ঢাকা , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাসিকের নতুন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের দায়িত্ব গ্রহণ, মাজার জিয়ারত হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক নগরীর নওদাপাড়ায় বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার রাজশাহীতে হারানো ৪১ মোবাইল ফোন মালিকদের ফেরত দিল পুলিশ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র সাধারণ নির্দেশনা গোদাগাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর রাসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন শহিদ জিয়ার দেখানো পথে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী, ফেনসিডিল ও মদ জব্দ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করল ইরান ব্যায়াম হোক মজার ছলে নোয়াখালীতে গৃহবধূ হত্যা: স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেপ্তার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ঘুম থেকে উঠেই গলা শুকিয়ে আসে, নেপথ্যে থাকতে পারে আরও কিছু শারীরিক সমস্যা প্রকাশ পেল সিয়াম-সুস্মিতার ‘শুদ্ধতার প্রেম’ নোয়াখালীতে কাভাড ভ্যান চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু, চালক আটক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিল চীন শবে কদরের ফজিলত ও ৫ আমল

ফুলবাড়ীর ধানক্ষেতে পানির আগ্রাসন অপরিকল্পিত ক্যানেলের ফাঁদে কৃষকের চোখের জল!

  • আপলোড সময় : ২৩-০৫-২০২৫ ১১:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৫-২০২৫ ১১:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন
ফুলবাড়ীর ধানক্ষেতে পানির আগ্রাসন অপরিকল্পিত ক্যানেলের ফাঁদে কৃষকের চোখের জল! ফুলবাড়ীর ধানক্ষেতে পানির আগ্রাসন অপরিকল্পিত ক্যানেলের ফাঁদে কৃষকের চোখের জল!
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টানা কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে জমির পানি নয়, যেন কৃষকের চোখের জল জমির ওপর ভাসছে। উপজেলার দুই ইউনিয়নের দশটি গ্রামের দেড় হাজার বিঘা বোরো ধানখেত এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্বপ্নের ধান ঘরে তোলার আগেই কোমর পানি ডুবেই মাঠে নামছেন কৃষকরা। কেউ কেউ ক্ষেতে নেমে বলছেন, ‘এটা ধান কাটছি না, বুক ভাঙার ব্যথা কাটছি।’

জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে ৩০০ বিঘার বেশি জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ধান পচে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা রোদ-বৃষ্টির কিছু ভাবনা না করে, চড়া দামে শ্রমিক ভাড়া করে মাঠে কাজ করছেন। বিঘা প্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, অথচ ধানের বাজার এখনও অনিশ্চিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, মহেশপুর, লালপুর, মহদিপুর, পূর্ব নারায়ণপুর এবং ৬ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়নের গড়পিংলাই, বারাইপাড়া, আড়াপাড়া, ঘোনাপাড়া, গণিপুর ও পলিপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, জমির ধান রক্ষায় কোমর পানি ঠেলে দিনরাত পরিশ্রম করলেও অনেক ক্ষেত্রেই ধান পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মোস্তাফিজার রহমানের ৩২ বিঘা, মো. বাবুর ১৮ বিঘা, আইয়ুব আলীর ৪ বিঘা ও জয়নাল আবেদিনের ৬ বিঘা জমি এখনও পানির নিচে ডুবে রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এ দুর্দশার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ক্যানেল। ২০২০ সালে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে এলজিইডি দৌলতপুর বারাইপাড়া এলাকায় ১৬৩ মিটার ক্যানেল নির্মাণ করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৩ মিটার ক্যানেল সম্প্রসারণ করা হয়। মোট ২০৬ মিটার দীর্ঘ এই ক্যানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তবে ক্যানেলটি জমির তুলনায় দেড় থেকে দুই ফুট উঁচুতে তৈরি হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে জমিতে আরও বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার সময় এসব জমি যেন ক্ষতবিক্ষত হৃদয়।

কৃষক মতিবুল রহমান, মহিদুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, বাচ্চু মিয়া ও বেলাল হোসেন জানান, ‘আমাদের জমিগুলো একসময় ছিল সোনার খনি। ভালো ফলন হতো, জীবন নির্বিঘ্নে চলত। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে জমির প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দেড় হাজার বিঘা আবাদি জমি জলাবদ্ধ রয়েছে। সরকারি ক্যানেল নির্মাণ হলেও তা কার্যকর হয়নি, বরং জমিতে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। গত ২০ বছর ধরে এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় সঠিক চাষাবাদ করা যায় না। এমন জমি বিক্রি করতেও পারছি না, কারণ কেউ কিনতে আগ্রহী নয়। ঝুঁকি নিয়ে বোরো আবাদ করলেও ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে কয়েক দিনের ঝড়োবৃষ্টিতে তা পানিতে তলিয়ে গেছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ শাহানুর রহমান জানান, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে। ক্যানেলের মাধ্যমে পানি যথাযথ নিষ্কাশন হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসাহাক আলী বলেন, ‘সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন শুরু হবে।’

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কোনো ক্যানেল প্রকল্প কেবল অর্থায়নে সফল হলেই চলে না। মাঠ পর্যায়ে এর কার্যকারিতা যাচাই ও যথাযথ নজরদারি ছাড়া এর ফল হয় কৃষকের চোখের জল, সরকারের অপচয় এবং জমির দীর্ঘস্থায়ী অনুর্বরতা। কৃষকদের সমস্যা সমাধানে অপেক্ষার পালা কখন শেষ হবে? কৃষকের চোখের জল কি কোনো প্রকল্পের রিপোর্টের পাতায় লেখা হয়? 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক