মাঠজুড়ে সবুজ আর সোনালি ধানের সমারোহ। বাতাসে দুলছে পাকা আমনের শীষ। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সোনালি ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে। কৃষি বিভাগও এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদের কথা জানিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ ও শ্রমের তুলনায় এ দাম সন্তোষজনক নয়। ফলে ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
গোদাগাড়ীর আদর্শ কৃষক আলহাজ আব্দুল মতিন ও আল মামুন জানান, গত বোরো মৌসুমে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে আমন চাষ করেছিলেন। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম। আগাম জাতের পারিজা ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। ধান কাটার পর অনেক জমিতে বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, মূলা, মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।
গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্গাচাষি আতিউর রহমান আতি বলেন, এবার প্রাকৃতিক বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে সাত বিঘা জমিতে গুটি স্বর্ণা ধানের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীর ৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ২৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উপজেলায় গুটি স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, সুমন স্বর্ণা, পাইজাম, জিরাশাইল, ব্রি-২৯সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সুগন্ধি চিনিআতপ ধানের আবাদও বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, এবার বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও সার-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষকদের অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। বর্তমানে মাঠে বড় ধরনের পোকার আক্রমণও নেই।
উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর। এর মধ্যে সেচের আওতায় রয়েছে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমি। এক ফসলি জমি ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলি ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর এবং তিন ফসলি জমি ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং জমির যথাযথ পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার উপজেলায় কোথাও উল্লেখযোগ্য পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পুরোদমে আমন ধান কাটা শুরু হবে। এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। ধান কাটার পর কৃষকরা একই জমিতে গম, ভুট্টা, আলু, ছোলা, মসুর, সরিষাসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসল ও শাকসবজি আবাদ করবেন।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের আমন চাষে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
ধান কাটার পর অনেক জমিতে সরিষা, গম, ছোলা, মসুর ও শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হবে। এতে একদিকে যেমন জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তবে ভালো ফলনের সুফল পেতে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।#
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সোনালি ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে। কৃষি বিভাগও এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদের কথা জানিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ ও শ্রমের তুলনায় এ দাম সন্তোষজনক নয়। ফলে ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
গোদাগাড়ীর আদর্শ কৃষক আলহাজ আব্দুল মতিন ও আল মামুন জানান, গত বোরো মৌসুমে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে আমন চাষ করেছিলেন। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম। আগাম জাতের পারিজা ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। ধান কাটার পর অনেক জমিতে বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, মূলা, মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।
গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্গাচাষি আতিউর রহমান আতি বলেন, এবার প্রাকৃতিক বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে সাত বিঘা জমিতে গুটি স্বর্ণা ধানের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীর ৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ২৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উপজেলায় গুটি স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, সুমন স্বর্ণা, পাইজাম, জিরাশাইল, ব্রি-২৯সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সুগন্ধি চিনিআতপ ধানের আবাদও বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, এবার বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও সার-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষকদের অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। বর্তমানে মাঠে বড় ধরনের পোকার আক্রমণও নেই।
উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর। এর মধ্যে সেচের আওতায় রয়েছে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমি। এক ফসলি জমি ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলি ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর এবং তিন ফসলি জমি ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং জমির যথাযথ পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার উপজেলায় কোথাও উল্লেখযোগ্য পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পুরোদমে আমন ধান কাটা শুরু হবে। এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। ধান কাটার পর কৃষকরা একই জমিতে গম, ভুট্টা, আলু, ছোলা, মসুর, সরিষাসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসল ও শাকসবজি আবাদ করবেন।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের আমন চাষে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
ধান কাটার পর অনেক জমিতে সরিষা, গম, ছোলা, মসুর ও শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হবে। এতে একদিকে যেমন জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তবে ভালো ফলনের সুফল পেতে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।#
নিজস্ব প্রতিবেদক