ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডের র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার পলাতক আসামি বাবুল সওদাগর গ্রেপ্তার রাণীশংকৈলে ব্র্যাকের স্বপ্নসারথি কিশোরী দলের সমাপনী নগরীর পঞ্চবটি শেখের চক এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারী ফাহিম গ্রেফতার ট্রাম্পের কথায় চলবে না ইজরায়েল! মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি খারিজ করে দিলেন নেতানিয়াহু হাতে লেখা চিঠি সাজঘরে! ধন্যবাদ জানিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসকে বিদায় ইরানের ফুটবলারদের কারাগারে দুটি খাতা সংরক্ষণ করছেন ইনু, লিখে রাখছেন সব কার্যক্রম মহানগরীতে বাবাকে হত্যা করে পালালেন রাবি শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী বাজেটে শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন: শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বে প্রথম এইচআইভি আক্রান্তের শরীরে ফুসফুস প্রতিস্থাপনে সফল্য ৯ বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া গৃহবধূকে হত্যা করে আলমারি ভেঙে ৩ লাখ টাকা লুট গাড়ি নিয়েই সফরের সময় ‘মেডিক্যাল কিট’ রাখা কেন জরুরি, কী কী রাখবেন এতে নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে বিদেশি পর্যটককে হেনস্তা, ‘হিরো নানা’ গ্রেপ্তার হাম উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা কিয়ের স্টার্মারের, স্ত্রীকে পাশে নিয়ে আবেগপ্রবণ ঘোষণা সখীপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর পুকুরে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান ট্রাম্পের কথায় চলবে না ইজরায়েল! মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি খারিজ করে দিলেন নেতানিয়াহু সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার চায়না জাল জব্দঃ দুই ব্যক্তিকে জরিমানা, একজনের কারাদণ্ড

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আত্মপক্ষ সমর্থনে সোহেল বললেন, ‘দোষ আমিও করেছি, ডলারও করেছে, তারে ধরেন’

  • আপলোড সময় : ০৩-০৬-২০২৬ ০১:৫৩:০৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৬-২০২৬ ০১:৫৩:০৫ অপরাহ্ন
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আত্মপক্ষ সমর্থনে সোহেল বললেন, ‘দোষ আমিও করেছি, ডলারও করেছে, তারে ধরেন’ ছবি: সংগৃহীত
রামিসা হত্যা মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থনে দুই রকম বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খানম। অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন আসামি সোহেল রানা। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি চেয়েছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

বুধবার (৩ জুন) আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার শুনানিতে আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিলো। সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে এনে রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে, আর বেলা ১১টার দিকে স্বপ্নাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার সমস্ত অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি দুই আসামির সামনে পড়ে শোনান বিচারক। তারপর আসামিদের বক্তব্য শুনতে চান। এ সময় কাঠগড়ায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকলেও, কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম।

শুনানির শুরুতে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন সোহেল রানা। ঘটনার দায় চাপান ডলার নামের আরেক ব্যক্তির ওপর।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল বলেন, আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে। আমারে শাস্তি দিলে ডলারেও একই শাস্তি দিতে হবে। 

পরে অবশ্য নিজের অপরাধ স্বীকার করে সোহেল বলেন, ‌‘আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে।’

স্ত্রী স্বপ্নার বিষয়ে এ সময় আসামি সোহেল বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।’ এসময় বিচারক তাকে থামিয়ে দেন এবং স্বপ্নার কাছে জানতে চান তার কোনো বক্তব্য আছে কিনা। স্বপ্না আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’
 
স্বপ্না বিচারকের কাছে নিজের মুক্তি কামনা করেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, আসামিদের এই ধরনের বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার অপকৌশল।

এদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ জানান, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করবেন না তারা।
 
আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
 
এর আগে গত মঙ্গলবার মাত্র এক দিনেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

গত ২৪ মে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুই আসামির বিরুদ্ধে সোমবার (১ জুন) ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
 
এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় সে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীর পঞ্চবটি শেখের চক এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারী  ফাহিম গ্রেফতার

নগরীর পঞ্চবটি শেখের চক এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারী ফাহিম গ্রেফতার