চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মুহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নয়টি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কেরানীহাটে করিমকে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাটি প্রত্যন্ত হওয়ায় ঘটনার তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় করিমকে ঘিরে ধরে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেলে করে আসা সন্ত্রাসীরা বাজারে ঢুকে করিমকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। প্রথমে কিরিচ দিয়ে তার ঘাড় ও মাথায় কোপানো হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে খুব কাছ থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান সম্পর্কেও তথ্য দেন এসপি।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে এক চিকিৎসক পুলিশকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, একটি সন্ত্রাসী চক্র ‘রান’ ও ‘সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে তার কাছে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। চাঁদা না দিলে রোগী সেজে তার চেম্বারে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসপি।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশি নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদাবাজ চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সুপার জানান, চক্রটি কয়েকটি স্তরে ভাগ হয়ে কাজ করে। একটি দল সম্ভাব্য চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। আরেকটি দল তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হামলার জন্য আলাদা সদস্যরা কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা শুধু চাঁদা দাবি বা তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত নয়, চাঁদা না দিলে অ্যাকশন বা গুলি করার মতো কাজেও অংশ নেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানান এসপি।
সংবাদ সম্মেলনে গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়েও কথা বলেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, ওই সময় একটি পক্ষের মহড়ায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। পরে এসব দৃশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর অস্ত্র প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এসপি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাদেক, কামরুল ও হানিফ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদেকের বাড়ির পেছন থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুলের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেলেও সেটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আর হানিফ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় থাকেন।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কেরানীহাটে করিমকে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাটি প্রত্যন্ত হওয়ায় ঘটনার তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। তবে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় করিমকে ঘিরে ধরে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেলে করে আসা সন্ত্রাসীরা বাজারে ঢুকে করিমকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। প্রথমে কিরিচ দিয়ে তার ঘাড় ও মাথায় কোপানো হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে খুব কাছ থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান সম্পর্কেও তথ্য দেন এসপি।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে এক চিকিৎসক পুলিশকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, একটি সন্ত্রাসী চক্র ‘রান’ ও ‘সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে তার কাছে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। চাঁদা না দিলে রোগী সেজে তার চেম্বারে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসপি।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশি নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদাবাজ চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সুপার জানান, চক্রটি কয়েকটি স্তরে ভাগ হয়ে কাজ করে। একটি দল সম্ভাব্য চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। আরেকটি দল তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হামলার জন্য আলাদা সদস্যরা কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা শুধু চাঁদা দাবি বা তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত নয়, চাঁদা না দিলে অ্যাকশন বা গুলি করার মতো কাজেও অংশ নেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানান এসপি।
সংবাদ সম্মেলনে গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়েও কথা বলেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, ওই সময় একটি পক্ষের মহড়ায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। পরে এসব দৃশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর অস্ত্র প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এসপি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাদেক, কামরুল ও হানিফ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদেকের বাড়ির পেছন থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুলের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেলেও সেটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আর হানিফ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় থাকেন।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক