বিজিবি সদস্য পরিচয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন প্রতারককে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিজিবির সরকারি পোশাক, ওয়াকিটকি, হাতকড়াসহ দেশীয় অস্ত্র ও তালা কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিজিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
যশোর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন কুমার মন্ডল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার (১ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকার রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ি নং-৭৩১/২-এর তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় বাড়ির মালিক, নিচতলার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে দরজায় কড়া নাড়া হলে ভেতর থেকে একজন নিজেকে বিজিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে দরজা খুলে দেন। পরে ঘরের ভেতরে থাকা আরও দুইজনও নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে দাবি করেন। তবে পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে তারা বিজিবির সদস্য নন।
পুলিশ জানায়, তারা বিজিবির সরকারি পোশাক ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করে আসছিলেন।
পরে কক্ষ তল্লাশি করে খাটের নিচে রাখা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে একটি বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি স্টিলের হাতকড়া, দুটি ওয়াকিটকি, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি কাটারি, একটি লোহা কাটার (গ্রাইন্ডার) মেশিন, একটি তালা কাটার মেশিন, একটি হ্যাকসো ব্লেড, একটি তালা কাটার যন্ত্র এবং একটি নোজ প্লাস উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. উজ্জল হোসেন (৩০), গোগা ইউনিয়নের হরিশচন্দনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে মো. আনারুল ইসলাম (৩২) এবং একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৩০)।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, উজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে পাঁচটি এবং তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক তিনজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ২ আগস্ট যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে অন্য কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি :