বিশ্বকাপে রেফারিং করার স্বপ্ন ভেঙেছে বিমানবন্দরে। আমেরিকায় ঢোকার ছাড়পত্র জোটেনি। টুর্নামেন্টের তালিকা থেকেও বাদ পড়েছেন। কিন্তু দেশে ফিরতেই ছবিটা পালটে গেল। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান পেলেন বীরোচিত অভ্যর্থনা।
বুধবার রাজধানী মোগাদিশুর আদেন আবদুল্লে ওসমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন আরতান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির হন শত শত সমর্থক, সোমালি ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং সরকারের প্রতিনিধি। ব্যানার, স্লোগান এবং করতালিতে বিমানবন্দর এলাকা মুখরিত। যিনি কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপের দরজা থেকে প্রত্যাখ্যাত, নিজের দেশে তিনিই হয়ে ওঠেন জাতীয় গর্বের প্রতীক। জনতার উদ্দেশে আরতান বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ইনশাল্লাহ, পরের বিশ্বকাপে আমি থাকব। সোমালিয়ার মানুষ যেন এতে হতাশ না হয়। আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।’
ঘটনার শুরু কয়েক দিন আগে। আরতানকে ২০২৫ সালে বর্ষসেরা রেফারির সম্মান দেয় আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্যও তিনি নির্বাচিত হন। টুর্নামেন্টের দায়িত্ব পাওয়া প্রথম সোমালি রেফারি হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ইস্তানবুল থেকে মায়ামি পৌঁছনোর পর রুখে দাঁড়ায় মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৈধ ভিসা এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ চলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমালিয়ার রাজনীতি এবং জঙ্গিগোষ্ঠী নিয়ে নানা প্রশ্ন ও পরে আরতানকে তুরস্কগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি, কঠোর নিরাপত্তা যাচাই নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার কথায়, ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ-সহ কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকিকে দেশে ঢুকতে দেবে না, একেবারেই না।’
অন্যদিকে সোমালিয়া সরকার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে ক্রীড়া মন্ত্রক—সব জায়গা থেকেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রকের বিবৃতিমতে, ‘তাঁর আন্তর্জাতিক সাফল্য সোমালিয়ার মানুষের গর্ব ও সম্মানের বিষয়।’
সামগ্রিক বিতর্কে সোমালি ফুটবল ফেডারেশনও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের মন্তব্য, ‘বহু বছরের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং সততার মাধ্যমে অর্জিত এই সম্মান থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’ ফেডারেশনের দাবি, কেন তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তাদের দেওয়া হয়নি। ফিফা অবশ্য নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ফিফার কোনও ভূমিকা নেই।’
যদিও নিয়ম অনুযায়ী সব রেফারিকে মায়ামিতে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকতে হয়। ফলে সেখানে ঢুকতে না পারায় আরতানকে বিশ্বকাপের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। ফুটবলের বৃহত্তম মঞ্চে নামার সুযোগ হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু মোগাদিশুর রাস্তায় বুধবার যে ছবি দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট, সোমালিয়ার কাছে ওমর আবদুলকাদির আরতান এখনও বিজয়ী।
ঢুকতে দেয়নি আমেরিকা, দেশে ফিরতেই বীরের সম্মান পেলেন ‘আফ্রিকার সেরা রেফারি’
- আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ০৬:৫৩:১৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ০৬:৫৩:১৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্রীড়া ডেস্ক