ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রাজশাহীর স্বেচ্ছাসেবক নেতা শান্ত'র বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের ৬ জেলায় অচল ৬০ আইসিইউ শয্যা, রামেকে জনবল সংকটে বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি রাণীশংকৈলে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের হিন্দু ভক্তদের মিলন মেলা রাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে মাদক সেবির কারাদন্ড রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার - ৪ বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: ধানের শীষে ভোট চাইলেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক রাজশাহীকে শুভেচ্ছা সাংবাদিক লাঞ্চিতের ঘটনায় আরইউজের নিন্দা-প্রতিবাদ চারঘাটে ককটেল, দেশীয় অস্ত্র জব্দ ও মাদকসহ গ্রেফতার-২ ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষা উপলক্ষে আরএমপির গণবিজ্ঞপ্তি বাঘায় সিএনজি চাপায় নিহত-৪, পলাতক আসামি আলমগীর গ্রেফতার কুমিল্লায় ৩ বাসে আগুন ২য় ক্রু উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে হয়েছে দুটি পরিবহন বিমান রাণীনগরে আগাছা নাশক ছিটিয়ে জমির ধান পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ শাকিবের স্পর্শ কোনো অনৈতিক স্পর্শ ছিল না: জ্যোতির্ময়ী দোকানপাট, শপিংমল খোলা থাকবে ৭টা পর্যন্ত মেয়েকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা এরপর গর্ভপাত, বাবা গ্রেপ্তার কিশোরী বয়সে গর্ভধারণে যেসব ঝুঁকি রয়েছে রূপচর্চার প্রতিটি ধাপ মেনেও অনুজ্জ্বল ত্বক, জেনে নিন সমাধান নগরীতে গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৭

রাজশাহী অঞ্চলে নিষিদ্ধ কীটনাশকে বাজার সয়লাব

  • আপলোড সময় : ৩১-০৭-২০২৫ ০১:৫২:৫৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩১-০৭-২০২৫ ০১:৫২:৫৯ অপরাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলে নিষিদ্ধ কীটনাশকে বাজার সয়লাব রাজশাহী অঞ্চলে নিষিদ্ধ কীটনাশকে বাজার সয়লাব
রাজশাহী অঞ্চলে নিষিদ্ধ কীটনাশকে বাজার সয়লাব হয়ে উঠেছে। কীটনাশক আসল-নকল,ভেজাল না নিম্নমানের সেটা বোঝার ক্ষমতা নাই অধিকাং কৃষকের। আর কৃষকদের এই সরলতার সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির মুনাফাখোর অসাধু কীটনাশক ব্যবসায়ী। অন্যদিকে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের একশ্রেণীর কর্মকর্তা কোম্পানির কাছে থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে এসব কীটনাশক কিনতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। 

এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারসিক) এর গবেষণায় উঠে এসেছে রাজশাহীর ৯৯ ভাগ কীটনাশকের দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে নিষিদ্ধ কীট ও বালাইনাশক। সরকার নিষিদ্ধ করে রাখলেও নানা নামে এসব কীটনাশক বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব ব্যবহারের ফলে পরিবেশ, প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। শতকরা ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ব্যবহারকারীই জানেন না এটি নিষিদ্ধ এবং বিপজ্জনক কীটনাশক। চলতি বছরেই রাজশাহীতে ‘জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানমূলক সমীক্ষা’ শীর্ষক এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষাটি করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক। 

চলতি বছরের ৩০ জুলাই রাজশাহী নগরের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহীর ৮টি উপজেলার ১৯টি কৃষিপ্রধান গ্রামাঞ্চলে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ভুক্তভোগীদের কেস স্টাডি, স্থানীয় কীটনাশক ডিলার, দোকানদার, পরিবেশক এবং উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সমীক্ষাটি তৈরী করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করে শতকরা ৬৮ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর কীটনাশকের ৯৯ ভাগ দোকানেই দেশে নিষিদ্ধ হওয়া কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে। এসব নাম দেখে বোঝার উপায় নেই এটি নিষিদ্ধ, কিন্তু বোতলের গায়ে নিচের দিকে জেনেরিক নাম খুব ছোট করে লেখা থাকে।

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ বা যেসব কীটনাশক এখনও পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো হলো- জিরো হার্ব ২০ এসএল (প্যারাকোয়াট), ফুরাডান ৫জি (কার্বোরাইল), এরোক্সান ২০ এসএল (প্যারাকোয়াট), গ্যাস ট্যাবলেট (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড), কার্বোফোরান ৩ জিএসিআই (কার্বোফোরান) ইঁদুর মারা বিষ (বডিফ্যাকোয়াম) ও তালাফ ২০ এসএল (প্যারাকোয়াট)। এই প্যারাকোয়াট বা ঘাস মারা বিষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকে না বুঝে এগুলো আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পান করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়ে মারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাজারে অহরহ এসব নিষিদ্ধ কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে, যেটি দেখার জন্য সরকারের কোন তদারকি নেই। এসব নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। নিষিদ্ধ কীটনাশক কীভাবে বাজারে বিক্রি হয়, কৃষি বিভাগের দায়িত্ব কী সে বিষয়েও সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিষিদ্ধ কিছু কীটনাশকও আনা হয়। এগুলো যে দোকান থেকে কেনা হয়েছে তার রশিদও দেখানো হয়।

এসব দেখিয়ে বারসিকের নির্বাহী পরিচালক পাভেল পার্থ বলেন, ‘এগুলো তো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আমরা কিনেছি। রশিদও আছে। কিন্তু এগুলো নিষিদ্ধ। অথচ আমরা এগুলো হাজির করতে বাধ্য হয়েছি। এই গবেষণা একটি ফৌজদারি অপরাধকে খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু সে বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, সেটাই বড় প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলনে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করা, কীটনাশক আইন ও বিধির প্রয়োগ করা, কীটনাশক সম্পর্কিত স্বাস্থ্য তথ্য নিবন্ধন কর, কীটনাশকের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের জন্য তহবিল গঠন করার সুপারিশ করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীতে গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৭

নগরীতে গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ৭