ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলবাড়ীতে শেষ হয়েছে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর তিনদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা’র অসুস্থতার কারণে বিলম্ব: রাজশাহী চেম্বারের পরিচালক হিসেবে শপথ নিলেন আমিনুল ইসলাম আমিন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে নগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা গাজা সংহতির পদযাত্রা: সিঙ্গাপুরে তিন অধিকারকর্মীকে জরিমানা পবার টিসিবি গুদামে আগুন, পুড়েছে তেল-ডাল-চিনিসহ বিপুল পণ্য রাজশাহীতে স্কুল পর্যায়ে তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কোরিয়ান ভাষা কোর্সের বিষয়ে ক্রীড়া শিক্ষকগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন কোরবানির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও শিক্ষা: হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমা! দুধরচকী ছাহেব রাণীশংকৈলে উদ্বুদ্ধকরণ এর আওতায় সজিনা চাষ কার্যক্রমের উদ্বোধন মোহনপুরে মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভা পীরগঞ্জে প্রসূতি মাতার মৃত্যু,একতা ক্লিনিক ঘেড়াও ভাঙচুরের চেষ্টা নির্মাণাধীন ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় কাম কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মহান মে দিবস উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা মহান মে দিবস উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রশাসকের বাণী যৌন নিপীড়ন মামলায় রাজশাহীতে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী কারাগারে নির্মাণাধীন নওদাপাড়া কাঁচা বাজার মার্কেটসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক রাজশাহীতে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ ১৮ বছর পলাতক থাকার পর রাজশাহীতে বিস্ফোরক মামলার আসামি গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে কবরস্থানের পাশে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহানবী (সা.)

  • আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০২:৫৭:২৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০২:৫৭:২৮ অপরাহ্ন
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহানবী (সা.) ছবি: সংগৃহীত
মুআবিয়া ইবনুল হাকাম সুলামি (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলাম। এ সময় আমাদের মধ্যে একজন হাঁচি দিলেন। আমি সব সময়ের মতো তার হাঁচির উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলতেই অন্য মুসল্লিরা আমার দিকে আড় চোখে তাকানো শুরু করলো। আমি বললাম, তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ কেন! তারা তখন তাদের উরুর ওপর চাপড় দিয়ে আওয়াজ করতে লাগলো। আমি যখন বুঝতে পারলাম, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, আমি চুপ হয়ে গেলাম।

আল্লাহর রাসুল (সা.) নামাজ শেষ করলেন। আমার বাবা-মা তার জন্য উৎসর্গিত হোন! তার আগে বা পরে তার মত এত চমৎকার শিক্ষক আর দেখিনি! আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে ধমক দিলেন না, মারলেন না, গালিও দিলেন না। শুধু বললেন, নামাজে কথাবার্তা বলা ঠিক নয়। নামাজে শুধু তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন পাঠ করা হয়। (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা:
১. রাসুল (সা.) ছিলেন আচরণ ও ব্যবহারে সর্বশ্রেষ্ঠ। আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গ্রাম্য ব্যক্তিরা তার কাছে আসতো। না জানার কারণে তারা অনেক ভুল করতো। রাসুল (সা.) কখনও তাদের ধমক দিতেন না। তাদের ভুলত্রুটি সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতেন। তার চমৎকার আচরণে তারা প্রভাবিত ও মুগ্ধ হতো, অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করতো। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, নম্রতা যে কোনো কিছুকে অলঙ্কৃত করে, কোনো কিছু থেকে নম্রতা হারিয়ে গেলে তা অসুন্দর হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা নম্র ব্যবহারকারী, তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। নম্রতার মাধ্যমে তিনি যা দান করেন, কঠোরতা বা অন্য কোনো পন্থায় তা দান করেন না। (সহিহ মুসলিম)

২. নামাজে কথা বলা বৈধ নয়। নামাজ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুল করে কিছু বললে নামাজ ভেঙে যাবে। কাউকে সালাম দিলেও নামাজ ভেঙে যাবে। শুধু নিজে শুনতে পায় এতটুকু নিচু আওয়াজে কথা বলে ফেললেও নামাজ ভেঙে যাবে। কেউ যদি নামাজ আদায়রত ব্যক্তিকে সালাম দেয়, নামাজি ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুল করে সশব্দে অর্থাৎ মুখে সালামের উত্তর দেয়, তাহলেও নামাজ ভেঙে যাবে।

৩. আজকাল ইসলামের অনেক প্রচারক তাদের রূঢ় স্বভাব ও আচরণে মানুষকে ইসলাম থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ ইসলামের নবীর (সা.) আচরণ কত চমৎকার ছিলো। কত চমৎকারভাবে তিনি মানুষকে শিক্ষা দিতেন।

যে সাহাবি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম, তিনি রাসুলের (সা.) আচরণের মুগ্ধ হয়েছিলেন। এরপর তিনি রাসুলকে (সা.) বেশ কিছু প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেন, তারপর আমি বললাম, আল্লাহর রাসুল! জাহেলি যুগ বিদূরিত হল বেশি দিন হয়নি, কিছুদিন মাত্র হলো ইসলাম এসেছে, আমাদের কেউ কেউ এখনও গণকদের কাছে যায়। তিনি বললেন, তুমি তাদের কাছে যেওনা। আমি আবার বললাম, আমাদের কেউ কেউ তো শুভ ও অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন, এটা তাদের মনগড়া বিষয়। এগুলো বিশ্বাস করে তারা যেন কোনো ভালো কাজ থেকে বিরত না থাকে।

মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম (রা.) পরে আরেকদিন নিজের একটি কাজে লজ্জিত হয়ে রাসুলের (সা.) কাছে গিয়েছিলেন। রাসুলের (সা.) শিক্ষা কীভাবে তাদের উন্নত ও উত্তম মানুষে পরিণত করেছিল তা এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়।

তিনি বলেন, আমার একজন দাসী ছিল। সে উহুদ ও জাওয়ানিয়ার দিকে আমার ছাগল চরাত। একদিন আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখি, বাঘ এসে একটি ছাগল নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় যে কোনো মানুষের মতো আমারও রাগ উঠে গেলো। আমি তাকে একটি চড় দিয়ে বসলাম। তারপর আমি রাসুলের (সা.) কাছে গিয়ে ব্যাপারটি বললাম। তিনি আমার কাজটি খুবই অপছন্দ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তাকে মুক্ত করে দেবো? তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নবীজির (সা.) কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? সে বললো, আকাশে। তিনি বললেন, আমি কে? সে বললো, আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন মহানবী (সা.) বললেন, ওকে ‍মুক্ত করে দাও, ও মুমিন। (সহিহ মুসলিম)

নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে নগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে নগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা