ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ , ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের নিষ্ক্রিয় সাইকেল চুরির সন্দেহে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ রাজশাহী সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় কফ সিরাপ জব্দ পুঠিয়ার যাত্রী ছাউনিতে এবার আলো, মোবাইল চার্জের সুবিধা পুঠিয়ার ঐতিহাসিক শিবমন্দিরে গংঙ্গাজল অর্পন রাণীশংকৈলে পরীক্ষার মার্ক বাড়ানোর নামে উৎকোচ ভিডিও ভাইরাল আধুনিক মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা রাজশাহীতে ট্যাপেন্টাডল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ মাদক কারবরি গ্রেফতার ৫ রাজশাহী মহানগরীতে মাদক সেবীসহ, মাদক কারবারি গ্রেফতার ৩ রাজশাহীতে আগাম পদক্ষেপ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব অদম্য মেধাবী ফাহিমের পাশে রাসিক প্রশাসক বিআরটিএ ও ডামের উদ্যোগে ৭৬৮ গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ মান্দায় মাদক মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ড হরমুজ ইস্যুতে এবার ওমানকে বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের বেলজিয়ামে মদের কারখানার ড্রেন খুঁড়ে মিলল ১২৭ কোটি টাকার সোনা! মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হত্যার ভয় দেখিয়ে ৮ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিলেন মা-বাবা স্কুল ছুটির দিনে অন্ধ মায়ের হাত ধরে ভিক্ষা করে নীরব ফসল নষ্ট করায় দুই ছাগলের পা বেঁধে পানিতে ফেলে দিলেন কৃষক

জুহু বিচের নগ্ন দৌড় থেকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, উদ্ধার করা যায়নি তাঁর মৃতদেহ

  • আপলোড সময় : ০৯-০৭-২০২৬ ০৯:১৩:৩৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৭-২০২৬ ০৯:১৩:৩৫ অপরাহ্ন
জুহু বিচের নগ্ন দৌড় থেকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, উদ্ধার করা যায়নি তাঁর মৃতদেহ জুহু বিচের নগ্ন দৌড় থেকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, উদ্ধার করা যায়নি তাঁর মৃতদেহ
প্রতিমা বেদী। নিয়ম না-মানা একটি জীবনের নাম। সামাজিক প্রথা ভাঙার এক প্রতীকের নাম। একসময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা দুঃসাহসিক ঘটনা রীতিমতো ধাক্কা দিয়েছিল ভারতীয় সমাজের গতানুগতিক ধারার মানুষজনকে। তবে শত বিতর্কও তাঁকে টলাতে পারেনি। এমনই দৃঢ়চেতা মহিলা ছিলেন মডেল, ওডিশি নৃত্যশিল্পী প্রতিমা।

১৯৬৯ সালে ২১ বছর বয়সে প্রতিমা বিয়ে করেন অভিনেতা কবীর বেদীকে। দু’জনেই ছিলেন মুক্তচিন্তার মানুষ। ফলে শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্ক সংবাদমাধ্যমের নজরে ছিল। তাঁদের সম্পর্কের বিপক্ষে ছিল দু’জনের পরিবারই। তবে শেষমেশ পরিবারের অমতেই তাঁরা প্রথমে একত্রবাস করতে শুরু করেন। ষাটের দশকের শেষদিকে একত্রবাস বিষয়টাই ছিল ভারতীয় সমাজে প্রায় ‘নিষিদ্ধ’ ব্যাপার!

তবু সেই প্রথা ভাঙতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি প্রতিমা। কিছুদিন একত্রবাসের পরে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের বিয়েটাও ছিল ‘ওপেন ম্যারেজ’। খোলাখুলি শর্তে বিয়ে করেছিলেন প্রতিমা ও কবীর দু’জনেই। শর্ত ছিল, কেউ কারও ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করবেন না। বিয়ে হলেও তাঁরা অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তেই পারেন। সে ব্যাপারেও কেউ কাউকে বাধা দেবেন না। যদিও সেই বিয়ে মাত্র পাঁচ বছর টিকেছিল। তবে দুই সন্তানের স্বার্থে তাঁরা নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছিলেন।

প্রতিমা ছিলেন নিজের শর্তে জীবনযাপন করা একজন নারী। সামাজিক রীতিনীতি, পোশাক, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত মতামত— কোনও ক্ষেত্রেই তিনি প্রচলিত নিয়ম মানতেন না। ১৯৭৪ সালে একটি চলচ্চিত্র পত্রিকার প্রচারের জন্য মুম্বইয়ের জুহু বিচে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে দৌড়েছিলেন প্রতিমা। রাতারাতি সাড়া ফেলেছিল এই ঘটনা। কেউ কেউ এটিকে নারীর স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। আবার অনেকেই কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার পরে স্বামী কবীরের সঙ্গেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল তাঁর। সেই বছরেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

একজন নারী হিসাবে প্রতিমা এমন একটা সময়ে দুঃসাহসিক সব কাণ্ড বাধিয়েছেন, যখন এ দেশে নারীস্বাধীনতার ঢেউ সে ভাবে এসে পড়েনি। এর বছর কুড়ি আগে (১৯৪৯) ফরাসি সমাজতত্ত্ববিদ ও দার্শনিক সিমঁ দ্যু বোভোয়ার লেখা বই ‘দ্য সেকেন্ড সেক্স’ ঝড় তুলেছে পশ্চিমি দুনিয়ায়। নারীবাদের মর্মকথা নিয়ে লেখা সেই বইয়ের বার্তা এসে পৌঁছেছে এ দেশের বিদগ্ধমহলেও। কিন্তু দেশের সমাজে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা ছিল না। সেই আবহে প্রতিমার সেই সব প্রথাভাঙা কর্মকাণ্ডকে নারীস্বাধীনতার দিকচিহ্ন হিসাবেও দেখা হয়।

নিজের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়েও রাখঢাক করেননি প্রতিমা। পরে নিজের লেখায় এবং সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন, বিবাহিত অবস্থায় তিনি অন্য এক ব্যক্তির প্রেমে পড়েছিলেন। এই স্বীকারোক্তি সেই সময়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকের মতে, এই সম্পর্কই তাঁদের দাম্পত্যভাঙনের অন্যতম কারণ ছিল। অন্য দিকে, বিচ্ছেদের সময় কবীরের সঙ্গে অভিনেত্রী পরবীন বাবীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন শুরু হয়। পরে দু’জনেই প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন।

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কবীর-প্রতিমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সেই সময় বলিউডে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এতটা প্রকাশ্যে আসত না। ফলে বিবাহবিচ্ছেদের আলোচনা ছিল সেই সময়ের অন্যতম বড় খবর।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ হলেও সন্তানদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দু’জনেই দায়িত্ব সমান ভাবে পালন করেছিলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কবীর জানিয়েছেন, মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিমার প্রতি তাঁর সম্মান কখনও পুরোপুরি নষ্ট হয়নি।

বিবাহবিচ্ছেদের পরে প্রতিমা অভিনয় ও মডেলিং থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছিলেন। পরবর্তী কালে ওডিশি নৃত্যের সাধনায় নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করেন। ওডিশি নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের কাছে শিক্ষা নিতে শুরু করেন। পরে তিনি ‘নৃত্যগ্রাম’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় নৃত্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অথচ, এই প্রতিমাই একসময় ধ্রুপদী নাচ পছন্দ করতেন না। কিন্তু এক দিন কেলুচরণের নাচের ক্লাসে গিয়ে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। তার পরেই নাচ শিখতে শুরু করেন।

বিতর্ক, আলোচনা, সমালোচনা কখনও পিছু ছাড়েনি প্রতিমার। ১৯৯৭ সালে প্রতিমা-কবীরের ছেলে সিদ্ধার্থের আকস্মিক মৃত্যু আবার আলোচনার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ। এই মৃত্যু কবীর ও প্রতিমা— দু'জনের জীবনেই অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে।

ছেলের মৃত্যুর এক বছর পরে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার পথে উত্তরাখণ্ডের মালপা এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসে প্রতিমার মৃত্যু হয়। তাঁর দেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই দুর্ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন ফেলেছিল।

প্রতিমা সারাজীবন ধরে সমাজের বাঁধাগতের নিয়মগুলো ভেঙেছেন নিজের মতো করে। নিজের লেখা ‘টাইমপাস: দ্য মেমোয়ার্স অফ প্রতিমা বেদী’ বইয়ে প্রতিমা লিখেছেন, ‘আমি স্বামীর কাছে সীতা হতে পারিনি, প্রেমিকদের কাছে রাধা হতে পারিনি। ছেলেমেয়ের কাছে যশোদা হতে পেরেছি কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। সত্যি কথা বলতে গেলে, এই পার্থিব জগতে আমি পুরো ব্যর্থ।’ নিজেকে নিয়ে এমন কথা প্রতিমাই বলতে পারেন।

প্রতিমার মেয়ে পূজা বেদী পরে বলিউডের অভিনেত্রী হন। মডেলিংও করেছেন। পূজা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মা যখন নগ্ন হয়ে জুহুর বিচে হেঁটেছিলেন, তখন পূজার বয়স মাত্র পাঁচ। স্কুলে পড়ছে। প্রতিমার খবরটা নিয়ে সংবাদপত্রে হইচই হতেই এক দিন মেয়ে পূজা এসে মাকে বলেছিল, স্কুলে তার সহপাঠীরা তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেছে, তার মা নাকি নগ্ন হয়ে সমুদ্রের ধারে ঘুরেছে। মেয়ের কথা শুনে শান্ত গলায় প্রতিমা বলেছিলেন, এটা তাঁর নিজের জীবন, নিজের মতো করে যাপন করছেন। সে (পূজা) যখন বড় হবে, সে-ও নিজের জীবন নিজের মতো করে যাপন করবে। কেউ বারণ করবে না।

সারাটা জীবন কেটেছে বিতর্কে। নিজেকে কখনওই শান্ত ঘরোয়া কোণে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বার বার নতুন কিছুর পিছনে ছুটেছেন, শত বিতর্ক সত্ত্বেও। জীবের শেষ দিকে সব কিছু ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন। প্রতিমা গুপ্ত থেকে, প্রতিমা বেদী। তার পরে প্রতিমা গৌরী নাম নেন। শেষ জীবনটা হিমালয়ের কোলে থাকতে চেয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার আগে, ১৯৯৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমা বলেছিলেন, হিমালয়ই হবে তাঁর শেষ আশ্রয়।

এর পরে ওই বছরেই অগস্ট মাসে তিনি মানস সরোবরের পথে রওনা দেন কিছু তীর্থযাত্রীর সঙ্গে। পথে পিথোরাগড়ের কাছে মালপা এলাকায় তুমুল ভূমিধসে হারিয়ে যান প্রতিমা। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র উদ্ধার হলেও তাঁর দেহের খোঁজ মেলেনি। বরফের নীচে এ ভাবেই ঢাকা পড়ে যায় বিতর্কিত এক জীবন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েট শিক্ষার্থীরা

প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েট শিক্ষার্থীরা