ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু রাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে মাদকসেবির কারাদন্ড রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক র‌্যালি, দুই সপ্তাহের মশক নিধন কর্মসূচির ঘোষণা রাজশাহীতে বিপুল পরিমান ইয়াবা গাঁজাসহ গ্রেফতার ৫ মাদক কারবারী রাজশাহীতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময় সভা বিয়ের চারদিন পর মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু রেড ক্রিস্টে সোসাইটি, রাজশাহী সিটি ইউনিটের বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট জব্দ পুঠিয়ায় ইউএনও'র নাম ভাঙ্গিয়ে আমবাগান কেটে চলছে পুকুর খনন, মাটি যাচ্ছে দোয়েল ইটভাটায় মোহনপুরে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনে বাঁধা: নো-ম্যানস ল্যান্ডে তাদের করুণ দিনযাপন নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ রিভার সিটি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নগরীর চন্দ্রিমায় চিকিৎসকের বাড়ির কেয়ারটেকার গ্রেফতার, ২ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে উদ্যোগ, গাইডলাইন প্রণয়নের পথে সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা দেশ প্রেমিক ও রাষ্ট্রনায়ক...এমপি নয়ন বিয়েবাড়িতে আরেক পিস রোস্ট চাওয়ায় মারামারি, আহত ৩ গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা

শহিদ পরিবারে আজও অভাবের হাহাকার, আজও শুখায়নি মা-বাবার চোখের জল

  • আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ০২:১৬:২৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ০২:১৬:২৯ অপরাহ্ন
শহিদ পরিবারে আজও অভাবের হাহাকার, আজও শুখায়নি মা-বাবার চোখের জল শহিদ পরিবারে আজও অভাবের হাহাকার, আজও শুখায়নি মা-বাবার চোখের জল
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট আজকের এই দিনে ফুলবাড়ী কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলনের এশিয়া এনার্জির ফুলবাড়ী অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে আন্দোলনকারি ওপর তৎকালিন বিডিআরের গুলিতে নিহত হন এক কলেজ ছাত্রসহ কর্মজীবী তিন যুবক।

নিহত তিন যুবকের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন তাদের মা-বাবা-ভাইবোনসহ পরিবারগুলো। কেমন আছেন তারা? প্রথম প্রথম তাদের খোঁজখবর নেওয়া হলেও এখন আর তেমন কেউ খোঁজ রাখেন না। শুধুমাত্র ২৬ আগস্ট খনিবিরোধী ট্র্যাজেডি দিবসেই নিহতদের পরিবারগুলোর কদর বাড়ে। একই অবস্থার শিকার আহত হয়ে দুর্বিসহ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা গুলিবিদ্ধসহ আহত দু’শতাধিক নারী ও পুরুষেরও। ইতোমধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারি প্রদীপ সরকার পরলোক গমন করেছেন। অপর গুলিবিদ্ধ বাবলু রায় এখন অসহনীয় মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।  

নিহতদের মধ্যে রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র তরিকুল ইসলাম সম্ভ্রান্ত পরিবারের হলেও অন্য দু’জন আমিন ও সালেকিন ছিলেন হতদরিদ্র ও অসহায় দিনমজুর পরিবারের ছেলে। তরিকুল শিক্ষার্থী থাকলেও আমিন ও সালেকিন ছিলেন তাদের পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মজীবী যুবক। আমিন ও সালেকিনকে হারিয়ে তাদের পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইতোমধ্যে শহীদ তরিকুল ইসলামের পিতা শিক্ষক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোকলেছার রহমান মৃত্যু বরণ করেছেন।

কেমন আছে আমিনের পরিবার?
ফুলবাড়ী পৌরএলাকার বারোকোনা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হামিদের ছেলে আমিনুল ইসলাম। চার ভাইবোনের মধ্যে আমিন বড়। ছোটবোন হানিফা বেগম, ছোটভাই আল আমিন ও সর্বকনিষ্ঠ বোন হুমাইরা আফরিন। আমিন পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। বাবার পাশাপাশি তিনিও সংসারের একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ২০০৬ সালে আমিনের বয়স ছিল ১৪ বছর। দেশের মাটি রক্ষার্থে সকলের মতো আমিনও বাড়ী থেকে মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে মিছিলে বেড়িয়ে পড়েন। মিছিলে গুলিবর্ষণ শুরু হলে দুর্ভাগ্যক্রমে আমিনের শরীর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আমিন।

