ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী: পাবায় ৬৬৯ পরিবার অন্তর্ভুক্ত সিংড়ায় বাড়ির গেট ভেঙে ডাকাতি, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! রাণীনগরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদল নেতা উজ্জ্বল বহিস্কার নিয়ামতপুরে ১২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাণীনগরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী গ্রেফতার রাণীনগরে সালিশ ˆবৈঠকে দ্বন্দ্বের জেরে সংর্ঘষ আহত-১৫ রাজশাহী নগরীতে মাদক কারবারী গ্রেফতার ৪ ফারাক্কার প্রভাবে মৃতপ্রায় রাজশাহীর নদ-নদী, জীবিকা হারাচ্ছেন জেলেরা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাজশাহী গড়তে একসাথে কাজের প্রত্যয় রাসিক ও বিডি ক্লিনের রাজশাহীতে স্পোর্টস সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর মতিহারে পদ্মা পাড়ে অবৈধ বাড়ি নির্মাণ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবি অস্বস্তিকর বাস্তবতার কথা জানালেন অভিনেত্রী মৌনি রায় বেস্টফ্রেন্ডের জন্যই বিয়ে ভাঙল মৌনীর! তাঁর ডিভোর্স ঘোষণার পরই দিশাকে নিয়ে টানাটানি নেটপাড়ায় ১৯ বছর বয়সে বিয়ের জন্য পাগল ছিলাম’, বিচ্ছেদের খবরের মাঝেই কী বললেন মৌনী? চিন সফর শেষ, ইরানে এ বার আরও বিধ্বংসী হামলা? প্রস্তুত হচ্ছে বাহিনী চিনের উপহার চিনেই ফেলে দিয়ে বিমানে উঠেছেন ট্রাম্পের সঙ্গীরা? নষ্ট করেছেন ফোনও! নিরাপত্তায় আর কী কড়াকড়ি ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনেই প্রমাণিত হবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না: মির্জা ফখরুল ইয়াবা নিয়ে পালানোর সময় মোটরসাইকেলসহ যুবক আটক নাকবা স্মরণে মার্কিন কংগ্রেসে রাশিদা তালিবের ভাষণ, ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান গঙ্গা চুক্তি কয়েক বছরের জন্য নয়, ‘অনন্তকালের’ জন্য করতে হবে: আইনুন নিশাত

শিশুর লালন-পালনে ইসলাম যে নির্দেশনা দিয়েছে

  • আপলোড সময় : ১০-১১-২০২৫ ০৩:৫৭:৩১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১১-২০২৫ ০৩:৫৭:৩১ অপরাহ্ন
শিশুর লালন-পালনে ইসলাম যে নির্দেশনা দিয়েছে ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের সঙ্গে দয়া, অনুগ্রহ, স্নেহ ও দায়িত্ববোধ পালনে ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামে। মায়া-মমতা, আদর স্নেহের পাশাপাশি শিশুদের প্রতি সঠিক আচরণ করা ঈমানের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন
কোরআনের নির্দেশ স্পষ্ট—কোনো সন্তান যেন তার পিতা-মাতার ক্ষতির কারণ না হয়। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৩)। 

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম একদিকে যেমন পিতা-মাতার অধিকার নিশ্চিত করেছে, তেমনি ইঙ্গিত দিয়েছে পিতা-মাতাও যেন সন্তানের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষতি বা অবহেলা না করে।

ইসলাম স্বীকার করে, অনেক সময় পিতা-মাতা অতিরিক্ত স্নেহে কিংবা অবহেলায় ভুল করতে পারেন। তাই কোরআন ও হাদিসে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সন্তান আনন্দের উৎস এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা
কোরআন বলে, সন্তান একদিকে জীবনের আনন্দ ও আশীর্বাদ, অন্যদিকে অহংকার, উদ্বেগ ও পরীক্ষার কারণও হতে পারে। ইসলাম  শিক্ষা দিয়েছে, আল্লাহর দেওয়া এই নিয়ামতের প্রতি অতিরিক্ত গর্ব বা নির্ভরতা না দেখিয়ে আত্মিক সুখ ও বিনয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কই মূল। পিতা-মাতা বা সন্তান কেউই কিয়ামতের দিন অন্যের পাপ মোচন করতে পারবে না। প্রত্যেকেই নিজ কর্মের জন্য জবাবদিহি করবে।

শিশুর ধর্মীয় প্রকৃতি ও দায়িত্ব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু ইসলামী ফিতরাতে জন্মগ্রহণ করে; পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা মজুসি বানায়।’ 
এই হাদিস ইসলামের একটি গভীর শিক্ষার দিকে ঈঙ্গিত করে। আর তাহলো শিশুর প্রকৃতি পবিত্র। তার এই পবিত্র প্রকৃতির বিকাশ নির্ভর করে পিতা-মাতার দিকনির্দেশনা ও পরিবেশের ওপর।

ইসলামে শিশুর মৌলিক অধিকার
ইসলাম শিশুদের জন্য কয়েকটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার নির্ধারণ করেছে।

প্রথমত : জীবনের অধিকার। একটি শিশুর জীবন সংরক্ষণ করা ইসলামের অন্যতম প্রধান নির্দেশনা।
দ্বিতীয়ত : বৈধ বংশপরিচয়ের অধিকার। প্রত্যেক শিশুর একজন পিতা থাকবে, এবং একাধিক পিতার দাবি করা যাবে না।
তৃতীয়ত : লালন-পালন, শিক্ষা ও সামাজিক যত্নের অধিকার। যা ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে।

শিশুর যত্ন উত্তম সাদকা
শিশুদের যত্ন নেওয়া ইসলামে মহৎ কাজ হিসেবে গণ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি ছিলেন অগাধ মমতাপূর্ণ এবং বলেছেন, মুসলিম সমাজকে অন্যান্য জাতির মধ্যে দয়া ও স্নেহের জন্য পরিচিত হতে হবে।

শিশুর আধ্যাত্মিক বিকাশ, শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণে মনোযোগ দেওয়াকে ইসলাম উচ্চ মর্যাদার সাদকা হিসেবে গণ্য করে। জন্মের সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখা, মাথা মুন্ডন করা এবং পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয় নিয়মগুলো পালনের নির্দেশও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন।

সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব
শিশুর প্রতি দায়িত্ব শুধু পিতা-মাতার নয়, এটি একটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বও। ইসলাম বলে, পিতা-মাতা জীবিত থাকুক বা না থাকুক, সন্তান যেন সর্বোচ্চ যত্ন পায় তা নিশ্চিত করা সমাজের কর্তব্য।

যদি নিকটাত্মীয় কেউ দায়িত্ব নিতে সক্ষম না হয়, তাহলে ওই শিশুর দেখভাল হবে পুরো মুসলিম সমাজের যৌথ দায়িত্ব এমনকি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ মিলে শিশুর দায়িত্ব পালন করবে।

ইসলাম শিশুর অধিকার পালনকে শুধু মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেনি, বরং একে একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে। শিশুর লালন-পালন, শিক্ষা, নৈতিক দীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের নির্দেশিত সামাজিক দায়িত্ব।

শিশুরা সমাজের ভবিষ্যৎ; তাই তাদের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ ইসলামী সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি শিশুর হাসি সমাজের প্রকৃত মানবিকতার প্রতিফলন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মতিহারে পদ্মা পাড়ে অবৈধ  বাড়ি নির্মাণ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবি

মতিহারে পদ্মা পাড়ে অবৈধ বাড়ি নির্মাণ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবি