বর্তমানে ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে পিঠ বা কোমরের ব্যথা এক নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যা মূলত বার্ধক্যের লক্ষণ বলে ধরা হতো, এখন সেই ব্যথায় ভুগছেন ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মব্যস্ত যুবক-যুবতীরা। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
কেন অল্প বয়সেই থাবা বসাচ্ছে ব্যাকপেইন?
ফর্টিস হাসপাতালের রিউমাটোলজি কনসালট্যান্ট ডাঃ স্নেহাল মোহন পাতিল জানিয়েছেন, তরুণ প্রজন্মের এই পিঠ ব্যথার পেছনে মূলত কয়েকটি বড় কারণ দায়ী:
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ: ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা অফিসের দীর্ঘ সময়ের ডেস্ক জব শরীরের সচলতা কমিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপ বা ফোনের দিকে ঝুঁকে বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
ভুল ভঙ্গিমা: সোফায় শুয়ে বা বিছানায় বসে ল্যাপটপ চালানো মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীর সচল না থাকলে মেরুদণ্ডকে ধরে রাখা পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
ভুল পদ্ধতিতে শরীরচর্চা: অনেকে ফিট থাকার নেশায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই জিমে ভারী ওজন তোলেন বা কঠিন ব্যায়াম করেন। সঠিক টেকনিক না মেনে শরীরচর্চা করলে হিতে বিপরীত হয় — পেশিতে চোট বা স্লিপড ডিস্কের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: দুশ্চিন্তার কারণে ঘাড় ও কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর নিজেকে সারিয়ে তোলার সুযোগ পায় না, যা ব্যথার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সাবধান! এটা সাধারণ ব্যথা নাও হতে পারে
সব সময় পিঠের ব্যথা কেবল ক্লান্তি বা ভুল ভঙ্গিমার কারণে হয় না। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, যদি ব্যথা বিশ্রামে না কমে বরং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠ ও কোমর আড়ষ্ট বা শক্ত হয়ে থাকে, তবে তা 'অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস' -এর লক্ষণ হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো বিপদের সঙ্কেত?
৪০ বছর বয়সের আগেই পিঠের ব্যথা শুরু হওয়া।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘক্ষণ পিঠ শক্ত হয়ে থাকা।
বিশ্রাম নিলে ব্যথা বাড়ে, কিন্তু হাঁটাচলা করলে আরাম লাগে।
কয়েক মাস ধরে টানা ব্যথা বজায় থাকা।
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
ব্যথাকে 'সামান্য' ভেবে অবহেলা করা বা শুধু পেইনকিলার খেয়ে চেপে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
১. ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
২. ব্যথার কারণে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হলে।
৩. হাত বা পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা অথবা অবশ ভাব অনুভূত হলে।
৪. বিশ্রামের সময় ব্যথা তীব্রতর হলে।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে নিলেই মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা এড়ানো সম্ভব:
প্রতি ৩০-৪০ মিনিট অন্তর সিট ছেড়ে উঠে সামান্য হাঁটাহাঁটি করুন।
বসার জন্য সঠিক চেয়ার এবং সঠিক ভঙ্গিমা বজায় রাখুন।
পেশাদার প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া ভারী ওজন তুলবেন না।
প্রতিদিন হালকা স্ট্রেচিং এবং কোর মাসল মজবুত করার ব্যায়াম করুন।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
মনে রাখবেন: ২০ বা ৩০ বছর বয়সে পিঠের ব্যথা স্বাভাবিক নয়। শরীর সংকেত দিলে তা অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কেন অল্প বয়সেই থাবা বসাচ্ছে ব্যাকপেইন?
ফর্টিস হাসপাতালের রিউমাটোলজি কনসালট্যান্ট ডাঃ স্নেহাল মোহন পাতিল জানিয়েছেন, তরুণ প্রজন্মের এই পিঠ ব্যথার পেছনে মূলত কয়েকটি বড় কারণ দায়ী:
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ: ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা অফিসের দীর্ঘ সময়ের ডেস্ক জব শরীরের সচলতা কমিয়ে দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপ বা ফোনের দিকে ঝুঁকে বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
ভুল ভঙ্গিমা: সোফায় শুয়ে বা বিছানায় বসে ল্যাপটপ চালানো মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীর সচল না থাকলে মেরুদণ্ডকে ধরে রাখা পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
ভুল পদ্ধতিতে শরীরচর্চা: অনেকে ফিট থাকার নেশায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই জিমে ভারী ওজন তোলেন বা কঠিন ব্যায়াম করেন। সঠিক টেকনিক না মেনে শরীরচর্চা করলে হিতে বিপরীত হয় — পেশিতে চোট বা স্লিপড ডিস্কের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: দুশ্চিন্তার কারণে ঘাড় ও কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর নিজেকে সারিয়ে তোলার সুযোগ পায় না, যা ব্যথার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সাবধান! এটা সাধারণ ব্যথা নাও হতে পারে
সব সময় পিঠের ব্যথা কেবল ক্লান্তি বা ভুল ভঙ্গিমার কারণে হয় না। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, যদি ব্যথা বিশ্রামে না কমে বরং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠ ও কোমর আড়ষ্ট বা শক্ত হয়ে থাকে, তবে তা 'অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস' -এর লক্ষণ হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো বিপদের সঙ্কেত?
৪০ বছর বয়সের আগেই পিঠের ব্যথা শুরু হওয়া।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘক্ষণ পিঠ শক্ত হয়ে থাকা।
বিশ্রাম নিলে ব্যথা বাড়ে, কিন্তু হাঁটাচলা করলে আরাম লাগে।
কয়েক মাস ধরে টানা ব্যথা বজায় থাকা।
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
ব্যথাকে 'সামান্য' ভেবে অবহেলা করা বা শুধু পেইনকিলার খেয়ে চেপে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
১. ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
২. ব্যথার কারণে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হলে।
৩. হাত বা পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা অথবা অবশ ভাব অনুভূত হলে।
৪. বিশ্রামের সময় ব্যথা তীব্রতর হলে।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে নিলেই মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা এড়ানো সম্ভব:
প্রতি ৩০-৪০ মিনিট অন্তর সিট ছেড়ে উঠে সামান্য হাঁটাহাঁটি করুন।
বসার জন্য সঠিক চেয়ার এবং সঠিক ভঙ্গিমা বজায় রাখুন।
পেশাদার প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া ভারী ওজন তুলবেন না।
প্রতিদিন হালকা স্ট্রেচিং এবং কোর মাসল মজবুত করার ব্যায়াম করুন।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
মনে রাখবেন: ২০ বা ৩০ বছর বয়সে পিঠের ব্যথা স্বাভাবিক নয়। শরীর সংকেত দিলে তা অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ফারহানা জেরিন