ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা এনজিওকর্মীর শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ দুলাভাই গ্রেপ্তার সিরাজদিখানে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধানের মিলে আটকে মারধরের দাবি গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১ অনুমতি না নিয়েই তাঁকে জোর করে চুম্বন শ্রেয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর যা বললেন বেকা নিকোলস অভিবাসী ট্রাকচালকদের সরিয়ে প্রবীণ সেনাদের নিয়োগের প্রস্তাব ট্রাম্পের, আতঙ্কে ভারতীয়রা মুর্শিদাবাদে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ৩; আতঙ্কে অসুস্থ ২ শিক্ষিকা জিআই পণ্যের পরিচয়ে মোহনপুরের প্রবেশমুখে পানের প্রতীক সম্বলিত সীমানা পিলার উদ্বোধন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার প্রেরন ইয়ামি ৪০ রানী নিয়ে নগ্ন গোসল করতেন এই রাজা নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা লালপুরে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা রাণীনগরে পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন, ক্ষতিগ্রস্থ অসহায়, গরীব ও দু:স্থ্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান গুরুদাসপুরে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষিত শিমলা পার্ক, এখন প্রয়োজন সকলের দায়িত্বশীল আচরণ আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তানোরে নারীসহ ৬ জনকে পিটিয়ে জখম

বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবসে রাজশাহীর বিলনেপালপাড়াকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা

  • আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৫:৫১:৩৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৫:৫১:৩৭ অপরাহ্ন
বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবসে রাজশাহীর বিলনেপালপাড়াকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবসে রাজশাহীর বিলনেপালপাড়াকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা
রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপালপাড়াকে পরাগায়ন, প্রাণবৈচিত্র্য ও কৃষিপ্রতিবেশ সুরক্ষায় মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় বিলনেপালপাড়া নারী সংগঠনের উদ্যোগে বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচী থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

মৌ পতঙ্গ বা পরাগবাহীপ্রাণীগুলো আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে, উদ্ভিদের প্রজনন নিশ্চিত করে, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, আমাদের খাদ্যব্যস্থাকে স্থিতিশীল রাখাসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু দিনেদিনে কৃষি রাসায়নিকীকরন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কমে যাওয়ার কারনে মৌপতঙ্গ প্রজাতি ভয়ংকরভাবে কমে যাচ্ছে। তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই লক্ষ্যেই এই এলাকাকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানের কৃষক-কৃষাণীসহ এলাকাবাসীরা সকলে মিলে এটি ষোঘণা করে এবং তারা জানায় এই এলাকায় কোন ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হবে না তারা আরো জানায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হোক। দেশব্যাপী কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করে কৃষিপ্রতিবেশ ও স্থানীয়কৃষি চর্চা বাড়াতে সরকারী উদ্যোগ নিতে হবে।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক) ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, বিলনেপালপড়া নারী সংগঠনের আয়োজনে কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিলনেপালপাড়া এলাকার কৃষক-কৃষাণী, প্রবীণ, তরুন, শিক্ষার্থী, যুব ও নানা শ্রেণীপেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বারসিক রাজশাহীর সহযোগী প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুল ইসলাম। মৌপতঙ্গের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। তিনি বলেন- বিশ্বব্যাপী প্রকৃতিতে বিশ হাজারেরও বেশী প্রজাতির মৌপতঙ্গ নথিভুক্ত হয়েছে এছাড়াও বিজ্ঞাণীরা ধারণা করেন দেখা ও অদেখা মিলে প্রায় লক্ষাধিক মৌপতঙ্গ প্রজাতি পৃথিবীতে আছে। কৃষিতে ব্যবহৃত বহু কীটনাশক পরাগবাহী পতঙ্গের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষত ফুল ফোটার সময় এবং দিনের বেলা নির্বিচারে কীটনাশক স্প্রে করার ফলে মৌপতঙ্গ সরাসরি বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এই সংকটকে শুধুমাত্র কৃষি উৎপাদনের প্রশ্ন নয়, এটি একটি বৃহত্তর পরিবেশগত, বহুজীবিক এবং রাজনৈতিক বাস্তুতাত্ত্বিক সংকট হিসেবে দেখতে হবে।

কৃষাণী গোলাপজান বেগম (৬২) বলেন, আগে বোল্লা, মৌমাছি, ডারাস, ভিমরুল, ছোট বড় বিভিন্ন মাছি ও পোকামাকড় অনেক দেখেছি। বাড়িতে, দরজায়, ঘরে তারা বাসা বানাত এখন আর দেখতে পাই না। পটলে, ধানে পোকামারার জন্য এখন বিষ দিতে হচ্ছে আগে তো বিষ ছিল না তখনও বিষ ছাড়া, রাসায়নিক সার ছাড়া ফসল হতো।

কৃষক আব্দুস সালাম (৬০) বলেন, মৌপতঙ্গরা এখন আর এলাকায় থাকতে পারছে না। কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পতঙ্গরা এখন অনেক কমে গেছে। এই পতঙ্গরা না থাকায় পরাগায়ন হচ্ছে না ফলে ফসল কম হচ্ছে। মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, জৈব বালাইনাশক উৎপাদন ও প্রাকৃতিক কৃষিতে রুপান্তরের জন্য সরকারীভাবে উদ্যোগ নিতে হবে, কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা ও সহযোগীতা দিতে হবে।


কৃষাণী সুলতানা খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগ্রোইকোলজি চর্চা করছি। এখানে এগ্রোইকোলজি শিখন কেন্দ্র ও কমিউনিটি বীজ ব্যাংক আছে। এখানে জৈব বালাইনাশক তৈরী ও ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও শেখানো হয়। তিনি আরো বলেন, বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানীর বিষ আমাদের মৌপতঙ্গ এবং উপকারী উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে ফলে নীরব পরাগসংকট হচ্ছে এবং আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষিত শিমলা পার্ক, এখন প্রয়োজন সকলের দায়িত্বশীল আচরণ

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষিত শিমলা পার্ক, এখন প্রয়োজন সকলের দায়িত্বশীল আচরণ