ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুঠিয়ায় ফের ভেকু মেশিন নিস্ক্রীয় তানোরে সরকারি খাস জায়গায় পাকা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক সেলিম রেজা ​দুর্গাপুরে ড্রেজার মেশিন জব্দ ও ভাসমান ভেলা ধ্বংস মোহনপুরে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল মোহনপুরে সিসিডিবি উদ্যোগে শীতার্ত জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ ​নোয়াখালীতে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনা প্রচারণায় রাতে শীতার্তদের মাঝে বিজিবির কম্বল বিতরণ নোয়াখালীতে জমির বিরোধে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় নগরীর রাজপাড়ায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নগরীতে আ’লীগ নেতা ও রাবি সেকশন অফিসার পলাশ সহ গ্রেফতার ৩৪ নগরীতে ট্যাপেন্টাডল-সহ ৫ কারবারি গ্রেফতার রাজশাহীতে মাদক প্রতিরোধে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে বিভাগীয় মতবিনিময় সভা চাইলে পরে ঠিক, সিল দিন টিক, অধ্যাপক আলী রীয়াজ গুণগতমান বজায় রেখে দ্রুত রাজশাহী আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ শেষের নির্দেশ নগরীতে পুলিশের অভিযানে আ’লীগ নেতা ও রাবি সেকশন অফিসার সহ গ্রেফতার ৩৪ দামকুড়ায় বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত প্রায় হাটুরে সেলুন; উধাও নাপিত

  • আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৫ ০৭:০৩:৫০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৫ ০৭:০৩:৫০ অপরাহ্ন
তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত  প্রায় হাটুরে সেলুন; উধাও নাপিত তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত প্রায় হাটুরে সেলুন; উধাও নাপিত
রাজশাহীর তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তপ্রায় হাটুরে সেলুন। এক সময় উপজেলার গোল্লাপাড়া, কালীগঞ্জ, কৃষ্ণপুর, মুন্ডুমালা, তালন্দসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে হাটবারে হাটুরে সেলুন বসতে দেখা যেতো।কিন্ত্ত এখন কালের বিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্যে তেমন দেখা যায় না। মানুষ নিজেকে সুন্দর রাখতে কতো কিছুই না করে থাকে। সেই প্রাচীন কাল থেকে মানুষ নিজেকে অপরের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে আসছে। আর পুরুষ মানুষকে সুন্দর করে তোলা যাদের কাজ তাদেরকে বলা হয়, নরসুন্দর। আমরা আঞ্চলিক ভাষায় বলে থাকি নাপিত বা শীল।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এক সময় কাঠের পিড়িতে বসে চুল-দাঁড়ি কাটতে গেলেও ভিড় জমিয়ে অপেক্ষা করতে হতো হাটুরে সেলুনে। নরসুন্দর বা শীলরা তাদের পায়ের হাটু দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতো। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে তানোের উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পিড়িতে বসা ওই সকল হাটুরে সেলুন। আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গতিধারায় এসেছে পরিবর্তন। লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। তাই আজ হাট-বাজারে কড়াই বা বটবৃক্ষের ছায়ায়, খেয়াঘাট ও ফুটপাতে কিংবা গ্রামগঞ্জের জল চৌকিতে বা ইটের ওপরে সাজানো পিড়িতে বসে নাপিতের কাছে গ্রামবাংলার মানুষের চুল দাঁড়ি কাটার সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।

এদিকে জাকজমকপূর্ণ সেলুন সংস্কৃতির ঢেউ এখন শহর থেকে গ্রামের সবখানে।এমনকি শীতাতাপনিয়ন্ত্রণ (এসি) সেলুন এখন গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে দেখা যায়। যার ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই পেশা নির্ভর গ্রামাঞ্চলের নরসুন্দররা। তারপরও কিছু সাধারণ মানুষ আজও অবলীলায় ইটে কিংবা জল চৌকিতে বসে হাটুর কাছে এখনো মাখা পেতে দেন বলেই কয়েকজন হাটুরে নরসুন্দর বেঁচে আছেন এই প্রাচীন পেশা ধরে। তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মালার মোড়ে এখনো বাপ দাদার পেশা আজও আকড়ে ধরে আছেন এক নরসুন্দর। বহু বছর ধরে এ কাজ ধরে রেখেছেন। আগে এ পিড়িতে বসে কাজ করিয়ে ভালো মতো তাদের সংসার চললেও বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ নরসুন্দরের। আধুনিকত্বের ছোঁয়া বাদ দিয়ে বাপ দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন রণজিৎ শীল ও ভুপেন শীল। চৌবাড়িয়া হাটে হঠাৎ করেই রণজিৎ শীলের এই হাটুরে সেলুন দেখে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। এসময় নরসুন্দর রণজিৎ শীল জানান, প্রায় ৪০ বছর যাবত বাপ-দাদার ঐতিহ্য পেশা ধরে রেখে পিড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল-দাঁড়ি কামাচ্ছি। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষজন সেলুনমুখী হয়ে গেছে। মাটিতে বসে চুল-দাঁড়ি কাটতে চায়না, এখন খুব কমই মিলে। আয় রোজগার তেমন নেই। বলতে পারেন বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছি মাত্র।

চৌবাড়িয়া হাটের অপর এক হাটুরে নরসুন্দর কমল শীলের চুল কাটার দৃশ্য, প্রায় ৪০ বছর ধরে পিড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল দাঁড়ি কামানোর কাজ করছেন। তিনি জানান, মাটিতে এভাবে বসে কেউ আর চুল দাঁড়ি কাটাতে চায়না, কারণ সেলুনে চেয়ারে বসে কাটতে পারে। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারি না। তবে দিন শেষে প্রায় ৩ থেকে ৪শ" টাকা কামাতে পারি। বয়সের ভারে এখন আর তেমন কাজ করতে ইচ্ছে হয় না।

শুধু ঐতিহ্যটাকে ধরে রেখেছি। চুল দাঁড়ি কাটতে আসা  দিনমজুর তৈয়ব আলী বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর যাবত দাদার এখানে চুল দাঁড়ি কামাতে আসি। চুল দাঁড়ি কামাতে আমার বাবাও সকাল বেলা নিয়ে যেতো দাদার কাছে। পিড়িতে বসে কাটানোর অভ্যাসটি হয়তো আর ছাড়তে পারবো না। আবার টাকাও কম লাগে। চুল দাঁড়ি কাটাতে আসা ওবাইদুর নামে অপর এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন যাবত দাদার এখানে চুল দাঁড়ি কাটাই। মাত্র ৪০ টাকা দিতে হয়। আধুনিক সেলুনে কাটালে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আয় রোজগার কম তাই এখানে চুল দাঁড়ি কাটাতে চলে আসি। পুরুষের সৌন্দর্য বর্ধন করার কৌশলগত কারণে শীলদের প্রয়োজনীয়তা ও কদর ফুরাবেনা। কিন্তু হাট বাজারে সাজানো পিড়িতে বসে চুল দাঁড়ি কাটার সেই দৃশ্য কালের বিবর্তনে হয়তো এক সময় হারিয়ে যাবে।তবে স্মৃতির পাতা থেকে নরসুন্দররা কখনো হারিয়ে যাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় নগরীর রাজপাড়ায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় নগরীর রাজপাড়ায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত