ঢাকা , রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহী বিভাগের ৬ জেলায় অচল ৬০ আইসিইউ শয্যা, রামেকে জনবল সংকটে বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি রাণীশংকৈলে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের হিন্দু ভক্তদের মিলন মেলা রাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে মাদক সেবির কারাদন্ড রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার - ৪ বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: ধানের শীষে ভোট চাইলেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক রাজশাহীকে শুভেচ্ছা সাংবাদিক লাঞ্চিতের ঘটনায় আরইউজের নিন্দা-প্রতিবাদ চারঘাটে ককটেল, দেশীয় অস্ত্র জব্দ ও মাদকসহ গ্রেফতার-২ ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষা উপলক্ষে আরএমপির গণবিজ্ঞপ্তি বাঘায় সিএনজি চাপায় নিহত-৪, পলাতক আসামি আলমগীর গ্রেফতার কুমিল্লায় ৩ বাসে আগুন ২য় ক্রু উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে হয়েছে দুটি পরিবহন বিমান রাণীনগরে আগাছা নাশক ছিটিয়ে জমির ধান পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ শাকিবের স্পর্শ কোনো অনৈতিক স্পর্শ ছিল না: জ্যোতির্ময়ী দোকানপাট, শপিংমল খোলা থাকবে ৭টা পর্যন্ত মেয়েকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা এরপর গর্ভপাত, বাবা গ্রেপ্তার কিশোরী বয়সে গর্ভধারণে যেসব ঝুঁকি রয়েছে রূপচর্চার প্রতিটি ধাপ মেনেও অনুজ্জ্বল ত্বক, জেনে নিন সমাধান নগরীতে গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৭ লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে শ্রমিকদের ফটক সভা

ঘানি থেকে মিল: শর্ষের তেলে নমিরদের তিন প্রজন্ম

  • আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৫ ০৪:২৩:১৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৫ ০৪:২৩:১৫ অপরাহ্ন
ঘানি থেকে মিল: শর্ষের তেলে নমিরদের তিন প্রজন্ম ঘানি থেকে মিল: শর্ষের তেলে নমিরদের তিন প্রজন্ম
দাদা বাহার আলী শাহ চালাতেন কাঠের ঘানি। গরু দিয়ে ঘানি টেনে বিন্দু বিন্দু করে শর্ষের তেল বের করতেন। সেই তেল বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর এই পেশায় যান ছেলে মীরজান আলী শাহ। আর এখন সেই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন মীরজানের ছেলে নমির উদ্দিন শাহ (৬৪)। রাজশাহীর বাগমারার গোপালপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি।
যুগ পাল্টেছে, বদলেছে পদ্ধতি; কিন্তু পেশার প্রতি নমির উদ্দিনের ভালোবাসা বদলায়নি। প্রযুক্তির যুগে এসে কাঠের ঘানির জায়গা নিয়েছে মেশিন, তবে পেশাটা তিনি ছাড়েননি। তাঁর মৃত্যুর পর আর কেউ নেই এই পেশায়। তাই শেষ হতে পারে তিন প্রজন্মের এই ঐতিহ্য।
নমির উদ্দিনের জন্ম গোপালপুর গ্রামে। লেখাপড়া করেননি। ছোটবেলা থেকেই ঘানিতে শর্ষে ভাঙানোর কাজ করতেন পরিবারের বড়দের সঙ্গে। ২১ বছর বয়স থেকে পুরোদমে জড়িয়ে পড়েন কাঠের ঘানির সঙ্গে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আছেন একই পেশায়।
সম্প্রতি গোপালপুর মোড়ে টিনের বেড়ায় ঘেরা ছোট্ট এক মিলঘরে একা কাজ করতে দেখা গেল নমিরকে। নিজ হাতে শর্ষে থেকে তেল ও খইল তৈরি করে প্রক্রিয়াজাত করছেন। তিনি বলেন, একসময় তাঁদের বাড়িতে চারটি গরু দিয়ে দুটি কাঠের ঘানি চলত। ওই সময়ে তাঁর মা–বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই কাজ করতেন। তাঁর বাবার তিন স্ত্রীর মোট ১৫ জন সন্তান ছিল। সবাই বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন ঘানি থেকে তেল তৈরিতে।
নমির উদ্দিন বলেন, ‘হাটবাজার ঘুইর‍্যা শর্ষে কিনা আনি, তারপর দিন-রাইত মিইল্যা ৯-১০ সের তেল বানাইতাম। সেই তেল মাথায় কইর‍্যা নিয়া গেছি হাটে বিক্রি করতে। শুধু আমি না, ভাইয়েরা-বোনেরাও ভাগ ভাগ হইয়া তেল বিক্রি করত।’
বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরেন নমির উদ্দিন। ২০০১ সাল পর্যন্ত গরু দিয়ে কাঠের ঘানি চালিয়ে তেল বের করেছেন। পরে ঘানি বন্ধ হলেও পেশা ছাড়েননি। বিভিন্ন এলাকা থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। একসময় কাজ করেন নওগাঁর আত্রাইয়ের বান্দাইখাঁড়া এলাকার একটি তেল মিলে। সেখানে মেশিনে তেল তৈরির কৌশল শেখেন। ২০১১ সালে গ্রামে ফিরে নিজের তেল ভাঙানোর মিল স্থাপন করেন। কিছু ধারদেনা করে মিল চালু করেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এখন প্রতিদিন প্রায় ১০০ কেজি তেল তৈরি করেন মিল থেকে।
নমির উদ্দিন বলেন, ‘বাজার থাইক্যা শর্ষে কিনা আনি, মিল দিয়া তেল ভাঙি। তেল আর খইল দুইটাই বিক্রি করি। অনেকে মিল থাইক্যা চাহিদা মতো তেল কিনা লিইয়া যায়। এই তেল বেচেই আলহামদুলিল্লাহ সংসার চালাই, ভাগ্য বদলাইছে। জমি কিনছি, আগে খড়ের ঘরে থাকতাম, এখন পাকা বাড়ি বানাইছি, বউ-বাচ্চা লইয়া ভালোই আছি। ছেলেরে সিএনজি (অটোরিকশা) কিনা দিছি, মেয়েরে বিয়া দিছি।’
নমির উদ্দিনের স্ত্রী ময়না বিবি (৫৬) বলেন, ‘বিয়ের পর থেইক্যা স্বামীর এই কামে আমি সঙ্গ দিছি। গরুর ঘানিতেও কাম করছি, মিলেও করি।’
গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি ছোটকাল থেকে নমির উদ্দিনের পূর্বপুরুষদের গরুর কাঠের ঘানি দিয়ে শর্ষের তেল তৈরি করা দেখেছেন। এখন নমির উদ্দিনের মেশিনের মাধ্যমে তেল তৈরি করা দেখছেন। তিনি তাঁর একজন পুরোনো খদ্দের।
প্রতিবেশী বাগমারা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নমির উদ্দিনের পরিবারের কারণে গ্রামটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি শিশুকাল থেকে নমির উদ্দিনের পরিবারকে শর্ষের তেলের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখে আসছেন। ওই পাড়াটি সাজিপাড়া হিসেবে পরিচিত। আবার অনেকে কলুপাড়া হিসেবে জানেন। তাঁর তেলের প্রশংসা আছে এই এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশের বাইরেও যায় নমির উদ্দিনের শর্ষের তেল।
নমির উদ্দিন বলেন, ‘অনেকে আমায় কলু কয়, লজ্জা লাগে না। এই কামে আমি গর্ব পাই। এই কাম আমার বাপ-দাদার ঐতিহ্য। লাভ বেশি অন্য কামে; কিন্তু এই কাম ছাড়তে পারি না। যত দিন পারি, এই পেশায় থাকুম; কিন্তু আমার পরে এই পেশা কেউ ধরব না। আমি ছাড়া আর কেউ নাই এখন।’
সুত্র: প্রথম আলো

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ
নগরীতে গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৭

নগরীতে গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৭