ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘শরীরের বিভিন্ন অংশ বড় করতে বলা হয়েছিল’, নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস ছিল না সমীরার? ২০ বছর বয়সেই অভিনয়ের প্রস্তাব ফেরান, বিজয়ের ছেলে জেসন খেলাধুলার বিকল্প নেই সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় মদ ও যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ ট্রফি, পদক ছাড়াও বিশ্বজয়ীদের বিশেষ আংটি উপহার দেবে ফিফা গানের দৃশ্যে পোশাক সরে যাওয়ার অভিযোগ, বিতর্কে জ্যাকলিন! মোহনপুরে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ১ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে: মির্জা ফখরুল ডানায় মোড়া রূপে নজর কাড়লেন হলিউড অভিনেত্রী জেনডেয়া মৌনী রায়ের ভিডিও ফাঁস! নিজের বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, ক্ষোভে ভাইকে হত্যা প্রাক্তন স্বামীর ছুরিকাঘাতে নারীর মৃত্যু মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা কক্সবাজার সৈকতে শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাত, ৫ মিনিটে যা ঘটলো অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার: অর্থমন্ত্রী শিগগিরই আসছে দুই লম্বা ছুটির সুযোগ নতুন এক দেশে হামলা চালাল ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা ইরানের, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও হুইলচেয়ার বিতরণ

‘মিস ইউনভার্স’ বিজয়ী কে এই ফাতিমা বশ

  • আপলোড সময় : ২১-১১-২০২৫ ০৩:০৮:২৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১১-২০২৫ ০৩:০৮:২৬ অপরাহ্ন
‘মিস ইউনভার্স’ বিজয়ী কে এই ফাতিমা বশ ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে শুরু হয় মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর ফাইনাল পর্ব, যেখানে চূড়ান্ত পর্বে সেরার খেতাব জেতেন ফাতিমা বশ। এরপর থেকেই আলোচনায় নতুন এই মিস ইউনিভার্স। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তাবাস্কো থেকে উঠে আসা মেক্সিকোর প্রথম ‘মিস ইউনিভার্স’ ফাতিমা বশ। মঞ্চে আত্মবিশ্বাস, আভিজাত্য ও দৃঢ়তায় দর্শকদের মুগ্ধ করলেও ফাতিমার পথচলাটি মোটেও সহজ ছিল না। ইতিহাস গড়া প্রথম জাতীয় জয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের উত্তপ্ত বিতর্ক-সব মিলিয়ে তার যাত্রা যেন ছিল এক নাটকীয় রোলার কোস্টার।

কে এই ফাতিমা বশ
মেক্সিকোর তাবাস্কো অঙ্গরাজ্যের সান্তিয়াগো দে তেয়াপায় জন্ম ফাতিমার। তিনি মেক্সিকোতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ইতালির মিলান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টেও থেকেছেন কিছুদিন।

নিজের দুর্বলতাকেই তিনি শক্তিতে পরিণত করেছেন। স্কুলজীবনে ডিসলেক্সিয়া ও এডিএইচডির কারণে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কথা তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে তাবাস্কোতে ‘ফ্লোর ডি ওরো’ খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পথচলা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ইতিহাস গড়েন তাবাস্কো থেকে প্রথম নারী হিসেবে ‘মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো’ খেতাব জিতে। এই জয়ের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন ফাতিমা- ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি; আর টিকটকে ৬ লাখ ৯০ হাজার।

সবাই ফাতিমাকে বিজয়ী হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ‘মিস জালিস্কো’ ইয়োয়ানা গুতিয়েরেস মুকুট জিতবেন; কিন্তু যখন ফাতিমার নাম ঘোষণা করা হয়, দর্শকদের একটি বড় অংশ তীব্র প্রতিবাদ জানান। সরাসরি সম্প্রচারে শোনা যায় দুয়ো ধ্বনি।

মঞ্চে বিজয়ী ঘোষণার পর মাত্র চারজন প্রতিযোগী-লোরেনা লোপেজ, ফের্নান্দা পুমা, এমিরে আরেয়ানো ও এলেনা রোলদান ফাতিমাকে অভিনন্দন জানান।

কীভাবে সামলালেন ফাতিমা
সব প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রাখেন ফাতিমা। তিনি ইউএস উইকলিকে বলেন, ‘যারা সত্যিই আমাকে ভালোবাসেন, তাদের কাছ থেকে আমি কৃতজ্ঞ। লোরেনা, ফের্নান্দা পুমা, এমিরে আর এলেনা-তারা প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে রানি।’

ফাতিমা আরও বলেন, ‘কেউই আমাকে এই মুকুট উপভোগ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। জীবনে এমন পরিস্থিতি এলে বড় হয়েও ভেতরের সেই অসহায় শিশুটির কথা মনে পড়ে যায়; কিন্তু আমরা কাউকে আমাদের মন-মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দিতে পারি না। যদি তুমি মুকুট অর্জন করে থাকো, তার মানে তুমি তার জন্য পরিশ্রম করেছ।’

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স’ ২০২৫ স্যাশ অনুষ্ঠানে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে পড়েন ফাতিমা বশ। আয়োজকদের মধে৵র এক কর্মকর্তা নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিল অভিযোগ তোলেন, ফাতিমা থাইল্যান্ডকে সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে যথেষ্ট প্রচার করেননি। তিনি ফাতিমাকে ‘ডাম্বহেড’ (বোকা) বলেও কটূক্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন প্রতিযোগী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে ডাকতে হয়। পরে সাংবাদিকদের ফাতিমা বলেন, ‘তিনি আমাকে “ডাম্ব” বলেছেন। কারণ, তাঁর সংস্থার সঙ্গে সমস্যা আছে, আর সেটি অন্যায়। কেউ আমাদের চুপ করাতে পারবে না।’

এ ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ‘মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন’। সংস্থার সভাপতি রাউল রোচা নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিলের আচরণকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন।

সব বিতর্কের মাঝেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি ফাতিমা বশ। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের কথা বলতে ভয় পাই না। আমার কণ্ঠ এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী। আমার বলার মতো অনেক কিছু আছে… আমি সাজানো পুতুল নই, যার জামা বদলানো হবে, সাজানো হবে। আমি এখানে এসেছি সব সেই নারী ও মেয়েদের কণ্ঠস্বর হতে, যারা তাদের অধিকার ও স্বপ্নের জন্য লড়াই করছে।’

দাতব্য কাজ: ‘মিস ইউনিভার্স’ প্ল্যাটফর্মের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সমাজসেবা ও মানবকল্যাণ। ফাতিমাও এই ক্ষেত্রেও নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। ৯ বছর ধরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে: পিআইবির মহাপরিচালক

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে: পিআইবির মহাপরিচালক