ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অনুষ্ঠিত আইএইচটি রাজশাহীর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, উদযাপন কমিটি ঘোষণা কালু মিস্ত্রির মোড়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং: কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার রাজশাহীতে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার: বিচার চাওয়ায় পরিবারকে এলাকা ছাড়া ‘বাঁদর একটা! বাড়িতে তো স্ত্রী আছে’, নগ্ন দৃশ্যে যশকে দেখে ক্ষোভ ঋষিকার! তারকাকে বড় হুঁশিয়ারিও দিলেন বোমা-বিস্ফোরক উদ্ধারে দেশজুড়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর ছোট্ট মামনির জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন চারঘাটে পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও শরীয়তপুরে শিশুকে বলাৎকার: জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ১ লাখ টাকায় রফা-দফা মাদক নয়, মাঠেই ফিরুক তারুণ্য: রাণীশংকৈলে মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপের যাত্রা শুরু বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে ফের উৎপাদন বন্ধ পাম্প বিকল হয়ে ১২৫ মেগাওয়াটের ইউনিট বন্ধ চালুর চেষ্টা চলছে; সচল রয়েছে ৩ নম্বর ইউনিট সামিরা খান মাহির দুই সিরিজ নেতাকর্মীরা আসে, প্রতিশ্রুতিও দেয় কিন্তু পাকা হয়না শতবছরের রাস্তা দেশের বাজারে সোনার দাম কমলো ‘আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’ ভারতের উত্তরাখণ্ডে নির্মাণাধীন টানেল ধসে নিহত ৭ টাঙ্গাইলে তালাবদ্ধ ঘর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার রাজশাহীর নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার ও মাদক ও জুয়াড়িসহ গ্রেফতার ২০ ভারতকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে পাকিস্তানিরা, তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ফিলিস্তিনও

মান্দায় ধানের হাটে ‘৪১ কেজিতে মণ’, জিম্মি কৃষকরা

  • আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৯:১৩:২৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৯:১৩:২৮ অপরাহ্ন
মান্দায় ধানের হাটে ‘৪১ কেজিতে মণ’, জিম্মি কৃষকরা মান্দায় ধানের হাটে ‘৪১ কেজিতে মণ’, জিম্মি কৃষকরা
দেশের প্রচলিত ওজন পরিমাপের নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ ধান হওয়ার কথা। কিন্তু নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সেই নিয়ম যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। উপজেলার ঐতিহাসিক পাঁজরভাঙ্গা হাটসহ একাধিক বাজারে কৃষকদের বাধ্য করা হচ্ছে প্রতি মণে ৪১ কেজি ধান দিতে। এতে বছরের পর বছর ধরে ওজনে অতিরিক্ত ধান দিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে শুক্রবার (১৯ জুন) উপজেলার ঐতিহাসিক পাঁজরভাঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ভ্যান, ভটভটি ও সাইকেলে করে ধান নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। হাটজুড়ে ধানের ব্যাপক আমদানি থাকলেও বিক্রির সময় কৃষকদের পড়তে হচ্ছে এক অঘোষিত নিয়মের মুখে। ব্যবসায়ীরা ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪১ কেজিকে এক মণ ধরে ধান কিনছেন। শুধু পাঁজরভাঙ্গা নয়, উপজেলার জোতবাজার ও জোকাহাটের চিত্রও একই রকম।

বর্তমানে হাটে বিভিন্ন জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে জিরা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সুবলতা ১ হাজার ৩৪০ টাকা, কাটারি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ জাতের ধান ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন দেওয়ার কারণে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়ম চালিয়ে আসছে। বিষয়টি সবার জানা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতি মণে ১ কেজি করে ধান বেশি দিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বছরের পর বছর ধরে চলা এই প্রকাশ্য ওজন জালিয়াতি বন্ধে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. জহুরুল বলেন, আমি ১২ মণ ধান নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ৪১ কেজিতে মণ ধরায় ১২ কেজি ধান বেশি চলে গেছে। আমরা অনেক কষ্ট করে ধান উৎপাদন করি। হাটে আনলে ব্যবসায়ীরা বলে ৪০ কেজিতে ধান নেবে না, ৪১ কেজি দিতে হবে। বাধ্য হয়ে আমরা ধান বিক্রি করি।

আরেক কৃষক মো. আজিজার বলেন, ৫ মণ ধান নিয়ে এসেছিলাম। ধানের দামও কম, আবার প্রতি মণে ১ কেজি বেশি দিতে হয়েছে। প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো নজরদারি নেই। আমরা সব দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ওজনে অতিরিক্ত ধান নেওয়ার এই প্রকাশ্য অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী বিষয়টি অনিয়ম বলে স্বীকার করলেও, দায় চাপাচ্ছেন দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ওপর।

ধান ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মেস্তাক বলেন, এই হাটে অনেক আগে থেকেই ৪১ কেজিতে মণ নেওয়া হয়। সবাই এভাবেই নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজি হলেও বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতি চলে আসছে।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, হাট-বাজারে ওজন সংক্রান্ত অনিয়ম এবং কৃষক ও ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ নিয়মিত তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যে কোনো কৃষিপণ্য বা ফলের ক্ষেত্রে ৪০ কেজি মানে ৪০ কেজিই। আইনত বাড়তি বা ‘ঢলন’ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকেরা সচেতন হলে এবং প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে এ ধরনের অনিয়ম দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব। বাজারমূল্য ওঠানামা করলেও পণ্যের ওজন অবশ্যই সঠিক থাকতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালু মিস্ত্রির মোড়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং: কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

কালু মিস্ত্রির মোড়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং: কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার