ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি চেয়ারম্যানের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু নিয়ামতপুরে ২০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ১ জামায়াত সেই এমপিকে বহিষ্কার করল সহজে করা যায় এমন ৬ নেক আমল একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন চাঁদপুরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন রাণীনগর থানাপুলিশের অভিযানে ৩জন গ্রেফতার, চুরির ৫গরু উদ্ধার খুদেকে আইসক্রিম ভেবে ফ্রোজেন ডেসার্ট কিনে দিচ্ছেন না তো, ক্ষতি হতে পারে! গুরুদাসপুরে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সংবাদ সম্মেলন নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬ এমপি নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত জিয়াউর রহমানে দর্শনের আলোকেই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তথ্যমন্ত্রী রাজশাহী মহানগরীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির ২৮তম সভা অনুষ্ঠিত সিংড়ার চলনবিলে জলাবদ্ধতা নিরসনে কচুরিপানা পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন জরুরি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি, জেলা প্রশাসন, রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলকে ‘স্মার্ট কৃষি অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই চেয়ারম্যান তুহিন দীর্ঘ ১৯বছর পর যৌথ বাহিনীর জব্দ করার বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু নগরীতে ৫’জন মাদক কারবারি-সহ গ্রেফতার ১৮ রাজশাহী নগরীতে কিছুক্ষণ ভারী বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা

পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

  • আপলোড সময় : ০৯-০৭-২০২৫ ০৩:২২:১৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৭-২০২৫ ০৩:২২:১৪ অপরাহ্ন
পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ছবি: সংগৃহীত
বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বসতঘর, দোকানপাটসহ কমপক্ষে ২৬টি স্থাপনা। বর্তমানে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে অন্তত ৬০০ পরিবারের। 

ভাঙন শুরুর পর থেকে আজ বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত বাঁধটির ১৩০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে।  

স্থানীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভাঙন আতঙ্কে ইতোমধ্যে নদীর পাড় থেকে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন অনেকেই। স্থানীয়দের শঙ্কা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীতে বিলীন হবে রাস্তাঘাট, হাট-বাজারসহ শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে জাজিরার আলম খার কান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সি কান্দি ও ওছিম উদ্দিন মুন্সি কান্দি গ্রামের অন্তত ৬০০ পরিবারের। অন্যদিকে ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদ্মা পাড়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় এক হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।

২০১০-২০১১ অর্থবছরে পদ্মা সেতু থেকে মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা। গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকে বাঁধের নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকায় ধস শুরু হয়। 

গত বছরের ১৬ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার ধসে পড়ে নদীতে। এতে কংক্রিটের সিসি ব্লকগুলো তলিয়ে যায় পানিতে। এছাড়া এলাকাটির আশপাশে দেখা দেয় ফাটল। পরে বাঁধটির সংস্কারে দায়িত্ব দেওয়া হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। গত বছর ওই বাঁধের যে ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছিল সেখানে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও সিসিব্লক ফেলার কাজ শুরু হয়। 

এদিকে, গত ঈদের দিন ভোররাতে সংস্কার করা বাঁধের ১০০ মিটার অংশসহ পাশের আরও একটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়। একদিনের মধ্যে বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। এরপরই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নতুন করে জিওব্যাগ ডাম্পিং করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। মাত্র দুই ঘণ্টার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয় ১৬টি বাড়ি ও ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাঙন আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয় ১৫টি দোকান।

মঙ্গল মাঝির ঘাট বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, আকস্মিক ভাঙনের কারণে শ্রমিক সংকট শুরু হয়েছে। এজন্য পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। যেকোনো উপায়ে ভাঙন রোধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি আমরা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন হাওলাদার বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পাড়ের কাছে চলে আসায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর থেকে এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমরা চাই, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, বাঁধের ১৩০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইতোমধ্যে কিছু বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রায় ৯০ জন শ্রমিক নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পদ্মার পাড়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় এক হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেছি। ভাঙন রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চলছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া ২৬টি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই বান টিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
রাজশাহী মহানগরীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির ২৮তম সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী মহানগরীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির ২৮তম সভা অনুষ্ঠিত