ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিহার থানার ধরমপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, দাফন সম্পন্ন নিয়ামতপুরে জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা রাজশাহীতে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব শুরু রাজপাড়ায় গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড ​ভূমিমন্ত্রী আগামীকাল দুই দিনের সফরে রাজশাহী আসবেন পীরগঞ্জে জুলাই শহিদ দিবসে আলোচনা সভা স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে রাজশাহীতে ছাত্রদলের স্মরণসভা বিধবা নারীকে পিটিয়ে হাত-বুকের হাড় ভেঙে দিলেন আ.লীগ নেতা নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে ৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিচ্ছেদের পরে অর্জুনের সঙ্গে নাম জড়াল মৌনীর, ক্ষোভপ্রকাশ ক্রিস্টলের জুলাই শহিদ দিবসে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে রাসিক প্রশাসকের শ্রদ্ধা নিবেদন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু নীতিমালা লঙ্ঘন করে সেচ মটর স্থাপন জনগণের সেবক হিসেবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে: আইজিপি ‘অটোপাসের’ অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাই নদীতে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার, দুই দিন পর মিলল সন্ধান বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নওগাঁ মান্দা উপজেলায় বেড়েছে ডিঙ্গি নৌকার চাহিদা হরমুজকে ইরানের ‘দখলমুক্ত’ করতে আমেরিকার জোড়া হানা মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে জুলাই আন্দোলন হচ্ছে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন: বিভাগীয় কমিশনার

মহানবীর (সা.) পরে যেভাবে কোরআন সংরক্ষণ করা হয়

  • আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৫ ০৪:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৫ ০৪:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন
মহানবীর (সা.) পরে যেভাবে কোরআন সংরক্ষণ করা হয় প্রতিকী ছবি
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর বাণী কোরআনকে কীভাবে সংরক্ষণ ও একত্র করেছিলেন সে ইতিহাস আজও ইসলামী ঐতিহ্যের গৌরবময় অধ্যায়। কোরআন সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়া ছিল একদিকে মানবিক প্রজ্ঞা, অন্যদিকে ঐশী প্রেরণার অনন্য উদাহরণ।

নবীজির সময়ে কোরআন যেভাবে সংরক্ষিত ছিল
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকালের সময় ওহীর সব অংশই সাহাবিদের কাছে ছিল, কেউ লিখে রেখেছিলেন, আবার কেউ মুখস্থ করেছিলেন। সেই সময় কোরআনের আয়াতগুলো আলাদা আলাদা লেখার উপকরণে সংরক্ষিত ছিল। যেমন, চামড়া, হাড়ের টুকরা বা খেজুর পাতায় লেখা ছিল।

সাহাবিরা শুধু আয়াত নয়, সূরাগুলোর ক্রমও মুখস্থ রেখেছিলেন। অর্থাৎ কোরআন একদিকে লিখিত ছিল, অন্যদিকে মানুষের হৃদয়ে সংরক্ষিত ছিল।

আবু বকর (রা.)-এর উদ্যোগে কোরআন সংকলন
নবীজির ইন্তেকালের কিছুদিন পর খলিফা আবু বকর (রা.)-এর সময়  ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সে যুদ্ধে বহু হাফেজ সাহাবি শহিদ হন। এতে আশঙ্কা দেখা দেয় যে, যদি লিখিত আকারে কোরআন একত্র না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে এর কিছু অংশ হারিয়ে যেতে পারে।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বিষয়টি আবু বকর (রা.)-এর কাছে উত্থাপন করেন। শুরুতে আবু বকর (রা.) দ্বিধায় ছিলেন যে, নবীজির জীবদ্দশায় যা করা হয়নি, তা করা কি ঠিক হবে? কিন্তু পরে তিনিও উপলব্ধি করেন, এটি কল্যাণকর কাজ।

তিনি নবীজির ওহী লেখক জায়েদ ইবন সাবিত (রা.)-কে দায়িত্ব দেন কোরআনের সব অংশ সংগ্রহ করার জন্য।

কোরআন সংগ্রহের কঠিন ও পবিত্র কাজ
জায়েদ ইবন সাবিত (রা.) পরে বলেন, ‘আল্লাহর কসম, যদি আবু বকর (রা.) আমাকে কোনো পাহাড় সরাতে বলতেন, সেটিও আমার কাছে সহজ লাগত—এই দায়িত্বের তুলনায়।’

তিনি খেজুর পাতার ডাঁটি, চামড়া, কাঁধের হাড়সহ বিভিন্ন উপকরণে লেখা আয়াত এবং হাফেজদের মুখস্থ অংশ মিলিয়ে কোরআনের সব আয়াত সংগ্রহ করেন।

তিনি জানান, সূরা আত-তাওবার শেষের দুই আয়াত তিনি শুধু খুজাইমা ইবনে সাবিত (রা.)-এর কাছেই পান। 

সংগ্রহ শেষে কোরআনের এই লিখিত পাণ্ডুলিপি ‘সুহুফ’ নামে পরিচিত হয়। এটি প্রথমে আবু বকর (রা.)-এর কাছে থাকে, তার ইন্তেকালের পর ওমর (রা.)-এর হাতে যায়। এবং পরে ওমর (রা.)-এর কন্যা হাফসা (রা.)-এর কাছে সংরক্ষিত হয়।

‘সুহুফ’ থেকে ‘মুসহাফ’
আরবি শব্দ ‘সুহুফ’ (একবচন : সাহিফা) অর্থ আলাদা আলাদা পাতায় লেখা অংশ। আর ‘মুসহাফ’ অর্থ সব ‘সুহুফ’ একত্র করে বাঁধাই করা একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।

খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সময় কোরআনকে সেই রূপেই একীভূত ও মানসম্মত করা হয়, যাতে আয়াত ও সূরার ক্রম একই থাকে, এবং তা পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ প্রতিলিপি হয়ে ওঠে।

কোরআন সংরক্ষণের অনন্যতা
কোরআনের ইতিহাস অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাইবেল বা তাওরাত শতাব্দীব্যাপী সম্পাদনা ও সংকলনের মাধ্যমে গঠিত হলেও কোরআন ওহী শেষ হওয়ার পর থেকেই অপরিবর্তিত রয়েছে, চৌদ্দ শতাব্দী পেরিয়ে আজও এক অক্ষরও বদলায়নি

সংকলনের তিন ধাপ
ইসলামী ইতিহাসবিদ আহমাদ ভন ডেনফার এই প্রক্রিয়াটিকে তিনটি ধাপে ব্যাখ্যা করেছেন

১️. আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে জায়েদ ইবন সাবিত (রা.) কোরআনের সব অংশ সংগ্রহ করেন।

২. লিখিত উপকরণ ও মুখস্থ সাহাবিদের বর্ণনা অনুযায়ী একত্রিত করে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করা হয়।

৩️. পরবর্তীতে সংকলিত সেই ‘সুহুফ’ আবু বকর (রা.) থেকে ওমর (রা.)-এর কাছে, তারপর হাফসা (রা.)-এর কাছে সংরক্ষিত থাকে।

নবীজির ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কিরামের দূরদৃষ্টি, আল্লাহর তাওফিক ও মানবিক প্রজ্ঞার মিলিত ফসলই আজকের পবিত্র কোরআন। তাদের প্রচেষ্টাতেই মানবজাতি পেয়েছে এক অবিনাশী, অপরিবর্তিত ঐশী বাণী, যা আজও ঠিক তেমনি রয়েছে, যেমনটি নবীজির হৃদয়ে নাজিল হয়েছিল।

সূত্র :  অ্যাবাউট ইসলাম

নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জনগণের সেবক হিসেবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে: আইজিপি

জনগণের সেবক হিসেবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে: আইজিপি