আউশের ফলনও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। কিন্তু সেই সোনালি ধানই এখন কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উৎপাদন করে ঘরে তোলার পর বাজারে এসে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় হিসাব মিলছে না কৃষকের।
অনেক ক্ষেত্রে ধান বিক্রি করে উঠছে না উৎপাদন খরচও। ফলে বাম্পার ফলনের আনন্দ ¤øান হয়ে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকের। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ধানের বাজারদর কমছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের চাপ, পারিবারিক ব্যয় ও পরবর্তী আমন চাষের প্রস্তুতির খরচ। ফলে আউশের ধান ঘরে উঠলেও কৃষকের হাতে থাকছে না কাঙ্খিত আয়।
কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে মাঠে বাম্পার ফলনের পরও কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে না। বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামনে আমন মৌসুমেও একই সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলার কয়েকটি ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, জিরোশাইল, কাটারি ও বিআর-২৮ জাতের ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বিপরীতে বেড়েছে চাষাবাদের প্রায় প্রতিটি খাতের ব্যয়। সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত এবং শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ভালো ফলন পেয়েও লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, অনেক কৃষককে মুলধন হারানোর আশঙ্কায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে ফুলবাড়ী উপজেলায় এবার আবাদ হয়েছে ২৩০ হেক্টর। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬৬৭ মেট্রিক টন ধান।
কৃষকদের হিসাব মতে, এবার এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হিসাবে বিক্রি করলে এক বিঘা জমির ধান থেকে কৃষকের আয় হচ্ছে প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ধানের ফলন ভালো হলেও বিক্রির টাকায় অনেকের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
উপজেলার উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম মেলাবাড়ী হাটে ধান নিয়ে এসেছিলেন। বাজারদর নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধানের দাম খুব কম। এই দামে ধান বিক্রি করলে চাষের খরচই উঠবে না। কিন্তু সংসারের খরচ আছে। তাই বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের ধানের হাটে ১২ মণ জিরোশাইল ধান নিয়ে এসেছিলেন মহিষবাতান গ্রামের কৃষক গোপালপুর গ্রামের যোতিশ চন্দ্র। তিনি বলেন, “দাম শুনে আর কী হবে। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখে না। প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা দরে বিক্রির কথা বলছিল। ধান বাজারে আনতেই পরিবহন খরচ হয়েছে। এখন ধান বিক্রি না করে বাড়ি নিয়ে গেলে আবার ভাড়া দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতি মণ ৮৯০ টাকা দরে ১০ মণ ধান বিক্রি করেছি। অথচ গত বছর একই আউশ ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলাম।”
উপজেলার পূর্বনারায়নপুর গ্রামের সামুয়েল হেম্ব্রম চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ আবাদ করেছেন। চাষের জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিয়ে “চার বিঘা জমিতে আউশ চাষ করতে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ এবং সংসারের ব্যয় মেটানো নিয়ে তিনি এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।”
ফুলবাড়ী সদরের ধান আড়তদার সোহাগ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আউশ ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া সহ আবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকছে। তবে আগামীতে উপজেলায় আউশের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ধান বিক্রি করে উঠছে না উৎপাদন খরচও। ফলে বাম্পার ফলনের আনন্দ ¤øান হয়ে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকের। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ধানের বাজারদর কমছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের চাপ, পারিবারিক ব্যয় ও পরবর্তী আমন চাষের প্রস্তুতির খরচ। ফলে আউশের ধান ঘরে উঠলেও কৃষকের হাতে থাকছে না কাঙ্খিত আয়।
কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে মাঠে বাম্পার ফলনের পরও কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে না। বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামনে আমন মৌসুমেও একই সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলার কয়েকটি ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, জিরোশাইল, কাটারি ও বিআর-২৮ জাতের ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বিপরীতে বেড়েছে চাষাবাদের প্রায় প্রতিটি খাতের ব্যয়। সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত এবং শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ভালো ফলন পেয়েও লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, অনেক কৃষককে মুলধন হারানোর আশঙ্কায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে ফুলবাড়ী উপজেলায় এবার আবাদ হয়েছে ২৩০ হেক্টর। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬৬৭ মেট্রিক টন ধান।
কৃষকদের হিসাব মতে, এবার এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হিসাবে বিক্রি করলে এক বিঘা জমির ধান থেকে কৃষকের আয় হচ্ছে প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ধানের ফলন ভালো হলেও বিক্রির টাকায় অনেকের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
উপজেলার উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম মেলাবাড়ী হাটে ধান নিয়ে এসেছিলেন। বাজারদর নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধানের দাম খুব কম। এই দামে ধান বিক্রি করলে চাষের খরচই উঠবে না। কিন্তু সংসারের খরচ আছে। তাই বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের ধানের হাটে ১২ মণ জিরোশাইল ধান নিয়ে এসেছিলেন মহিষবাতান গ্রামের কৃষক গোপালপুর গ্রামের যোতিশ চন্দ্র। তিনি বলেন, “দাম শুনে আর কী হবে। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখে না। প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা দরে বিক্রির কথা বলছিল। ধান বাজারে আনতেই পরিবহন খরচ হয়েছে। এখন ধান বিক্রি না করে বাড়ি নিয়ে গেলে আবার ভাড়া দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতি মণ ৮৯০ টাকা দরে ১০ মণ ধান বিক্রি করেছি। অথচ গত বছর একই আউশ ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলাম।”
উপজেলার পূর্বনারায়নপুর গ্রামের সামুয়েল হেম্ব্রম চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ আবাদ করেছেন। চাষের জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিয়ে “চার বিঘা জমিতে আউশ চাষ করতে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ এবং সংসারের ব্যয় মেটানো নিয়ে তিনি এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।”
ফুলবাড়ী সদরের ধান আড়তদার সোহাগ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আউশ ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া সহ আবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকছে। তবে আগামীতে উপজেলায় আউশের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
কংকনা রায়, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: