে দুর্গন্ধ, সহ্য করতে না পেরে থানায় গেলেন স্ত্রী চুরি সন্দেহে পানিতে শিশুদের চুবিয়ে অমানবিক নির্যাতন সীমান্ত এলাকা থেকে ডিজেল উদ্ধার  জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার কবরে পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসকের শ্রদ্ধা নকলের ডেট অব বার্থ ১৯৭২, এবার কোনো ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী বিএনপির রাজনীতি করতে হলে সব সময় জনগণের কল্যানে কাজ করতে হবে ---এমপি রেজাউল ইসলাম ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার, ব্যবসায়ীকে জরিমানা গান বাজালে কবরের জায়গা দেওয়া হবে না: মসজিদ কমিটি রাজশাহীতে শব্দ দূষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জোয়ারে পানিতে লোকালয়ে ভেসে এলো চিত্রা হরিণ রাণীনগরে মাদক মামলায় গ্রেফতার-২ ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার পীরগঞ্জে সরকারের নির্দেশনা না মেনে ডাবল ফুয়েল কার্ড করায় ২৮ জনের কাড বাতিল করা হয়েছে

২৫ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার নয় শিশু সাজিদ, উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে বিপাকে পুলিশ

  • আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৬:১১:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৬:১১:৩৩ অপরাহ্ন
২৫ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার নয় শিশু সাজিদ, উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে বিপাকে পুলিশ ২৫ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার নয় শিশু সাজিদ, উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে বিপাকে পুলিশ
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন অবৈধ সেচ মটরের পরিত্যক্ত বোরিংয়ের মাত্র ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু গর্তে পড়ে গেছে দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদ হোসেন। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গভীরতা প্রায় ৫০ ফুটের ওই গর্তের ভেতর আটকা পড়ে শিশুটি। ঘটনার পর থেকে টানা ২৫ ঘণ্টা চেষ্টার পরও এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান চলছে।

ঘটনার পরপরই রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তানোর ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথমে ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান ৩০/৩৫ ফুট গভীরে চিহ্নিত করা হয়। গর্ত অত্যন্ত সরু হওয়ায় সরাসরি অপারেশন সম্ভব হয়নি। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতভর কয়েক দফায় ক্যামেরা নামালেও ওপর থেকে পড়ে যাওয়া মাটি ও খড়ের স্তর শিশুটির অবস্থান স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে উদ্ধার তৎপরতা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দিদারুল আলম বলেন, গর্তটি অত্যন্ত সরু। খনন ছাড়া উপায় নেই। তাই পাশ থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন চলছে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে চেষ্টা করায় কিছু মাটি ও খড় গর্তে পড়ে গেছে, যা শিশুটির সঠিক অবস্থান নির্ণয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে। শিশুটি জীবিত আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবুও আমরা আশাবাদী এবং উদ্ধারকাজ থামাইনি।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে গর্তের অদূরে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় সাজিদের মা রুনা খাতুনকে। তিনি বিলাপ করে বলতে থাকেন। তুমি কাইড়া নিও না আল্লাহ... আমার ছেলাটা ফিরাইয়া দাও!

তিনি জানান, খড় আনতে দুই সন্তানকে নিয়ে মাঠে গিয়েছিলাম। ও আমার পেছনেই হাঁটছিল। হঠাৎ দেখি ছেলে নাই। পরে গর্তের ভিতর থেকে মা মা করে ডাক দিতেছিল।

এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে স্থানীয় অনেক মানুষও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

বুধবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তারা উদ্ধারকাজের অগ্রগতি দেখে শিশুটির সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

ঘটনার পর রাজশাহীর ডিআইজি, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস পরিচালক, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি), তানোর থানার ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

প্রয়োজনীয় দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইউএনও নাঈমা খান বলেন, ঘটনার পর থেকেই সব বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করছে। স্কেভেটর, মেডিকেল টিমসহ উদ্ধারকাজের সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন এই বিপজ্জনক গর্ত উম্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল সেটিও তদন্ত করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত তমির উদ্দিনের ছেলে কছির উদ্দিন প্রায় এক বছর আগে সেচের জন্য সেমি-ডিপ নলকূপ বসাতে ৩৫ ফুট পর্যন্ত বোরিং করেছিলেন। পানি না পেয়ে কাজটি পরিত্যক্ত করেন। কিন্তু ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের বিপজ্জনক সেই গর্তটি ভরাট না করে উম্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন।

গ্রামবাসীর দাবি,এটা চরম অবহেলা। এই গর্ত না ভরাট করায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এর দায় কছির উদ্দিনকে নিতেই হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৪২ ফুট খনন করেও শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি। তারপরও চলছে অভিযান। সকাল থেকে ঘটনাস্থলে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে পুলিশকে ব্যাপকভাবে পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় জনতা, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চলছে। প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সবাই অপেক্ষা করছে একটি আশার খবরে, সাজিদকে জীবিত উদ্ধারের।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
যানবাহনের হর্নে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

যানবাহনের হর্নে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি