রাজশাহী-১ আসনে (তানোর-গোদাগাড়ী) বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান সময়ের দাবি।এখানে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনকেই চাই তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ।কারণ যেকোনো সংগঠনের কমিটি তখনই কার্যকর হয়, যখন সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষিতদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। শুধু পদ-পদবি দিয়ে একটি সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব, কিন্তু সেই কাঠামোকে শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠনে রূপ দিতে প্রয়োজন যোগ্যতা, ত্যাগ, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা, আদর্শিকতা এবং সর্বোপরি কর্মীদের আস্থা।গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি শুধু কমিটি, পদ-পদবি কিংবা সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল শক্তি নিহিত থাকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থা, অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তায়। সেই আস্থা যখন ক্ষয় হতে শুরু করে, তখন যত বড় কমিটিই গঠন করা হোক না কেন, সংগঠনের ভিত শক্তিশালী হয় না।
এদিকে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির বর্তমান বাস্তবতায় তৃণমূলের প্রত্যাশাও তাই নতুন কোনো বিভাজন নয়; বরং বিশ্বাস ভঙ্গকারী মতলববাজদের সরিয়ে তৃণমূলের আদর্শিক নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও অবিশ্বাস কাটিয়ে একটি আদর্শিক ঐক্যবদ্ধ, যোগ্যতা ভিত্তিক ও কর্মীবান্ধব বিএনপি গড়ে তোলা। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের
নেতৃত্বের প্রতিই তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করছে।
এদিকে বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই অনিয়ম, পক্ষপাত এবং ‘মাই ম্যান কমিটি’ গঠনের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও যোগ্যতা ও ত্যাগের চেয়ে ব্যক্তিগত আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা অনেক নেতাকর্মী প্রত্যাশিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।যার প্রমাণ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন,যেখানে মাইম্যান নিজের আধিপত্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ধরে রাখতে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ে বড় ভুমিকা রেখেছে বলে
তৃণমূলের আদর্শিক নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছে।
অবশ্য এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে এসব অভিযোগ যে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
এ অবস্থায় প্রয়োজন শুধু কমিটি পরিবর্তন নয়; প্রয়োজন মূল্যায়নের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন। যার মুল ভিত্তি হবে দলীয় আনুগত্য ও আদর্শ।আগামী দিনের বিএনপিতে কে কার লোক, কে কার অনুসারী কিংবা কোন বলয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কি ভুমিকা ছিলো,দলীয় মনোনয়ন পাবেন না এটা নিশ্চিত হয়েও কারা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল এসবের মুল্যায়ন করে আদর্শিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে অনেক বড় নেতা, অনেক পেশীশক্তি ও অনেক টাকার মালিক,
লোক দেখানো অনেক দানশীল
কিন্ত্ত নির্বাচনে ভেতরে ভেতরে বেঈমানী এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন সেই নেতৃত্ব যেই নেতৃত্ব কখানো কোনো অবস্থাতেই দল,নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক, শীষ মোহাম্মদ ও এমরান আলী মোল্লার মতো নেতৃত্ব নাই,তাতে কি বিএনপি হারিয়ে গেছে ? তাহলে এখন কিছু চিরচেনা সুবিধাবাদীকে মাইনাস করে কমিটি দিলে সমস্যা কি ? একজন নেতার পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দল,নেতা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য,আদর্শিক, বিশ্বস্ততা ও সততা। এই জায়গাতেই মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বের যৌক্তিকতা সামনে আসে। তাঁর রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘ।
জানা গেছে, মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (গার্ড অব রেজিমেন্ট) নিরাপত্তা প্রধান।বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব হয়েছেন দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।তিনিও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। অন্যরা রাজনীতি করে যেখানে পৌঁচ্ছাতে চাই, সেখান থেকে শরিফ উদ্দিনের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ।
জানা গেছে, বিগত ২০০৩ সালের ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাপত্র। ১৯৯৭ সালের ২৮ জুলাই জাতিসংঘ পদক। ১৯৮৫ সালের ২০ জুলাই নিরাপত্তা পদক। ১৯৮৭ সালের ৮মে জৈষ্ঠতা পদক। ১৯৮৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্লাবন পদক। ১৯৮৯ সালের ১ আগষ্ট দাবানল পদক।১৯৯১ সালের ৩০ এপ্রিল ঘুর্ণিঝড় পদক। ১৯৯৬ সালের ১৩ এপ্রিল সিলভার যুবলী পদক। ১৯৯৭ সালের ২০ জুন দ্বিতীয়বার জৈষ্ঠতা পদক। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল সংসদ নির্বাচক পদক। ১৯৯৮ সালের ২৭ এপ্রিল সুবর্ণ জয়ন্তী পদক। ১৯৯৮ সালের ১৭ মার্চ সংসদ নির্বাচক পদক (দ্বিতীয়) এবং ১৯৯৮ সালের ১৭ মার্চ রক্তদাতা পদক অন্যতম।
সচেতন মহলের অভিমত রাজশাহী-১ আসনে যেহুতু তিনিই নীতিনির্ধারক সংগঠনে পক্ষপাত, অনিয়ম কিংবা যোগ্যতার অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠলে শেষ পর্যন্ত এর রাজনৈতিক দায়ও তাঁকেই বহন করতে হবে। ভবিষ্যতে তাঁকেই জনগণের কাছে যেতে হবে, তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং তাঁদের ভোট চাইতে হবে। এসব বিবেচনায় এখানে বিএনপির রাজনীতির ভার তার ওপরেই দেয়া সময়ের দাবি। তিনি যাদের নিয়ে রাজনীতি করতে স্বাছন্দবোধ করবেন তাদের হাতেই নেতৃত্ব দিবেন।
তৃণমূলের প্রত্যাশা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের যেমন পুনর্বাসন নয় তেমনি কোনো বিশ্বাস ভঙ্গকারীকেও নেতৃত্ব দেয়া নয়।শরিফ উদ্দিনের প্রতি আস্থা কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন নয়; বরং এটি একটি ঐক্যবদ্ধ, যোগ্যতা ভিত্তিক ও কর্মীবান্ধব বিএনপির প্রত্যাশা।
আলিফ হোসেন