নাক ডাকার সমস্যা চিরকালের। সুখের ঘুমের শুরুতেই যদি ঠিক আপনার পাশটি থেকে ভয়ঙ্কর নাসিকা গর্জনের শব্দ ভেসে আসে, তা হলে ঘুমের দফারফা তো হবেই। ঠেলে, ধাক্কা দিয়ে আবার কখনও কিল, ঘুঁষিতে নাসিকা গর্জনের বিকট বেগ একটু থামানো গেলেও, মিনিটখানেক বাদে যে কে সেই! ফলস্বরূপ সকাল-বিকেল সংসারে অশান্তি। নাক ডাকতে ডাকতে আবার দমবন্ধ হয়ে আসার সমস্যাও মারাত্মক। যদিও এখন নানা রকম যন্ত্রপাতি এসে গিয়েছে বাজারে, যা নাক ডাকা বন্ধ করে দেবে বলে দাবি করা হয়। তবে তাতে কাজ কতটা হয়, সে বিষয়ে যথোপযুক্ত তথ্য নেই। কিন্তু একটি যন্ত্রে কাজ হবে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। সেটি হল জিভের পেসমেকার।
প্রায় বিকল হয়ে যাওয়া হৃদ্যন্ত্রকে সচল রাখতে পেসমেকার বসানো হয়, এ তো জানা ছিল। কিন্ত জিভেও পেসমেকার বসানো হয়? সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যা শরীরে বসিয়ে জিভের সঙ্গে সংযুক্ত করলে, তা নাক ডাকা তো থামিয়ে দেবেই, স্লিপ অ্যাপনিয়া, অনিদ্রার সমস্যাও দূর করবে বলে দাবি করা হয়েছে। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু বা জটিল শারীরিক সমস্যায় শয্যাশায়ী রোগীকে ঘুম পাড়াতে ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এরই নাম ‘টাং পেসমেকার’। জুরিখ ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি এই বিশেষ যন্ত্রটি নিয়ে গবেষণা করছেন হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরাও।
জিভের পেসমেকার কী?
নাক ডাকার সমস্যা অনেকেরই আছে। তা অতি সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বিপদ ঘনায় যখন নাক ডাকার সময়ে ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। অথবা বার বার শ্বাস আটকে যায়, মারাত্মক কাশি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এর কারণে ঘুমের সময়ে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হতে থাকে, ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। যা পরবর্তীতে ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া, রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। গবেষণা বলছে, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যারিদ্মিয়ার সঙ্গেও স্লিপ অ্যাপনিয়ার যোগসূত্র রয়েছে।
এমন রোগ নির্মূল হয় না সহজে। এর থেকে অনিদ্রার সমস্যাও হানা দেয়। ঘুমের সময়ে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ‘স্নোরিং স্প্লিন্ট’, ‘সিপ্যাপ’-এর মতো যন্ত্র আছে ঠিকই, তবে সেগুলি ঘুমের সময়ে পরে থাকা খুবই অস্বস্তিকর। সে জায়গায় জিভের পেসমেকার কার্যকরী হতে পারে বলেই মত গবেষকদের। এই যন্ত্রটি অস্ত্রোপচার করে কলারবোনের কাছে লাগিয়ে দেওয়া হয়। কলারবোন হল বুকের উপরের অংশের সরু ও লম্বা হাড়, যাকে বলে ক্ল্যাভিকল। এটি বুকের মাঝের হাড়ের সঙ্গে কাঁধের হাড়কে সংযুক্ত করে রাখে। সাধারণ অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে এই কলারবোনের কাছেই বসিয়ে দেওয়া হয় পেসমেকারটি। এই যন্ত্রে থাকে একটি ইলেকট্রোড, যাকে তারের সাহায্যের চোয়ালের নীচের অংশের স্নায়ুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই স্নায়ুটি সরাসরি জিভের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে শ্বাস নেওয়ার সময়ে যন্ত্রটি স্নায়ুতে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ পাঠায়, যাতে জিভটি সামনে এগিয়ে আসে। ফলে মুখের ভিতরের অংশে বাতাস চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়। শ্বাস ছাড়ার সময়ে জিভ আবার শিথিল হয়ে যায়। প্রতি বার শ্বাসগ্রহণের সময় এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, রিমোর্ট দিয়ে যন্ত্রটি অন-অফ করা যায়। রাতে ঘুমোনোর সময়ে অন করে আবার সকালে উঠে অফ করে দেওয়া যায়। এই পেসমেকারটি ঘুমের সময় পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক রাখে বলেই দাবি করেছেন গবেষকেরা।
তবে জিভের পেসমেকার সকলের জন্য নয়। মুখ ও জিভের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি কার্যকর হবে না। আবার শরীরে আগে থেকেই পেসমেকার বসানো থাকলে, এমন যন্ত্র বসানো বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রায় বিকল হয়ে যাওয়া হৃদ্যন্ত্রকে সচল রাখতে পেসমেকার বসানো হয়, এ তো জানা ছিল। কিন্ত জিভেও পেসমেকার বসানো হয়? সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যা শরীরে বসিয়ে জিভের সঙ্গে সংযুক্ত করলে, তা নাক ডাকা তো থামিয়ে দেবেই, স্লিপ অ্যাপনিয়া, অনিদ্রার সমস্যাও দূর করবে বলে দাবি করা হয়েছে। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু বা জটিল শারীরিক সমস্যায় শয্যাশায়ী রোগীকে ঘুম পাড়াতে ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এরই নাম ‘টাং পেসমেকার’। জুরিখ ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি এই বিশেষ যন্ত্রটি নিয়ে গবেষণা করছেন হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরাও।
জিভের পেসমেকার কী?
নাক ডাকার সমস্যা অনেকেরই আছে। তা অতি সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বিপদ ঘনায় যখন নাক ডাকার সময়ে ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। অথবা বার বার শ্বাস আটকে যায়, মারাত্মক কাশি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এর কারণে ঘুমের সময়ে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হতে থাকে, ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। যা পরবর্তীতে ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া, রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। গবেষণা বলছে, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যারিদ্মিয়ার সঙ্গেও স্লিপ অ্যাপনিয়ার যোগসূত্র রয়েছে।
এমন রোগ নির্মূল হয় না সহজে। এর থেকে অনিদ্রার সমস্যাও হানা দেয়। ঘুমের সময়ে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ‘স্নোরিং স্প্লিন্ট’, ‘সিপ্যাপ’-এর মতো যন্ত্র আছে ঠিকই, তবে সেগুলি ঘুমের সময়ে পরে থাকা খুবই অস্বস্তিকর। সে জায়গায় জিভের পেসমেকার কার্যকরী হতে পারে বলেই মত গবেষকদের। এই যন্ত্রটি অস্ত্রোপচার করে কলারবোনের কাছে লাগিয়ে দেওয়া হয়। কলারবোন হল বুকের উপরের অংশের সরু ও লম্বা হাড়, যাকে বলে ক্ল্যাভিকল। এটি বুকের মাঝের হাড়ের সঙ্গে কাঁধের হাড়কে সংযুক্ত করে রাখে। সাধারণ অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে এই কলারবোনের কাছেই বসিয়ে দেওয়া হয় পেসমেকারটি। এই যন্ত্রে থাকে একটি ইলেকট্রোড, যাকে তারের সাহায্যের চোয়ালের নীচের অংশের স্নায়ুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই স্নায়ুটি সরাসরি জিভের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে শ্বাস নেওয়ার সময়ে যন্ত্রটি স্নায়ুতে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ পাঠায়, যাতে জিভটি সামনে এগিয়ে আসে। ফলে মুখের ভিতরের অংশে বাতাস চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়। শ্বাস ছাড়ার সময়ে জিভ আবার শিথিল হয়ে যায়। প্রতি বার শ্বাসগ্রহণের সময় এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, রিমোর্ট দিয়ে যন্ত্রটি অন-অফ করা যায়। রাতে ঘুমোনোর সময়ে অন করে আবার সকালে উঠে অফ করে দেওয়া যায়। এই পেসমেকারটি ঘুমের সময় পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক রাখে বলেই দাবি করেছেন গবেষকেরা।
তবে জিভের পেসমেকার সকলের জন্য নয়। মুখ ও জিভের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি কার্যকর হবে না। আবার শরীরে আগে থেকেই পেসমেকার বসানো থাকলে, এমন যন্ত্র বসানো বিপজ্জনক হতে পারে।
ফারহানা জেরিন