ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার আদর্শে মানুষের সেবায়: ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নুসরাত আরা স্মৃতি রাণীশংকৈলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের যাকাত বিতরণ, অসহায়দের পাশে মানবতার হাত রাণীশংকৈলে পাটনার প্রকল্পের ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টশন সিনিয়রদের পেছনে ফেলে রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ধান রোপণের সময় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি নগরীর বুধপাড়ায় গাঁজা-সহ নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার রাসিকের নতুন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের দায়িত্ব গ্রহণ, মাজার জিয়ারত হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক নগরীর নওদাপাড়ায় বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার রাজশাহীতে হারানো ৪১ মোবাইল ফোন মালিকদের ফেরত দিল পুলিশ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র সাধারণ নির্দেশনা গোদাগাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর রাসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন শহিদ জিয়ার দেখানো পথে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী, ফেনসিডিল ও মদ জব্দ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আরএমপি' র গণবিজ্ঞপ্তি রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করল ইরান ব্যায়াম হোক মজার ছলে

সাতক্ষীরায় ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে শহর বাসির

  • আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৫ ০৬:৫৩:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৫ ০৬:৫৩:১৩ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায়  ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে শহর বাসির সাতক্ষীরায় ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে শহর বাসির
সাতক্ষীরা জেলা  সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় এ শহর একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত, তেমনি ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণও বটে। কিন্তু সাতক্ষীরার নাগরিক জীবন আজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা শুধু শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ফেলে দিচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

শহরের বিভিন্ন সড়কে ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের কার্যকর সমাধান হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও নাগরিক সমাজ সবাই সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত থাকলেও প্রত্যাশিত উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র কলেজ রোডে গেলেই চোখে পড়ে রাস্তার মাঝখানে জমে থাকা ময়লার স্তূপ। কোথাও খাবারের উচ্ছিষ্ট, কোথাও বাজারের পচা সবজি, আবার কোথাও প্লাস্টিক ও পলিথিনের থলে, সব মিলে এক ভয়াবহ অবস্থা। সকাল কিংবা সন্ধ্যা, সবসময়ই দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়া দুঃসহ হয়ে ওঠে।

‘লোকজন বাড়ির ময়লা পলিথিনে করে মোটরসাইকেলে এনে এসব সড়কের ওপর ফেলে রেখে যাচ্ছে। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।’

ইটাগাছা হাটরমোড় থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের ওপরও একই দৃশ্য। সুলতানপুর বড় বাজারের প্রবেশদ্বারেও প্রতিদিন ময়লার স্তূপ জমে থাকে। সেখানে বাজারে আসা মানুষদের অভিযোগ, কাঁচাবাজারে ঢুকতে গেলে প্রথমেই নাক চেপে ধরতে হয়।

শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক, শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা, প্রেসক্লাব সড়ক, নারকেলতলা ব্রিজ রোড ও সার্কিট হাউজ সড়কের অবস্থাও একই রকম। শহরের যেদিকে তাকান সেখানেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অথচ সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত।

সাকওয়াত নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোকজন বাড়ির ময়লা পলিথিনে করে মোটরসাইকেলে এনে এসব সড়কের ওপর ফেলে রেখে যাচ্ছে। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।

ইটাগাছার বাসিন্দা সোহেল হোসেন বলেন, আমাদের মহল্লায় কোনো ডাস্টবিন নেই। পৌরসভাকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে রাস্তায় ময়লা ফেলতে হচ্ছে।

শহরের অন্যতম বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিবানৈশ্য কলেজের শিক্ষার্থী ফাইয়াদ, শহিদুল ও ফয়সাল বলেন, কলেজের প্রবেশমুখেই ময়লার বিশাল স্তূপ পড়ে থাকে। প্রতিদিন দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

‘কাগজে-কলমে সাতক্ষীরা এক নম্বর পৌরসভা। কিন্তু বাস্তবে নাগরিকরা ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছেন না। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে যায়। আর এখন রাস্তায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ, শহরের পরিবেশ হুমকির মুখে।’

ময়লার কারণে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুলতানপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোকলেস হোসেন জানান, বড় বাজারের সামনেই একটি ডাস্টবিন আছে। তবে তাতে বাজারের সব ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে টেকা যায় না, গ্রাহকরা দুর্গন্ধের কারণে বাজারে আসতে চান না।

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল বলেন, কাগজে-কলমে সাতক্ষীরা এক নম্বর পৌরসভা। কিন্তু বাস্তবে নাগরিকরা ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছেন না। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে যায়। আর এখন রাস্তায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ, শহরের পরিবেশ হুমকির মুখে।

তিনি আরও যোগ করেন, যে শহরে প্রতি বছর পৌরসভা কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করে, সেখানে ময়লা ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, এটা লজ্জাজনক।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ ভয়াবহভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নানা রোগের জন্ম দিচ্ছে। কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

‘যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ ভয়াবহভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নানা রোগের জন্ম দিচ্ছে। কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ময়লার সঙ্গে মিশে থাকা প্লাস্টিক ও রাসায়নিক বর্জ্য নদী ও খালে পৌঁছে গেলে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হবে। এতে শুধু শহরবাসী নয়, আশেপাশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দেশের অনেক জেলাশহরে এরইমধ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বরগুনা, বাগেরহাট বা যশোরের মতো শহরে পৌরসভা নিজস্ব উদ্যোগে ডাস্টবিন সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। অনেক জায়গায় ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ পদ্ধতি চালু রয়েছে। অথচ সাতক্ষীরায় এখনো প্রচলিত পুরোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন শহরে উৎপাদিত কয়েকশ টন বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না। যা শেষ পর্যন্ত সড়কের ওপর স্তূপ হয়ে জমছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ময়লা-আবর্জনা থেকে উৎপন্ন জীবাণু সহজেই বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন রোগ শহরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

অপ্রতুল ডাস্টবিনের কথা স্বীকার করে সাতক্ষীরা পৌরসভার পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ৯টি ওয়ার্ডের জন্য কমপক্ষে ১৫০টি ডাস্টবিন দরকার। অথচ রয়েছে মাত্র ৫০টি। এছাড়া ময়লা পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬টি গাড়ির জায়গায় আছে মাত্র দুটি। তাও মাঝে মাঝে বিকল হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে সুন্দরবন ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অনেকেই মাস শেষে ফি পরিশোধ করেন না। বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে টাকা নিলেও পরিচ্ছন্নকর্মীদের দেন না।

পৌরসভার পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করা হচ্ছে। ইদ্রিস আলীর ভাষায়, ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেকে রাস্তায় ময়লা ফেলছেন। শহর পরিষ্কার রাখতে হলে নাগরিকদের আগে সচেতন হতে হবে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাশরুবা ফেরদৌস বলেন, পৌরসভা এলাকার উন্নয়নমূলক একটি মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক

হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করলেন নবনিযুক্ত রাসিক প্রশাসক