ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ , ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজপাড়া থানা বিএনপির উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ নোবিপ্রবিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন নোয়াখালীতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে দোয়া ও মেজবানি লালপুরে ঈদের ছুটিতে গ্রামের মানুষের পাশে চিকিৎসক দম্পতি তৈমুর ও রেজওয়ানা জিয়াউর রহমান ছিলেন গণমানুষের নেতা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের কারিগর: এমপি মিলন গোদাগাড়ীর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১৭ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১৭ রাণীনগরে রানারদের অংশগ্রহনে ১০কিলোমিটার দৌড় অনুষ্ঠিত প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়ামতপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালিত এক টুকরো বরফেই হবে জাদু! কখন কোন রং দরকার, বেছে নিয়ে ত্বকচর্চা করুন ঈশ্বরদীর পদ্মায় নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার আত্রাইয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর ছাত্রদলের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাসিক প্রশাসকের বাণী জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হল না যুদ্ধবিরতি নিয়ে! পাঠানপাড়া নিবাসী এস. এম নুরুদৌলা মন্জুরের মৃত্যুতে রাসিক প্রশাসকের শোক

আমার বক্তব্য স্পষ্ট, পুলিশ কোনো দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

  • আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৫:৪৩:৫০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৫:৪৩:৫০ অপরাহ্ন
আমার বক্তব্য স্পষ্ট, পুলিশ কোনো দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুলিশকে উদ্দেশ্যে বলে তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।

রোববার (১০ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত পুলিশের কল্যাণ প্যারেডে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা (পুলিশ সদস্য) কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; আপনারাই হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার। সুতরাং, পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।

তিনি বলেন, আমরা থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চাই, যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিকারও পেতে পারেন।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং, সাধ্য সামর্থের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের (পুলিশের) চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্য ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে আপনারা সারাদেশে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনাদের গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, অবশ্যই পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন সম্ভব। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের জনগণ ভিন্ন চিত্রও দেখেছে।

‘বাংলাদেশ যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে— আসুন এই ২০২৬ এর পুলিশ সপ্তাহে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।

পুলিশের কাজ ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে, আপনাদের কাছে আমার এতটুকুই চাওয়া। দেশে বর্তমানে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে জন প্রত্যাশা যা অন্যান্য বক্তা প্রকাশ করেছেন তাদের বক্তব্যে, সে প্রত্যাশা অনেক বেশি। বর্তমান সরকার যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার— আপনাদের কার্যক্রমে যেন সেটি প্রতিফলিত হয়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।

বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে, মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। তবে সেখানে যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলে আপনাদের কারণে সরকারের সাফল্যগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি ডাকাতি-দাঙ্গা ফ্যাসাদের মতো সমাজে চলমান প্রথাগত অপরাধমূলক কার্যক্রমগুলোর পাশাপাশি শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্ব জুড়েই বেড়ে চলেছে সাইবার ক্রাইম। অপরাধীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ করছে। বিশেষ করে সাইবার বুলিং নারীদের জন্য বর্তমানে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসবের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতাও বিরাজমান। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালানো জরুরি, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্লোবাল ভিলেজের এই বিশ্ব ব্যবস্থা একদিকে মানুষের মনোজগতে যেমন পরিবর্তন এনেছে, অপরদিকে পাল্টেছে অপরাধের ধরন। সুতরাং বাংলাদেশ পুলিশকে একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তর করতে অপরাধ বিশ্লেষণ সক্ষমতা জোরদার, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর।

‘এ লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে চায়। গুম অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করা প্রতিটি পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগ এসব ক্ষেত্রে মেধা যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া সারা দেশ থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাসিক প্রশাসকের বাণী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাসিক প্রশাসকের বাণী