ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেইমার কতক্ষণ খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, ঠেকিয়েছে বিজিবি ক্লাসে ‘বডি স্প্রে’ ব্যবহার, অসুস্থ হয়ে ১৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ইরানকে নিয়ে অবশেষে কিছুটা নরম আমেরিকা! ম্যাচের দু’দিন আগে সে দেশে যেতে পারবেন তারেমিরা নেমার ফিট, তবু স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনিশ্চিত! জানালেন ব্রাজিলের কোচ, বুধবার খেলতে পারবেন না রাফিনহা, কে ঢুকবেন দলে? ভাজাভুজি বাদ, আহার পরিমিত, চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে জল খেয়েও কমছে না মেদ! সমস্যা কী হতে পারে ‘আমি তোমার ইয়ারদোস্ত নই!’ সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে সীমারেখা জরুরি আমিরপুর ফেরিঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাসিক প্রশাসকের নির্দেশক্রমে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল কলকাতায় গুদামের ছাদ ধসে ৩ জনের মৃত্যু সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের আওতায় আসছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার ছাত্রলীগ নেতার প্রতারণায় সোনাসহ সব খুইয়ে পথে বসেছেন নারী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু গাইবান্ধায় ফাস্টফুডের দোকানে ডেকে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ম্যানেজারের ফাস্টফুডের দোকানে ডেকে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ম্যানেজারের রাশমিকার খোলামেলা ভিডিও ভাইরাল! দিনাজপুরে অনলাইন জুয়াচক্রের ৪ ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেপ্তার মাদরাসাছাত্রীকে নাতনি ডেকে ঘরে নিয়ে যান বৃদ্ধ, অতঃপর... অজানা নম্বর থেকে মেসেজ করছে কে? সতর্ক করবে হোয়াট্‌সঅ্যাপ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

সরকার সমর্থক বা বিরোধী, কাউকেই ভয়ে বাঁচতে হবে না, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: তারেক রহমান

  • আপলোড সময় : ১০-১২-২০২৫ ০২:০১:৫৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১২-২০২৫ ০২:০১:৫৬ অপরাহ্ন
সরকার সমর্থক বা বিরোধী, কাউকেই ভয়ে বাঁচতে হবে না, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: তারেক রহমান ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে। কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না, তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী– এমন প্রতিশ্রুতি দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান লিখেছেন, ১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটা কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল। কেউ সেই অন্ধকারকে খুব তীব্রভাবে টের পেয়েছে, কেউ চুপচাপ বয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার পতিত সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। রাতের বেলা দরজায় কড়া নাড়া, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা, আর অসংখ্য পরিবার অপেক্ষা করেছে সেই প্রিয়জনদের জন্য, যারা আর কোনোদিন ঘরে ফিরে আসেনি।

তিনি লিখেছেন, এই বোঝা বিএনপির চেয়ে বেশি আর কেউ বহন করেনি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, মিথ্যা মামলা- সব জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপির ঘরেই।

তারেক রহমান লিখেছেন, অত্যাচারের শিকার শুধু বিএনপি ছিল না; ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, পথচারী, সাধারণ মানুষ- সবাই সেই ভয়ংকর পরিবেশের ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছে, ন্যূনতম মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত মর্যাদা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশের অধিকার এর মত মৌলিক সব বিষয়গুলো ছিল হুমকির মুখে।

তিনি লিখেছেন, এই বছরগুলোতে আমাকেও কথা বলার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে আমার কথা বলার অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়। দেশের কোনো পত্রিকা, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়া যেন আমার কোনো বক্তব্য প্রকাশ না করা হয়, এমন নির্দেশনা জারি ছিল। তবুও এই চাপিয়ে দেয়া নীরবতার মধ্যেও আমি অধিকার, গণতন্ত্র আর মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছি, কারণ সত্যের স্পিরিটকে আদেশ দিয়ে থামানো যায় না।

তারেক রহমান লিখেছেন, এই পুরো অন্ধকার সময়টায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন আমাদের ধৈর্য ও প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস, তাকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা- এসবই পুরো দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন। তবুও তিনি তাঁর গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে কখনো সরে যাননি। তাঁর বিশ্বাস একটাই- অধিকার সবার; ভয় দেখিয়ে দেশকে এগোনো যায় না।

তারেক রহমান লিখেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবেও সেই দুঃসহ সময়ের সাক্ষী। আমার মা, যিনি দেশনেত্রী, নিজ হাতে সহ্য করেছেন তাঁর ছেলেকে জেলে নেওয়া, নির্যাতন করার মানসিক যন্ত্রণা। তাঁর আরেক ছেলেকে আমরা চিরতরে হারিয়েছি। বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের মতো আমাদের পরিবারও ছিল লক্ষ্যবস্তু।

তিনি লিখেছেন, ইতিহাসের একটা সত্য আছে- কষ্ট মানুষকে সবসময় তিক্ত করে না। কখনো কখনো কষ্ট মানুষকে আরও মহান করে তোলে। দেশনেত্রী, আমার মা- এটাই প্রমাণ করেছেন। তিনি শিখিয়েছেন- যে অন্যায় আমরা সহ্য করেছি, তা যেন আর কারও জীবনে না আসে। দেশকে বদলাতে হলে, ঘৃণার পথ নয়- ন্যায়, নৈতিকতা আর ক্ষমাশীলতার পথই ভবিষ্যত গড়ে।

তারেক রহমান লিখেছেন, আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন রাজনীতির চেয়েও বড় কিছু- একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে সবার জন্য মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মত যেখানে হুমকি না হয়ে বরং গণতন্ত্রের অংশ হবে। যেখানে ভিন্ন মতের কারণে কাউকে নিপীড়িত হতে হবে না বা গুম হয়ে যেতে হবে না।

তিনি লিখেছেন, বিএনপি আজ প্রতিশোধের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে, আমরা সমাধানের পথে বিশ্বাসী। আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না, তা সে সরকারের সমর্থক হোক বা বিরোধী।

তারেক রহমান লিখেছেন, ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানবাধিকারই মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার মৌলিক শর্ত। আমরা আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সাগর-রুনি- আর অসংখ্য শহীদের গল্প মনে রাখি, যেন ভবিষ্যতে এমন নিপীড়ন আর দায়মুক্তি আর কখনো ফিরে না আসে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, বিএনপি মারাত্মক ক্ষতি সহ্য করেছে, কিন্তু ভেঙে যায়নি। বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন, আর আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই- যেখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার ও জীবন মূল্যবান; যেখানে মানবাধিকার আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত