ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোক্তা অধিকারের অভিযান দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা তানোরে গ্রাম আদালত বিষয়ক র‍্যালি, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, শনাক্তে পুলিশের অভিযান অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশদের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ রাণীনগরে ছিনতাইকারীর কবল থেকে রক্ষা পেতে অটোরিকশা থেকে লাফ দিলেন যাত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদী সীমান্তে পুশব্যাকের আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের চেষ্টা করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশগণের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক তানোরে যুবককে হাতুড়িপেটা করে নালায় নিক্ষেপ! বেড়ে গেল বিদ্যুতের দাম  'পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে আমি...', গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে কেন সরে গিয়েছিলেন কঙ্গনা? একটি মহল দেশকে অশান্ত করতে চায়, সতর্ক থাকার আহ্বান: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল প্রস্তুতি ম্যাচে লুকাকুর গোলে হার মানল মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া সপ্তাহে তিন দিন প্রোটিনে ভরপুর খাবারটি খেলে কী লাভ হবে সাপাহার সদরে যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা রাণীশংকৈলে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা রাজশাহীতে ২ লাখ ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক দেশে ফিরছেন হাজিরা, মৃত্যু ৪৪! মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ভিডিও প্রকাশ করল ইরান কৃতি-রশ্মিকার সম্পর্ক নিয়ে ফিসফাস, তাঁদের পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা

জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলো

  • আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০১:৫৯:৫১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০১:৫৯:৫১ অপরাহ্ন
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলো ফাইল ফটো
সপ্তাহের অন্য দিনের ভিড়ে জুমার দিনটি মুসলমানদের কাছে আলাদা এক তাৎপর্য নিয়ে আসে। এই দিনটি শুধু নামাজের জন্য নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, দোয়া আর আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক বিশেষ সুযোগ হিসেবেই ধরা হয়।

পবিত্র কুরআনে জুমা নামে একটি সুরাও রয়েছে। যেখানে মহান এই দিনের তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)।

অন্যদিকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘সূর্য উদয়ের দিবসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। সে দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়। তাকে ওইদিন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। তাকে তা থেকে ওইদিন বের করা হয়। আর কিয়ামতও হবে জুমার দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫০)

এ জন্য অবহেলা করে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারেও কঠোর নিষেধ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তারা উভয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কে মিম্বরের সিঁড়িতে বলতে শুনেছেন, ‘যারা জুমা পরিত্যাগ করে, তাদের এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। নতুবা মহান আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। অতঃপর তারা অবশ্যই গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৭৫)।

অপর বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিন জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তার হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৫০০)। তাই জুমার দিনে মিসওয়াকের পাশাপাশি উত্তমরূপে গোসল করাসহ সুগন্ধি ব্যবহার করে উত্তম কাপড় পরে মসজিদে যাওয়ার কথাও অনেক হাদিসে এসেছে।

বিশেষ করে জুমার দিনের এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা যে কোনো বৈধ দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন বলে হাদিসে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তটি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না হলেও সহিহ মুসলিমের হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা এসেছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। কোনো মুসলিম সে মুহূর্তটিতে আল্লাহর নিকট কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে, মহান আল্লাহ তাকে তা দেবেন। এ মুহূর্তটি অতি অল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৬)

আরেকটি হাদিসে জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোনো মুসলিম আল্লাহর নিকট যা-ই দোয়া করে, আল্লাহ তাই কবুল করেন। তোমরা এই মুহূর্তটিকে আসরের শেষে অনুসন্ধান করো। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

এই সময়টিতে তাই বিশেষভাবে দোয়া করা, ক্ষমা চাওয়া, নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা এবং পরিবারের জন্য কল্যাণ কামনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ছোট্ট সময়টিই হতে পারে জীবনের অনেক চাওয়া-পাওয়ার সমাধানের মাধ্যম।

তবে শুধু এই নির্দিষ্ট সময় নয়, পুরো জুমার দিনই দোয়া কবুলের সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে বিবেচিত। ফজরের পর, খুতবার সময়, জুমার নামাজের আগে ও পরে সব সময়ই একজন মুমিন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে পারে। বিশেষ করে খুতবার সময় নীরব থেকে মনোযোগী থাকা এবং নিজের ভেতরে দোয়ার নিয়ত রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

সব মিলিয়ে জুমার দিন হলো এমন একটি সুযোগ, যেখানে ব্যস্ততা, দুনিয়াবি চিন্তা আর ক্লান্তির মাঝেও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করা যায়। তাই এই দিনটিকে অবহেলা না করে বরং দোয়া, ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে উত্তম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশগণের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক

অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত কর্মচারীদের ওয়ারিশগণের মাঝে আনুতোষিকের চেক বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক