রাজশাহীর তানোরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে জরিমানা বানিজ্যর অভিযোগ উঠেছে। ফসলি জমিতে অবৈধভাবে আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ দেয়ায় এসব জরিমানা করা হচ্ছে।সচেতন মহলের প্রশ্ন গ্রাহকগণ নীতিমালা লঙ্ঘন করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা।এটা করা হলে গ্রাহকেরা সতর্ক হবেন।
কিন্তু সেটা না করে জরিমানার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে কার স্বার্থে ? সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এভাবে জরিমানা করে তো অবৈধ সেচ দেয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না।সাধারণ গ্রহকগণের দাবি যারা আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ নির্ভর চাষাবাদ করছে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হোক, জরিমানার নামে বানিজ্য কোনো সমাধান নয়।
জানা গেছে, তানোরে নিজ বাড়িতে থাকা (আবাসিক সংযোগ) সাব মার্সেবল পাম্পে সেচ দিয়ে বাড়ির পাশে পতিত জমিতে কেউ চাষ করেছেন সবজি কেউ বা রসুন, পেঁয়াজ। অনেক কৃষক সরিষা, মুসুর, আলু উঠানোর পরে কেউ ১০ কাঠা থেকে শুরু করে ৩ বিঘা পর্যন্ত করেছেন বোরো চাষ। আর এসব ফসল চাষই যেনো উপজেলার ১৫ হাজার কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি মার্চ মাসের বিলের সঙ্গে ফসলে সেচ দেয়ার অপরাধে কৃষক প্রতি অতিরিক্ত এক হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা যুক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে ১৫ হাজার কৃষকের কাছে প্রায় ৩ কোটি টাকা আদায় করেছেন। আগের মাস (ফেব্রুয়ারি) মাসে একই সমান জরিমানা করে আরো ৮ হাজার কৃষকের কাছে আদায় করেছেন এক কোটি ৫০ লাখ টাকা উপরে। এ হিসাব শুধু তানোর উপজেলার। এর বাইরে রাজশাহী জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও এমন জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রান্তিক কৃষকরা জানিয়েছেন। আলু, পেয়াজ আর রসুনের মতো চাষবাদ গুলোতে কৃষক টানা দুই বছর ধরে লোকসান গুনছে। পল্লীবিদ্যুতের বাড়তি জরিমানার বোঝা টানতে গিয়ে অনেক কৃষক ফসলের লাভে চেয়ে এবারেও লোকসানের মধ্যে পড়েছেন। এতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। অনেকে ফসল চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। তাই আগামীতে কমে যেতে পারে সবজিসহ অন্য ফসল চাষ। কৃষকেরা জানান, বর্তমান সরকার কৃষক বান্ধব। সরকারের শুরুতেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছেন। অল্প সময়ে এসে কৃষকের জন্য কৃষক কার্ডসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার যা কৃষকেরা ইতি মধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন। এমন সময় পল্লীবিদ্যুতের অতিরিক্ত জরিমানার বোঝা একদিকে কৃষকের লোকশানের বোঝা বাড়াচ্ছে অন্যদিকে কৃষি কাজে ব্যাঘাতও ঘটছে।
প্রচন্ড খরাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলা। এ উপজেলায় আলু,ধান,মসুর, সরিষা উৎপাদন করে দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণে কয়েক দশক ধরে ভূমিকা রাখছেন কৃষকেরা। কৃষকরা জানান, তানোর উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কতৃপক্ষ(বিএমডিএ) গভীর নলকুপে অনেক পানি কম উঠছে। অনেক গভীর নলকুপ ভূগর্ভস্থ পানি সংকটে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে পানির অভাবে হাজার হাজার জমি পতিত পড়ে থাকছে। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশে সবজি ও ফলের বাগানগুলোতে বাড়িতে বসানো সাব মার্সেবল পাম্প দিয়ে অল্প পরিসরে সেচ দিয়ে কৃষকরা চাষবাদ করছে। আর এ চাষ করতে গিয়েই বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
রাজশাহী পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের তথ্য মতে, উপজেলা প্রায় সাড়ে ৫১ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ মোট প্রায় ৫৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে।অভিজ্ঞ মহল বলছে,যেমন আবাসিক সংযোগ থেকে পেঁয়াজ,রসুন,সরিষা, ধনিয়া ইত্যাদি ফসলে সেচ দেয়ায় জরিমানা করা উচিৎ নয়, তেমনি এসব সংযোগ থেকে আলু,ধান ও গমসহ সেচ নির্ভর ফসলে সেচ দেয়া ঠিক নয়।এটা প্রতিরোধ করা সময়ের দাবি।কিন্ত্ত তাই বলে জরিমানার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াও অনৈতিক।
তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার পাঁচন্দর বাগমারাপাড়ার সামিরুল ইসলাম বাবু তার গ্রাহক হিসাব নম্বর ১০৪৯০৪৫২৮১০৩৫। তার ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সাধারণ বিলের সঙ্গে এক হাজার ৫০০ টাকা করে দুই মাসে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করে ৬ হাজার ২৩৪ টাকা বিল পাঠিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। পরপর দুই মাসের এমন বিল হাতে পেয়ে কৃষক সামিরুল চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
কৃষক সামিরুল ইসলাম বাবু জানান, বাড়ি পাশে ১৫ শতকের একটি জমি ছিল তার। জমির পাশে গ্রামে একটি বড় মসজিদের ওজুখানা পানি গিয়ে এমনিতেই পানি জমে থাকে। সেখানে তিনি চলতি বছর বোরো ধান রোপন করেছেন। বাড়ির বসানো সাব মার্সেবল পাম্প দিয়ে তিনি কয়েক ঘন্টা সেচ দিয়েছেন। এতে তার বিলের সঙ্গে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা করে দুই মাসে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত জরিমানা করা হয়েছে। কৃষক সামিরুল ইসলাম বাবুর মতো তানোর উপজেলায় হাজার হাজার কৃষক এক হাজার ৫০০ বাড়তি জরিমানা বিল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এবিষয়ে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রেজাউল করিম খাঁন জানান, রোবো চাষাবাদ শুরুর আগে কৃষকদের সেচ না দিতে এলাকা এলাকা মাইকিং করে প্রচারণা করা হয়েছে। কৃষি বিভাগসহ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সভা করে বোরো সেচ না দেয়ার ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবু কৃষকেরা সেচ বন্ধ করেনি। তাই ৫৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার কৃষকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
ডিজিএম আরো বলেন, যদি এসব কৃষক অফিসে এসে আর সেচ দিবে না এ মর্মে লিখিত দেন তাহলে আর জরিমারা করা হবে না।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, সেচ দেয়াতে এতো কৃষককে জরিমানা করার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিষয়টি দ্রত সমাধান করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু সেটা না করে জরিমানার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে কার স্বার্থে ? সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এভাবে জরিমানা করে তো অবৈধ সেচ দেয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না।সাধারণ গ্রহকগণের দাবি যারা আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ নির্ভর চাষাবাদ করছে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হোক, জরিমানার নামে বানিজ্য কোনো সমাধান নয়।
জানা গেছে, তানোরে নিজ বাড়িতে থাকা (আবাসিক সংযোগ) সাব মার্সেবল পাম্পে সেচ দিয়ে বাড়ির পাশে পতিত জমিতে কেউ চাষ করেছেন সবজি কেউ বা রসুন, পেঁয়াজ। অনেক কৃষক সরিষা, মুসুর, আলু উঠানোর পরে কেউ ১০ কাঠা থেকে শুরু করে ৩ বিঘা পর্যন্ত করেছেন বোরো চাষ। আর এসব ফসল চাষই যেনো উপজেলার ১৫ হাজার কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি মার্চ মাসের বিলের সঙ্গে ফসলে সেচ দেয়ার অপরাধে কৃষক প্রতি অতিরিক্ত এক হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা যুক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে ১৫ হাজার কৃষকের কাছে প্রায় ৩ কোটি টাকা আদায় করেছেন। আগের মাস (ফেব্রুয়ারি) মাসে একই সমান জরিমানা করে আরো ৮ হাজার কৃষকের কাছে আদায় করেছেন এক কোটি ৫০ লাখ টাকা উপরে। এ হিসাব শুধু তানোর উপজেলার। এর বাইরে রাজশাহী জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও এমন জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রান্তিক কৃষকরা জানিয়েছেন। আলু, পেয়াজ আর রসুনের মতো চাষবাদ গুলোতে কৃষক টানা দুই বছর ধরে লোকসান গুনছে। পল্লীবিদ্যুতের বাড়তি জরিমানার বোঝা টানতে গিয়ে অনেক কৃষক ফসলের লাভে চেয়ে এবারেও লোকসানের মধ্যে পড়েছেন। এতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। অনেকে ফসল চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। তাই আগামীতে কমে যেতে পারে সবজিসহ অন্য ফসল চাষ। কৃষকেরা জানান, বর্তমান সরকার কৃষক বান্ধব। সরকারের শুরুতেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছেন। অল্প সময়ে এসে কৃষকের জন্য কৃষক কার্ডসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার যা কৃষকেরা ইতি মধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন। এমন সময় পল্লীবিদ্যুতের অতিরিক্ত জরিমানার বোঝা একদিকে কৃষকের লোকশানের বোঝা বাড়াচ্ছে অন্যদিকে কৃষি কাজে ব্যাঘাতও ঘটছে।
প্রচন্ড খরাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলা। এ উপজেলায় আলু,ধান,মসুর, সরিষা উৎপাদন করে দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণে কয়েক দশক ধরে ভূমিকা রাখছেন কৃষকেরা। কৃষকরা জানান, তানোর উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কতৃপক্ষ(বিএমডিএ) গভীর নলকুপে অনেক পানি কম উঠছে। অনেক গভীর নলকুপ ভূগর্ভস্থ পানি সংকটে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে পানির অভাবে হাজার হাজার জমি পতিত পড়ে থাকছে। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশে সবজি ও ফলের বাগানগুলোতে বাড়িতে বসানো সাব মার্সেবল পাম্প দিয়ে অল্প পরিসরে সেচ দিয়ে কৃষকরা চাষবাদ করছে। আর এ চাষ করতে গিয়েই বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
রাজশাহী পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের তথ্য মতে, উপজেলা প্রায় সাড়ে ৫১ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ মোট প্রায় ৫৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে।অভিজ্ঞ মহল বলছে,যেমন আবাসিক সংযোগ থেকে পেঁয়াজ,রসুন,সরিষা, ধনিয়া ইত্যাদি ফসলে সেচ দেয়ায় জরিমানা করা উচিৎ নয়, তেমনি এসব সংযোগ থেকে আলু,ধান ও গমসহ সেচ নির্ভর ফসলে সেচ দেয়া ঠিক নয়।এটা প্রতিরোধ করা সময়ের দাবি।কিন্ত্ত তাই বলে জরিমানার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াও অনৈতিক।
তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার পাঁচন্দর বাগমারাপাড়ার সামিরুল ইসলাম বাবু তার গ্রাহক হিসাব নম্বর ১০৪৯০৪৫২৮১০৩৫। তার ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সাধারণ বিলের সঙ্গে এক হাজার ৫০০ টাকা করে দুই মাসে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করে ৬ হাজার ২৩৪ টাকা বিল পাঠিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। পরপর দুই মাসের এমন বিল হাতে পেয়ে কৃষক সামিরুল চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
কৃষক সামিরুল ইসলাম বাবু জানান, বাড়ি পাশে ১৫ শতকের একটি জমি ছিল তার। জমির পাশে গ্রামে একটি বড় মসজিদের ওজুখানা পানি গিয়ে এমনিতেই পানি জমে থাকে। সেখানে তিনি চলতি বছর বোরো ধান রোপন করেছেন। বাড়ির বসানো সাব মার্সেবল পাম্প দিয়ে তিনি কয়েক ঘন্টা সেচ দিয়েছেন। এতে তার বিলের সঙ্গে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা করে দুই মাসে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত জরিমানা করা হয়েছে। কৃষক সামিরুল ইসলাম বাবুর মতো তানোর উপজেলায় হাজার হাজার কৃষক এক হাজার ৫০০ বাড়তি জরিমানা বিল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এবিষয়ে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তানোর জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রেজাউল করিম খাঁন জানান, রোবো চাষাবাদ শুরুর আগে কৃষকদের সেচ না দিতে এলাকা এলাকা মাইকিং করে প্রচারণা করা হয়েছে। কৃষি বিভাগসহ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সভা করে বোরো সেচ না দেয়ার ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবু কৃষকেরা সেচ বন্ধ করেনি। তাই ৫৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার কৃষকে এক হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
ডিজিএম আরো বলেন, যদি এসব কৃষক অফিসে এসে আর সেচ দিবে না এ মর্মে লিখিত দেন তাহলে আর জরিমারা করা হবে না।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, সেচ দেয়াতে এতো কৃষককে জরিমানা করার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিষয়টি দ্রত সমাধান করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আলিফ হোসেন