ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য, বিশ্বে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান রাজশাহীতে ৬৬ হাজার ৩৯৫ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা মহানগরীতে পুলিশের অভিযানে আটক ৩১ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী সিটি ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত তানোরের উদায়ন ক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি রন্জু সম্পাদক সোহেল পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী নগরীর বোয়ালিয়ায় ইসকাফ সিরাপসহ মাদক কারবারি সুইট গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল: রাজশাহীতে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সোহাগ আলী গ্রেপ্তার বুধপাড়া আলিম মাদ্রাসার নতুন ৪র্থ তলা ভবনের উদ্বোধন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃক্ষরোপণ সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ, রাসিক প্রশাসককে বাজুসের কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা সম্পন্ন পবায় বিপুল পরিমান এ্যালকোহল ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুইজন গ্রেফতার দুই দিনের সফরে আগামীকাল রাজশাহী আসছেন ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীতে বিপুল পরিমান ঊঝশঁভ ও ইয়াবা সহ মাদক কারবারী গ্রেফতার ৩ রাজশাহীতে ৬৬ হাজার ৩৯৫ শিশুকে দেওয়া হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেশরহাট বণিক সমবায় সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ২০২৬ খোলাবোনা মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া লালপুরে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন লালপুরে ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ

গ্রামের পর গ্রাম গিলছে নদী, আতঙ্কে ২০ হাজার পরিবার

  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ১১:০১:৩৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ১১:০১:৩৪ অপরাহ্ন
গ্রামের পর গ্রাম গিলছে নদী, আতঙ্কে ২০ হাজার পরিবার ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ছোট ফেনী নদীর পাড়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বিভীষিকাময় দিন। প্রতিদিন ভাঙছে নদীর পাড়, বিলীন হচ্ছে, ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকান, কৃষি জমিসহ জীবনের সবকিছু। অথচ এসব মানুষের দীর্ঘশ্বাস, কান্না, আর্তনাদ যেন কেউ শুনছে না। কেউ দেখছে না। বহু জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। 

জানা গেছে, গত বছরের বন্যার প্রভাবে মুছাপুর রেগুলেটর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীর দুপাশে অস্বাভাবিক জোয়ারে ভাঙন দেখা দেয়। চর মজলিশপুর, বগাদানা, চরদরবেশ, চর চান্দিয়া চর পারবতি, চর হাজারী ও মুছাপুর ইউনিয়নের নদীর পাড়ের অংশে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের বসবাসরত ২০ হাজারের অধিক পরিবারের। শতশত পরিবারের সহায়-সম্পদ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ছোট ফেনী নদী সেতু, ইতালি মার্কেট তালতলা এলাকা, কাজির হাটসংলগ্ন বাঁশ বাজার, দাগনভুইয়া উপজেলার জগতপুর, করিমপুর, তালতলীসহ চরমজলিসপুর, মিয়াজী ঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাভাবিক জোয়ারে লোনাপানি প্রবল স্রোতে লোকালয়ে ঢুকছে। এতে করে নদীর দুপাশ ভাঙছে। 

স্থানীয়রা বলছেন, অস্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার কারণে ভাঙছে পাড়সহ পাড়ে থাকা পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি। এতে করে পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন।

স্থানীয় ওয়ালী-আল হায়দারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, মুছাপুর ক্লোজারের পুনর্নির্মাণ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকায় ছোট ফেনী নদীর উপকূলে বসবাসরত হাজারো মানুষ আজ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নদী-ভাঙনের মুখে পড়ছে তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। নদীর ধারে বসবাসরত গরীব কৃষকদের বহু জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেসব জমি তারা বর্গা নিয়ে চাষ করতেন, এখন সেগুলো হারিয়ে জীবিকা নির্বাহে চরম সংকটে পড়েছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো নদী-ঘেঁষা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবং সেখানকার শিক্ষার্থীরা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জোর দাবি জানাচ্ছেন বিলম্ব না করে অতিদ্রুত মুছাপুর ক্লোজারের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হোক।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক মারুফ বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ভাঙার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই এ দেশের প্রশাসন বা সরকার কর্তৃক মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু মুসা রকি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ার পর নদীর পাড় প্রতিনিয়তই ভাঙছে। যেগুলো জরুরি ভিত্তিতে করা দরকার, আমরা এগুলো চিহ্নিত করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কাজীর হাট আউরার খীলের জলদাস পাড়া এলাকায় ৩০০ মিটারের একটি পাইলটিং প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এটি জিও টিউবের কাজ। আমরা এখন পর্যন্ত ৮০ মিটার ডাম্পিং সম্পন্ন করেছি। আরও যে বাকি অংশগুলো আছে, সেগুলো ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। এ ছাড়া নদী শাসন করা যায় কিনা, এ বিষয়টি নিয়েও কাজ করছি।

জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন বলেন, প্রতিনিয়ত ভাঙনে সোনাগাজী মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। যে হারে কৃষি জমি ভাঙছে, এতে করে কৃষক তার শেষ অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছে। অতিদ্রুত মুছাপুর ক্লোজারের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হোক এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাইন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ার পর জোয়ার-ভাটায় কৃষি জমি ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে এবং জোয়ারের পানি নদী থেকে খাল হয়ে কৃষি জমিতে ঢুকে যাচ্ছে। এতে করে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ হলে আশাকরি কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হবে না। এতে করে কৃষি জমিও ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিগ্যান চাকমা জানান, আমি সোনাগাজীতে নতুন জয়েন করেছি। চলতি মাসের ৩০ তারিখে ফেনী বাসীদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটা সভা আছে। ওইখানে মুছাপুর রেগুলেটরের বিষয়টি উপস্থাপন করব। আশাকরি, ওখান থেকেও একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) অলোক দাশ বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ নিয়ে স্পেসিফিক কোনো তথ্য আমার জানা নেই। এটি নিয়ে ঊর্ধ্বতনরা ভালো বলতে পারে। ভাঙন রোধে কিছু জরুরি স্পট চিহ্নিত করেছি। এগুলোতে টেকসই কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া এডিবির অর্থায়নে কিছু কাজ হবে। এ জন্য আমরা স্টিমেট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করেছি। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য, বিশ্বে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান

THE Sustainability Impact Ratings 2026-এ রুয়েটের সাফল্য, বিশ্বে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান