ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে একাডেমিক ভবনের অভাব, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গাজিরহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে বর্তমানে অধ্যক্ষসহ মোট ৮ জন শিক্ষক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৩ জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজটির অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। টিনশেড ও জরাজীর্ণ কক্ষগুলোতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি শিক্ষকদেরও প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, “বৃষ্টির দিনে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। মেঝেতে পানি জমে থাকায় পাঠদান ব্যাহত হয়। এতে লেখাপড়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার বলেন, “সামান্য মেঘ দেখলেই আমরা কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কারণ বৃষ্টি হলে ক্লাস করা সম্ভব হয় না।”
ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশা আলম বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে দ্রুত একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
কলেজের অধ্যক্ষ সবিরুল ইসলাম বলেন, “একাডেমিক ভবনের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মোঃ মোবারক আলী, রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও: