অত্যধিক গরমে বা কঠোর পরিশ্রমের পর ঘাম হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি মূলত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রাকৃতিক উপায়। কিন্তু ধরুন, আপনি এসিতে বসে আছেন বা তেমন কোনও পরিশ্রমই করেননি, অথচ হঠাৎ করে দরদর করে ঘামতে শুরু করলেন — তবে কিন্তু চিন্তার বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, কোনও বাহ্যিক কারণ ছাড়া হঠাৎ হঠাৎ এভাবে ঘাম হওয়া শরীরে লুকিয়ে থাকা কোনও গভীর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
হাইপারহাইড্রোসিস বা অতিরিক্ত ঘাম আসলে কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার এই সমস্যাকে বলা হয় 'হাইপারহাইড্রোসিস'। 'জার্নাল অফ আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি'-র একটি গবেষণা অনুযায়ী, এই সমস্যাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাইমারি ফোকাল হাইপারহাইড্রোসিস: এটি মূলত বংশগত বা শৈশব থেকেই দেখা দেয়। এতে সাধারণত হাতের তালু, পায়ের তলা, বগল বা মুখ অতিরিক্ত ঘামে। এর পেছনে সাধারণত অন্য কোনও অসুখ থাকে না।
২. সেকেন্ডারি জেনারেলাইজড হাইপারহাইড্রোসিস: এটি শরীরের অন্য কোনও অন্তর্নিহিত রোগের কারণে হয়। এক্ষেত্রে পুরো শরীর ঘামতে পারে এবং এটি দিনের বেলা বা ঘুমের মধ্যেও হতে পারে।
কেন হয় এই হঠাৎ ঘাম? জেনে নিন প্রধান কারণগুলো:
১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
হরমোনের তারতম্য শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেয়। থাইরয়েডের সমস্যা বা মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় হঠাৎ হঠাৎ ঘাম হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। 'অ্যানাইস ব্রাসিলেইরোস ডি ডার্মাটোলজি' জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, হরমোনের গোলমাল সরাসরি হাতের তালু বা বগলের ঘাম বাড়িয়ে দেয়।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ:
অত্যধিক মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা শরীরের 'ফাইট-অর-ফ্লাই' (Fight-or-Flight) রেসপন্সকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে শীতল পরিবেশেও ঘর্ম গ্রন্থিগুলো অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠে।
৩. রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া:
যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে। এটি একটি জরুরি অবস্থা।
৪. সংক্রমণের প্রভাব:
শরীরে কোনও ভাইরাল বা ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন থাকলে জ্বর আসার আগে বা পরে শরীর ঘামতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় অত্যধিক ঘাম অনেক সময় ক্রনিক ইনফেকশনের লক্ষণ।
৫. হার্টের সমস্যা:
সবচেয়ে ভয়ের কারণ হল হার্ট। যদি হঠাৎ ঘামের সঙ্গে বুকে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে দেরি করবেন না। এটি হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
রাতের ঘাম কি বিপদের সঙ্কেত?
অনেকেরই রাতে ঘুমানোর সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয়। যদি নিয়মিত আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং বালিশ-বিছানা ভিজে যায়, তবে তা অবহেলা করবেন না। এটি হরমোনের সমস্যা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদী রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি ঘামের সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা জ্বর থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি ঘাম হঠাৎ করে এবং বারবার হতে শুরু করে।
যদি অতিরিক্ত ঘামের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন বা ঘুম ব্যাহত হয়।
ঘামের সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা, জ্বর বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
কোনও কারণ ছাড়াই যদি শরীরের নির্দিষ্ট কোনও অংশ বা পুরো শরীর ভিজে যায়।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন:
মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম করুন।
শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করুন।
সুতির আরামদায়ক ও হালকা পোশাক পরুন।
যদি এটি কোনও নির্দিষ্ট রোগের কারণে হয়, তবে মূল রোগটির চিকিৎসা করান।
শরীর যখন নিজে থেকে কোনও সংকেত দেয়, তখন তাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিনা কারণে হঠাৎ ঘাম হওয়া সবসময় সাধারণ বিষয় নাও হতে পারে। সচেতন থাকুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
হাইপারহাইড্রোসিস বা অতিরিক্ত ঘাম আসলে কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার এই সমস্যাকে বলা হয় 'হাইপারহাইড্রোসিস'। 'জার্নাল অফ আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি'-র একটি গবেষণা অনুযায়ী, এই সমস্যাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাইমারি ফোকাল হাইপারহাইড্রোসিস: এটি মূলত বংশগত বা শৈশব থেকেই দেখা দেয়। এতে সাধারণত হাতের তালু, পায়ের তলা, বগল বা মুখ অতিরিক্ত ঘামে। এর পেছনে সাধারণত অন্য কোনও অসুখ থাকে না।
২. সেকেন্ডারি জেনারেলাইজড হাইপারহাইড্রোসিস: এটি শরীরের অন্য কোনও অন্তর্নিহিত রোগের কারণে হয়। এক্ষেত্রে পুরো শরীর ঘামতে পারে এবং এটি দিনের বেলা বা ঘুমের মধ্যেও হতে পারে।
কেন হয় এই হঠাৎ ঘাম? জেনে নিন প্রধান কারণগুলো:
১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
হরমোনের তারতম্য শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেয়। থাইরয়েডের সমস্যা বা মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় হঠাৎ হঠাৎ ঘাম হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। 'অ্যানাইস ব্রাসিলেইরোস ডি ডার্মাটোলজি' জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, হরমোনের গোলমাল সরাসরি হাতের তালু বা বগলের ঘাম বাড়িয়ে দেয়।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ:
অত্যধিক মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা শরীরের 'ফাইট-অর-ফ্লাই' (Fight-or-Flight) রেসপন্সকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে শীতল পরিবেশেও ঘর্ম গ্রন্থিগুলো অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠে।
৩. রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া:
যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে। এটি একটি জরুরি অবস্থা।
৪. সংক্রমণের প্রভাব:
শরীরে কোনও ভাইরাল বা ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন থাকলে জ্বর আসার আগে বা পরে শরীর ঘামতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় অত্যধিক ঘাম অনেক সময় ক্রনিক ইনফেকশনের লক্ষণ।
৫. হার্টের সমস্যা:
সবচেয়ে ভয়ের কারণ হল হার্ট। যদি হঠাৎ ঘামের সঙ্গে বুকে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে দেরি করবেন না। এটি হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
রাতের ঘাম কি বিপদের সঙ্কেত?
অনেকেরই রাতে ঘুমানোর সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয়। যদি নিয়মিত আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং বালিশ-বিছানা ভিজে যায়, তবে তা অবহেলা করবেন না। এটি হরমোনের সমস্যা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদী রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি ঘামের সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা জ্বর থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি ঘাম হঠাৎ করে এবং বারবার হতে শুরু করে।
যদি অতিরিক্ত ঘামের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন বা ঘুম ব্যাহত হয়।
ঘামের সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা, জ্বর বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
কোনও কারণ ছাড়াই যদি শরীরের নির্দিষ্ট কোনও অংশ বা পুরো শরীর ভিজে যায়।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন:
মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম করুন।
শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করুন।
সুতির আরামদায়ক ও হালকা পোশাক পরুন।
যদি এটি কোনও নির্দিষ্ট রোগের কারণে হয়, তবে মূল রোগটির চিকিৎসা করান।
শরীর যখন নিজে থেকে কোনও সংকেত দেয়, তখন তাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিনা কারণে হঠাৎ ঘাম হওয়া সবসময় সাধারণ বিষয় নাও হতে পারে। সচেতন থাকুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ফারহানা জেরিন