ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমিকার ওপর অভিমান করে মোটরসাইকেলে আগুন দিলেন যুবক প্রেমের সম্পর্কের জেরে কিশোরীকে হত্যা, প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৩ ভোক্তা অধিকারের অভিযান দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা তানোরে গ্রাম আদালত বিষয়ক র‍্যালি, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, শনাক্তে পুলিশের অভিযান অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশদের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ রাণীনগরে ছিনতাইকারীর কবল থেকে রক্ষা পেতে অটোরিকশা থেকে লাফ দিলেন যাত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদী সীমান্তে পুশব্যাকের আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের চেষ্টা করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশগণের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক তানোরে যুবককে হাতুড়িপেটা করে নালায় নিক্ষেপ! বেড়ে গেল বিদ্যুতের দাম  'পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে আমি...', গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে কেন সরে গিয়েছিলেন কঙ্গনা? একটি মহল দেশকে অশান্ত করতে চায়, সতর্ক থাকার আহ্বান: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল প্রস্তুতি ম্যাচে লুকাকুর গোলে হার মানল মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া সপ্তাহে তিন দিন প্রোটিনে ভরপুর খাবারটি খেলে কী লাভ হবে সাপাহার সদরে যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা রাণীশংকৈলে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা রাজশাহীতে ২ লাখ ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক দেশে ফিরছেন হাজিরা, মৃত্যু ৪৪!

বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

  • আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০৮:৪৫:২১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০৮:৪৫:২১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়তে থাকা হাম সংক্রমণ পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলছে, দেশের অধিকাংশ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানে ঘাটতি এবং মৃত্যুর ঘটনা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে, যা মোট জেলার ৯১ শতাংশ। ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০-এর বেশি। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৬৬ জন, যার মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যু ৩০টি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সিরা। মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৯ শতাংশ এই বয়সসীমার মধ্যে। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সি শিশু ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সি শিশু ৩৩ শতাংশ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুরা টিকা পায়নি বা আংশিক টিকা পেয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আগেই আমরা হামকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার কথা বলেছিলাম। এখন সরকারের উচিত দ্রুত সেই ঘোষণা দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৪৭, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৫১৪ এবং খুলনায় ১ হাজার ৫৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলো—ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হলো টিকাদানে ঘাটতি। ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার সরবরাহ সংকট, নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর সংখ্যা বেড়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই অগ্রগতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও মৃত্যুও ঘটতে পারে।

প্রতি এক হাজার আক্রান্তের মধ্যে ২ থেকে ৩ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ৫ এপ্রিল অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়।

এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (আরআরটি) সক্রিয়করণ, হাসপাতালের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচলের কারণে সংক্রমণ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঝুঁকি বেশি।

সংস্থাটি সব এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা, নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত ও পৃথকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই টিকাদান জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশগণের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক

অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশগণের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক