জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে ৮ দলের উদ্যোগে এক বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা আগামীতে 'কুরআনের আইন' দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করার দাবি জানান।
কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
সমাবেশের প্রধান বক্তা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। তিনি বলেন, "আগামীর সংসদ হবে কুরআনের সংসদ। আগামীতে সচিবালয়, সংসদ ও বিচারালয় চলবে কুরআন দিয়ে। সবকিছু চলবে কুরআনের আইন দিয়ে।" তিনি ৮ দলের ঐক্যের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণমুক্ত সরকার গঠনের আশা প্রকাশ করেন।
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে তোড়জোড়
সমাবেশের সভাপতি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, "জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের নেতৃত্বে হয়নি। কিন্তু এই সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বলব, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। গণভোট আগে হতে হবে। ষড়যন্ত্র চলছে। যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে।" তিনি ১৮ কোটি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন, যেখানে ৮ দলের একজন একক প্রার্থী থাকবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন, একইদিনে গণভোট ও নির্বাচন আয়োজন করা চ্যালেঞ্জের বিষয়। তিনি ব্যালটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষ নিয়ে ৮ দলের প্রতীকে সিল মারতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে এবং একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানান এবং উভয়কক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়ার দাবি তোলেন।
ঐক্য ও ইসলামী দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় জনগণ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, "দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায়। মানুষ জেগে উঠেছে। চাঁদাবাজদের দেখতে চায় না। ইসলামী দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায়।" তিনি ঐক্য টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন এবং জনগণের কাছে গিয়ে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করার অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরও দেব তবু আগে গণভোট ও জুলাই সনদ কার্যকর করবো। তাছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।" তিনি লড়াই করে আল্লাহর আইন কুরআনের শাসন অবশ্যই কায়েম করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান জনগণের প্রতি জুলাই সনদের পক্ষ নিয়ে গণভোটে 'হ্যাঁ' কে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট