ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
​রাজশাহীতে ২৫ কেজির বেশি কষ্টিপাথরের শিবমূর্তি উদ্ধার বিজিবির বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার উপহার পেয়েছিলেন সেলিনা জেটলি পরিচালকের কাছ থেকে রাত কাটানোর প্রস্তাব পান অভিনেত্রী, এরপর যা ঘটল ইরানে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে দেশে ফেরেন ছামছুল, অতঃপর... সাতকানিয়ার হত্যা মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল সড়ক দুর্ঘটনা রোধে রাজশাহীতে নিসচার রোড ক্যাম্পেইন পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মনিকা, অতঃপর... হাটহাজারীতে এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার কাটাখালী থানার মিডিলচরে ভারতীয় মদ জব্দ লালপুরে পরিত্যক্ত ব্যাগে গুলি ও ওয়াকিটকি উদ্ধার বিরোধী দলকে ভোট দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে,নির্বাচনী প্রচারনায়-মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না- ইসি সানাউল্লাহ মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল মায়ের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ প্রসঙ্গে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ময়মনসিংহে স্কুলের ভেতরেই শিক্ষক-শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু এক রাতেই ইউক্রেনের ৯০২ ড্রোন ভূপাতিত: রাশিয়া

বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১২:৫০:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১২:৫০:৩৩ অপরাহ্ন
বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবেশ ও সমুদ্রভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হওয়া পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সম্মেলনের আয়োজন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি থেকে এখন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও কৃষিসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সেল কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন বলে জানান তিনি। এসব কর্মী তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু সনদ অর্জনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে স্কুলের পোশাক, ব্যাগ, দুপুরের খাবার ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অগ্রগতির বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা হবে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পানি নিরাপত্তার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও বলেন তিনি।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য তুলে ধরেন তারেক রহমান। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে হবে। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। শান্তি ও সম্প্রীতিকে যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

চলতি বছরের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, গবেষক, সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘বিভাজন, সীমান্ত ও ভবিষ্যৎ: পরিবর্তিত বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’।

নিউজটি আপডেট করেছেন : md.masudrana2008@gmail.com

কমেন্ট বক্স
​রাজশাহীতে ২৫ কেজির বেশি কষ্টিপাথরের শিবমূর্তি উদ্ধার বিজিবির

​রাজশাহীতে ২৫ কেজির বেশি কষ্টিপাথরের শিবমূর্তি উদ্ধার বিজিবির