আমিন মারা যাওয়ার পর ধারদেনা করে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছে বাবা-মা। আমিনের মা রেহেনা খাতুন বলেন, আজ আমার ছেলে বেঁচে থাকলে আমাদের এতো কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হতো না। ছেলের আয়ে অন্তত তিনবেলা পেটে ভাত জুটতো। প্রথম প্রথম খোঁজখবর নেওয়া হলেও এখন আর কেউ তেমন খোঁজখবর রাখে না। ২৬ আগস্ট নিজ উদ্যোগে নিহত ছেলের আমিনের জন্য বাড়ীতে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন তারা।  
কেমন আছে সালেকিনের পরিবার?
নবাবগঞ্জ উপজেলার উত্তর শাহাবাজপুর গ্রামের ঝোড়ারপাড়া গ্রামের হাসান আলী ও শেফালী বেগমের ছেলে সালেকিন। পাঁচভাইবোনের মধ্যে সালেকিন তৃতীয়। সালেকিনের বাবা হাসেন আলী কৃষিশ্রমিক। ২০০৬ সালে সালেকিন সবে প্রাইমারির গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক জীবন শুরু করেছিল। গ্রামের সবাইকে আন্দোলনে যেতে দেখে সালেকিনও উৎসাহিত হয়ে গ্রামের মিছিলে বেরিয়ে পড়েন ফুলবাড়ীর দিকে। চাচা জোবেদ আলীর সাথে ফুলবাড়ী আসলেও পরবর্তীতে দুলাভাইয়ের সাথে আন্দোলনে থাকেন। চারিদিকে গুলিবর্ষণ শুরু হলে সেই গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সালেকিন।

সালেকিনের মা শেফালী বেগম আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, স্কুল থেকে ফিরেই না খেয়েই মিছিলে ঢুকে ফুলবাড়ীতে চলে যায় সালেকিন। তাকে অসংখ্যবার বললাম সেখানে গন্ডগোল হবে যাস না। কিন্তু তবুও সে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে পড়ে। আমি পথ চেয়ে রইলাম। সালেকিন বাড়ী ফিরল ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। ২৬শে আগস্ট আসলেই আমাদের খোঁজখবর নেয়া হয়। সালেকিন মারা যাওয়ার পর অনেকে সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বৃদ্ধ অসুস্থ স্বামী হাসান আলী বিছানায় পড়ে যাওয়ায় এখন তাদেরকে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতে হচ্ছে।

কেমন আছে তরিকুলের পরিবার?
ফুলবাড়ী পৌরএলাকার উত্তর সুজাপুর (চাঁদপাড়া) গ্রামের সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও শিক্ষক মরহুম মোকলেছুর রহমানের ছেলে আবু সালেহ তরিকুল ইসলাম। তিনভাইয়ের মধ্যে তরিকুল ছিলেন বড়। তার ছোটভাই সাদ্দাম হোসেন ও তৌকির আহম্মেদ তপু। তরিকুল রাজশাহীর নিউ গর্ভমেন্ট কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট তরিকুল তার ছোটভাই সাদ্দামকে নিয়ে আন্দোলন দেখতে ফুলবাড়ী বাসষ্ট্যাণ্ড এলাকায় যান। সাদ্দাম জীবিত ফিরলেও তরিকুল ফিরেন লাশ হয়ে। তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে প্রাণ হারান মেধাবী ছাত্র তরিকুল ইসলাম।

তরিকুলের ভাই সাদ্দাম হোসেন জানান, সেদিন দুপুরে দুইছেলে ফুলবাড়ী পৌরশহরে বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলন দেখতে যায়। বিকালে পিতা মোকলেছার রহমানের কাছে ফোন আসে বিডিআরের গুলিতে তরিকুল মারা গেছে। পরদিন দিনাজপুর থেকে তার মরদেহ আনা হয়। তার শূন্যতা নিয়েই পরিবারের মা-ভাইবোন বেঁচে আছেন।

এদিকে সন্তান হারা পরিবারগুলো সন্তানের শূন্যতায় পড়েছে। সন্তানের স্মৃতি আর চোখের জল তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি: প্রতিবছর ২৬শে আগস্ট শুধুই দিবসে পরিণত হলেও, সন্তানহারা পরিবারগুলো খোঁজখবর নেওয়ার যেনো কেউ নেই। সন্তানদের কথা মনে পড়লে যেনো তাদের জীবনে কালো মেঘে ছেয়ে নেমে আসে। সন্তানরা পরিবারগুলো নিহত সন্তানদের স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছেন।

খনি বিরোধী আন্দোলনের ফুলবাড়ী শাখা তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও সদস্য সচিব জয় প্রকাশ গুপ্ত বলেন, নিহত আমিন ও সালেকিনের পরিবারকে সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তবে প্রথম থেকেই তরিকুলের পরিবার কোনো প্রকার সহযোগিতা নেন’নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু