ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরকীয়ার জেরে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা, চাপাতি-ছুরিসহ স্ত্রী গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মাদরাসাশিক্ষকের, জুতার মালা পরিয়ে ঘোরালো জনতা প্রেমিকের সহায়তায় সাবেক স্বামীকে জিম্মি করলেন তরুনী বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার তরুণী ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে যাদুরাণী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ঘাসিগ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা মালেকের ১৮ দিনের সন্তানকে হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছরের কারাদণ্ড সিংড়ায় "ওয়ান চাইল্ড' ওয়ান ট্রি" কর্মসূচির আওতায় ক্ষিদ্রবড়িয়া স্কুলে বৃক্ষরোপণ কেশরহাট বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে মহসিন আলীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ মামা-ভাগিনা গ্রেফতার জার্মানিতে গোলাগুলিতে নিহত অন্তত ৫ সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াতের ফজিলত ও সারকথা আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের ভয়াবহ হামলায় নিহত ২৯ আমি এখন সিঙ্গেল না, সম্পর্কে আছি: নীহা রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ছেন মেসি ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী খাবার থেকে অ্যালার্জি না প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বুঝবেন কী উপায়ে? তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে যা বলল চীন ‘কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন—আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ চালাই’ ইটবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নিহত ২

ধ্বংসস্তূপের নীচে নবজাতককে নিয়ে আটকে মা!

  • আপলোড সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ০৪:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ০৪:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন
ধ্বংসস্তূপের নীচে নবজাতককে নিয়ে আটকে মা! ছবি: সংগৃহীত
ছোট্ট শিশুকে বুকে জড়িয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন এক মহিলা। দিন দুয়েক আগেও তিনি ভাবতে পারেননি যে বেঁচে থাকবেন। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি বেঁচে আছেন। বেঁচে আছে তাঁর সন্তানও। এখন তাঁর মনে হচ্ছে, ‘‘বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণায় আমার পুত্রই। ও না-থাকলে হয়তো বাঁচতামই না।’’ মহিলার নাম ডায়না পাটিনো। আর সন্তানের নাম হুয়ান ডেভিড। ভেনেজুয়েলার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়েও বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা। হুয়ান এখন ভেনেজুয়েলায় ‘আশার আলো’ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ডায়না এবং তাঁর পুত্র ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হুয়ানকে বুকে মাঝে রেখে ভূমিকম্পে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন বিবিসি-কে। তিনি জানান, লা গুয়াইরার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে আটতলার ঘরে বাসন ধোয়াধুয়ি করছিলেন। আচমকা কম্পন অনুভূত হয়। ডায়নার কথায়, ‘‘ভেবেছিলাম হালকা কম্পন। তাও ছুটে গিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নিলাম। তার পরে মনে হল আমার পা আর মাটিতে নেই। আমি উড়ছি। আবার মনে হল কাদা, জলে ডুবে যাচ্ছি। শেষে গর্তে পড়ে গেলাম। জানি না, গোটা সময়ে কী ভাবে আমি হুয়ানকে বুকের সঙ্গে আটকে রেখেছিলাম।’’

‘‘গর্তে পড়ে চিৎকার শুরু করেছিলাম। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর বুঝতে পারলাম চিৎকার করে, কাউকে ডেকে লাভ নেই।’’ স্মৃতি হাতড়ে বললেন ডায়না। তাঁর কথায়, ‘‘তখন ঠিক করলাম ডাকাডাকি করে শক্তি ক্ষয় করার কোনও অর্থ হয় না। যখন কাছাকাছি কোনও শব্দ, কারও কণ্ঠস্বর বা পায়ের শব্দ শুনতে পাব, তখন ডাকব। আমি জানি না ওই রকম বিপদে পড়েও কী ভাবে শান্ত ছিলাম। আমার বাঁ পা কংক্রিটের নীচে চাপা পড়েছিল। নড়াচড়ার অবস্থায় ছিলাম না। তবে মনের জোর না-হারিয়ে টিকে থাকার লড়াই শুরু করলাম।’’

কী ভাবে উদ্ধার পেলেন ডায়না? তাঁর কথায়, ‘‘অনেক ক্ষণ কেটে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের তলায় গর্ত দিয়ে আলোর রেখা ঢুকছে। তখনই ঠিক করি এ বার ডাকতে হবে, বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। সেই আশায় চিৎকার শুরু করি। শেষপর্যন্ত আমাদের বার করে আনা হয়।’’ বৃহস্পতিবার রাতে ডায়না এবং হুয়ানকে ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ডায়নার দু’পায়ে আঘাত লেগেছে।

ডায়নার স্বামী গার্সন জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি সবে বাড়ি ফিরেছিলেন। অ্যাপার্টমেন্টের নীচে গাড়ি পার্ক করছিলেন। সে সময় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারতেন। তবে স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা ছিল। চোখের সামনে দেখেছেন তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট কী ভাবে হুড়মুড়ি ভেঙে পড়ে। বুঝেছিলেন ধ্বংসস্তূপের নীচে কোথাও না কোথাও তাঁর স্ত্রী-পুত্র চাপা পড়ে আছেন। তবে আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দিনরাত ধ্বংসস্তূপের তলায় ডায়না এবং হুয়ানকে খুঁজেছেন গার্সন। শেষপর্যন্ত স্ত্রীর চিৎকার কানে যেতে যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পান গার্সন। শেষে বলেন, ‘‘আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। কিন্তু পুত্রই আমাদের শক্তি। আবার আমরা সবকিছু তৈরি করব। হুয়ানের জন্য বাঁচব।’’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন- এ শতভাগ সাফল্য অর্জন রাসিকের

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন- এ শতভাগ সাফল্য অর্জন রাসিকের