রাজশাহীর তানোরে কৃষিপণ্যর দরপতনে কৃষকেরা বিপাকে ও চরম সংকটের মধ্যে দিনপাত করছেন। অথচ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ও দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল তারা কৃষিপণ্য উৎপাদন করছে। কিন্তু সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা না থাকায় এসব উৎপাদিত কৃষিপণ্যর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়ত তারা একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
জানা গেছে, আলু, ধান ও পেঁয়াজের পর এবার আমের দরপতন হয়েছে। এতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক কৃষক ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছে,আবার কেউ এনজিও ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে এলাকাছাড়া হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে তানোরে আলুর জমিতে রোপণ করা বোরো ধান কাটা-মাড়াই চলছে। মাঠে নতুন ধান উঠছে, গাছে গাছে ঝুলছে পাকা আম। কিন্তু কৃষকের মুখে নেই হাসি। কারণ বাজারে ধান ও আমের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। বাজারে প্রতি মণ (৪০কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
কৃষকদের দাবি, বর্তমান উৎপাদন খরচের সঙ্গে এ দাম কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) বিল্লী গ্রামের কৃষক সারোয়ার জাহান চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৬ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। মঙ্গলবার তিনি ধান কেটে মাড়াই শেষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন। তিনি বলেন ২০ বিঘা জমির ধান মেশিন দিয়ে কেটে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির জন্য গিয়েছিলাম। কেউ কিনতে চায়নি। পরে একজন ব্যবসায়ী ৮০০ টাকা মণ দরে ধান কিনতে রাজি হয়। এ দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না। তার কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে। মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাজারো কৃষকের। কৃষকেরা বলছে, সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ,নওগাঁ ও রাজশাহী দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী অঞ্চল। কিন্তু চলতি মৌসুমে আমের বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
বাগান মালিকদের অভিযোগ, গত এক দশকের মধ্যে এবার আমের দাম সবচেয়ে কম। বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেক বাগানে পাকা আম গাছেই নষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাগান পরিচর্যা, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না।আমচাষীরা বলছেন চলতি মৌসুমে যদি বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে অনেক বাগান মালিককে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
তানোর পৌরসভার কালীগঞ্জহাট মহল্লার কৃষক রনি চলতি মৌসুমে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বর্তমানে তার আলু হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।এখন প্রতি কেজি আলু মাত্র সাড়ে ১৭ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়া মিলিয়ে আমার প্রতি কেজিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ টাকা। দাম না বাড়লে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বহু কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। চলতি বছরেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজ ও রসুন চাষেও হতাশা। কৃষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, এ দামে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব নয়।
তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের দুই রসুন চাষি সাদেক ও তার সহকর্মীরা জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করে লোকসানে পড়েছিলেন। এবারও দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছেন, কিন্তু বাজারমূল্য কম থাকায় রসুন বিক্রি না করে বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তারা বলেন,গত বছরের মতো এবারো দাম না পেলে আগামীতে আর রসুন চাষ করবেন না।স্থানীয় কৃষকগণ রসুন উৎপাদন করলেও বিদেশি রসুন আমদানির কারণে আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।রসুন চাষিদের মতে, দেশে উৎপাদিত রসুন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু আমদানি নির্ভর নীতির কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক ফসলে লোকসান হওয়ায় তারা ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। অনেকের সুদের চাপ বেড়েছে। কেউ কেউ ঋণের বোঝা সামলাতে জমি বিক্রির চিন্তাও করছেন। তারা বলছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন। অথচ উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষি পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুন মাসে ব্যাংক ক্লোজিং থাকায় অনেক চালকল মালিক ধান ক্রয়ে ধীরগতি অবলম্বন করছেন। ফলে বাজারে ধানের চাহিদা কমে গেছে এবং দামও নিম্নমুখী। তাদের দাবি, জুলাই মাস থেকে ধানের বাজারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে কৃষকদের মতে, প্রতি বছর একই ধরনের অজুহাত দেখানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ক্রয় এবং আমদানি নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, কৃষকেরা যদি ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম।গত মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, তানোরে চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর, কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর, ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়নি।
জানা গেছে, আলু, ধান ও পেঁয়াজের পর এবার আমের দরপতন হয়েছে। এতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক কৃষক ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছে,আবার কেউ এনজিও ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে এলাকাছাড়া হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে তানোরে আলুর জমিতে রোপণ করা বোরো ধান কাটা-মাড়াই চলছে। মাঠে নতুন ধান উঠছে, গাছে গাছে ঝুলছে পাকা আম। কিন্তু কৃষকের মুখে নেই হাসি। কারণ বাজারে ধান ও আমের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। বাজারে প্রতি মণ (৪০কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
কৃষকদের দাবি, বর্তমান উৎপাদন খরচের সঙ্গে এ দাম কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) বিল্লী গ্রামের কৃষক সারোয়ার জাহান চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৬ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। মঙ্গলবার তিনি ধান কেটে মাড়াই শেষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন। তিনি বলেন ২০ বিঘা জমির ধান মেশিন দিয়ে কেটে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির জন্য গিয়েছিলাম। কেউ কিনতে চায়নি। পরে একজন ব্যবসায়ী ৮০০ টাকা মণ দরে ধান কিনতে রাজি হয়। এ দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না। তার কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে। মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাজারো কৃষকের। কৃষকেরা বলছে, সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ,নওগাঁ ও রাজশাহী দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী অঞ্চল। কিন্তু চলতি মৌসুমে আমের বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
বাগান মালিকদের অভিযোগ, গত এক দশকের মধ্যে এবার আমের দাম সবচেয়ে কম। বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেক বাগানে পাকা আম গাছেই নষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাগান পরিচর্যা, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না।আমচাষীরা বলছেন চলতি মৌসুমে যদি বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে অনেক বাগান মালিককে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
তানোর পৌরসভার কালীগঞ্জহাট মহল্লার কৃষক রনি চলতি মৌসুমে ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বর্তমানে তার আলু হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।এখন প্রতি কেজি আলু মাত্র সাড়ে ১৭ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়া মিলিয়ে আমার প্রতি কেজিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ টাকা। দাম না বাড়লে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বহু কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। চলতি বছরেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজ ও রসুন চাষেও হতাশা। কৃষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কৃষকদের দাবি, এ দামে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব নয়।
তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের দুই রসুন চাষি সাদেক ও তার সহকর্মীরা জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করে লোকসানে পড়েছিলেন। এবারও দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছেন, কিন্তু বাজারমূল্য কম থাকায় রসুন বিক্রি না করে বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তারা বলেন,গত বছরের মতো এবারো দাম না পেলে আগামীতে আর রসুন চাষ করবেন না।স্থানীয় কৃষকগণ রসুন উৎপাদন করলেও বিদেশি রসুন আমদানির কারণে আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।রসুন চাষিদের মতে, দেশে উৎপাদিত রসুন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু আমদানি নির্ভর নীতির কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক ফসলে লোকসান হওয়ায় তারা ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। অনেকের সুদের চাপ বেড়েছে। কেউ কেউ ঋণের বোঝা সামলাতে জমি বিক্রির চিন্তাও করছেন। তারা বলছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন। অথচ উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষি পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুন মাসে ব্যাংক ক্লোজিং থাকায় অনেক চালকল মালিক ধান ক্রয়ে ধীরগতি অবলম্বন করছেন। ফলে বাজারে ধানের চাহিদা কমে গেছে এবং দামও নিম্নমুখী। তাদের দাবি, জুলাই মাস থেকে ধানের বাজারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে কৃষকদের মতে, প্রতি বছর একই ধরনের অজুহাত দেখানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ক্রয় এবং আমদানি নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, কৃষকেরা যদি ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম।গত মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, তানোরে চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর, কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর, ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়নি।
আলিফ হোসেন