২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের মাত্র কয়েক দিন আগে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে বড় আইনি ধাক্কা খেল ফিফা। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি আদালত ফিফার টিকিট বিক্রির কিছু পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, যা অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান টিকোম্বো (Ticombo) 'বিভ্রান্তিকর ও কৌশলী' বলে দাবি করেছে।
আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, আদেশ অমান্য করলে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ডলার) পর্যন্ত জরিমানা বা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। এই নির্দেশনা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বার্লিনভিত্তিক অনলাইন টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকোম্বো মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, এই মামলার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরেও স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী মার্সাল গুতিয়েরেস নিউজউইককে বলেন, “আমরা ভোক্তা সুরক্ষা ও স্বচ্ছতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। টিকিটিং শিল্পের সব পক্ষের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সেই কারণেই আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”
ফিফা এখনো আদালতের আদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি আদালতের শুনানিতেও উপস্থিত ছিল না।
ফিফার টিকিট বিক্রি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই অস্বাভাবিক টিকিট মূল্য এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে সমালোচনা চলেছে।
ফিফার দাবি, ব্যাপক চাহিদার কারণেই টিকিটের দাম বেড়েছে। কিন্তু এ ব্যাখ্যা সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভক্তদের একাধিক মামলা এবং আয়োজক শহরগুলোর তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে সংস্থাটি।
মে মাসের শেষদিকে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট যৌথভাবে ফিফার টিকিট বিক্রি ব্যবস্থা তদন্তে সমন জারি করেন।
ড্যাভেনপোর্ট অভিযোগ করেন, ফিফা টিকিট কেনার প্রক্রিয়াকে “বিভ্রান্তি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের এক গোলকধাঁধায়” পরিণত করেছে।
নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, সাম্প্রতিক সংবাদে ইঙ্গিত মিলেছে যে অনেক ভক্তকে আসনের অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং ফিফার টিকিট প্রকাশ ও জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্য মূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার স্যামুয়েল এ. এ. লেভিন বলেন, এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
টিকোম্বোর অভিযোগ কী?
টিকোম্বোর অভিযোগ, ফিফা তাদের অফিসিয়াল পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে টিকিট বিক্রেতাদের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রেখেছে, ফলে বাণিজ্যিক বিক্রেতারা সাধারণ সমর্থকের পরিচয়ে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করতে পেরেছেন।
এছাড়া প্রাথমিক টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটেও "বেইট-অ্যান্ড-সুইচ প্রাইসিং" ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে কম দাম দেখিয়ে পরে চেকআউটের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের আগেও চাপ অব্যাহত থাকবে
এই আদালতের আদেশ কেবল জার্মানিতে কার্যকর এবং চলমান বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে এর বাস্তব প্রভাব পড়ার মতো সময় নেই। তবে টিকোম্বো জানিয়েছে, মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে অনুষ্ঠেয় ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে ফিফার টিকিট বিক্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার জন্য তারা আইনি ও নীতিগত চাপ অব্যাহত রাখবে।
টিকোম্বোর আইনজীবী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ চায় না। তাদের লক্ষ্য হলো এই রায়ের মাধ্যমে ফিফাসহ টিকিটিং শিল্পের সব পক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে স্বচ্ছতা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, আদেশ অমান্য করলে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ডলার) পর্যন্ত জরিমানা বা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। এই নির্দেশনা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বার্লিনভিত্তিক অনলাইন টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকোম্বো মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, এই মামলার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরেও স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী মার্সাল গুতিয়েরেস নিউজউইককে বলেন, “আমরা ভোক্তা সুরক্ষা ও স্বচ্ছতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। টিকিটিং শিল্পের সব পক্ষের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সেই কারণেই আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”
ফিফা এখনো আদালতের আদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি আদালতের শুনানিতেও উপস্থিত ছিল না।
ফিফার টিকিট বিক্রি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই অস্বাভাবিক টিকিট মূল্য এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে সমালোচনা চলেছে।
ফিফার দাবি, ব্যাপক চাহিদার কারণেই টিকিটের দাম বেড়েছে। কিন্তু এ ব্যাখ্যা সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভক্তদের একাধিক মামলা এবং আয়োজক শহরগুলোর তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে সংস্থাটি।
মে মাসের শেষদিকে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট যৌথভাবে ফিফার টিকিট বিক্রি ব্যবস্থা তদন্তে সমন জারি করেন।
ড্যাভেনপোর্ট অভিযোগ করেন, ফিফা টিকিট কেনার প্রক্রিয়াকে “বিভ্রান্তি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের এক গোলকধাঁধায়” পরিণত করেছে।
নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, সাম্প্রতিক সংবাদে ইঙ্গিত মিলেছে যে অনেক ভক্তকে আসনের অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং ফিফার টিকিট প্রকাশ ও জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্য মূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার স্যামুয়েল এ. এ. লেভিন বলেন, এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
টিকোম্বোর অভিযোগ কী?
টিকোম্বোর অভিযোগ, ফিফা তাদের অফিসিয়াল পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে টিকিট বিক্রেতাদের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রেখেছে, ফলে বাণিজ্যিক বিক্রেতারা সাধারণ সমর্থকের পরিচয়ে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করতে পেরেছেন।
এছাড়া প্রাথমিক টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটেও "বেইট-অ্যান্ড-সুইচ প্রাইসিং" ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে কম দাম দেখিয়ে পরে চেকআউটের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের আগেও চাপ অব্যাহত থাকবে
এই আদালতের আদেশ কেবল জার্মানিতে কার্যকর এবং চলমান বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে এর বাস্তব প্রভাব পড়ার মতো সময় নেই। তবে টিকোম্বো জানিয়েছে, মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে অনুষ্ঠেয় ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে ফিফার টিকিট বিক্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার জন্য তারা আইনি ও নীতিগত চাপ অব্যাহত রাখবে।
টিকোম্বোর আইনজীবী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ চায় না। তাদের লক্ষ্য হলো এই রায়ের মাধ্যমে ফিফাসহ টিকিটিং শিল্পের সব পক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে স্বচ্ছতা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক