২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানকে সরিয়ে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করতে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত। কিন্তু এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইতালির ক্রীড়া কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী নয়। এমন প্রস্তাব ‘লজ্জাজনক’ ও ‘অপমানজনক’।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে ফিফা শুরু থেকেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি এক মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জাম্পোলি বলেছেন, তিনি ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে ইতালিকে ইরানের বিকল্প হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পোলি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়, বরং শেষ মুহূর্তে ইরান যদি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন। জাম্পোলি এটিকে নিজের একটি ‘স্বপ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালির বিশ্বকাপে খেলা যুক্তিসংগত হতে পারে।
কিন্তু ইতালির ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা এই প্রস্তাবকে ভালোভাবে নেননি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্কাই নিউজকে বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেছেন, বিষয়টি যেমন অসম্ভব, তেমনি অনুপযুক্ত। যোগ্যতা অর্জন করতে হয় মাঠের খেলায়।’
ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিগ্লিও প্রস্তাবটিকে অপমানজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে সেটার যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হয়।’ ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও এ প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও এ প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন, ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না? শুরুতে ট্রাম্প হালকা মেজাজে বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবিনি।’ পরে যোগ করেন, ‘প্রশ্নটা বেশ মজার। এটা নিয়ে আমাকে একটু ভাবতে দিন।’
এরপর ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে প্রশ্নটি ঠেলে দেন। রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কিছু বলা হয়নি যে তারা আসতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যা ইরানকে নিয়ে, তাদের খেলোয়াড়দের নয়। সমস্যা হতে পারে তাদের সঙ্গে আসা অন্য কিছু লোককে নিয়ে।’ তার মতে, ইরান ফুটবল দল সাংবাদিক বা কোচের পরিচয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুগত কিছু লোককে সঙ্গে আনতে পারে।
রুবিওর ভাষায়, ‘দলের আশপাশের কিছু লোককে আমরা হয়তো ঢুকতে দিতে পারব না, তবে খেলোয়াড়দের নয়। এমনও শোনা যাচ্ছে, ইরান হয়তো নিজেই না আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তখন ইতালি তাদের জায়গা নিতে পারে।’ তবে বলটা শেষ পর্যন্ত ইরানের কোর্টে ঠেলে দিয়ে রুবিও বলেন, ‘যদি তারা না আসে, সেটি তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তেই হবে।’
রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জাম্পোল্লির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দূতাবাসটি লিখেছে, ‘ফুটবল জনগণের, রাজনীতিবিদদের নয়। ইতালি তার ফুটবলদক্ষতা মাঠে প্রমাণ করেছে, কোনো রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে নয়। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে, যারা মাঠে ১১ জন তরুণ ইরানির উপস্থিতিকেও ভয় পায়।’
বাছাইপর্বে ইরান বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম দিকের দলগুলোর একটি, সেখানে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জেরে দেশটির জাতীয় দলের কোচ এবং ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকে পদত্যাগ করতে হয়।
বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরান গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ পর্ব শেষে যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তবে শেষ ৩২–এর লড়াইয়ে ডালাসে মুখোমুখি হতে পারে দুই দল।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে ফিফা শুরু থেকেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি এক মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জাম্পোলি বলেছেন, তিনি ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে ইতালিকে ইরানের বিকল্প হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পোলি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়, বরং শেষ মুহূর্তে ইরান যদি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন। জাম্পোলি এটিকে নিজের একটি ‘স্বপ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালির বিশ্বকাপে খেলা যুক্তিসংগত হতে পারে।
কিন্তু ইতালির ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা এই প্রস্তাবকে ভালোভাবে নেননি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্কাই নিউজকে বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেছেন, বিষয়টি যেমন অসম্ভব, তেমনি অনুপযুক্ত। যোগ্যতা অর্জন করতে হয় মাঠের খেলায়।’
ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিগ্লিও প্রস্তাবটিকে অপমানজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে সেটার যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হয়।’ ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও এ প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তিও এ প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন, ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না? শুরুতে ট্রাম্প হালকা মেজাজে বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবিনি।’ পরে যোগ করেন, ‘প্রশ্নটা বেশ মজার। এটা নিয়ে আমাকে একটু ভাবতে দিন।’
এরপর ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে প্রশ্নটি ঠেলে দেন। রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কিছু বলা হয়নি যে তারা আসতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যা ইরানকে নিয়ে, তাদের খেলোয়াড়দের নয়। সমস্যা হতে পারে তাদের সঙ্গে আসা অন্য কিছু লোককে নিয়ে।’ তার মতে, ইরান ফুটবল দল সাংবাদিক বা কোচের পরিচয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুগত কিছু লোককে সঙ্গে আনতে পারে।
রুবিওর ভাষায়, ‘দলের আশপাশের কিছু লোককে আমরা হয়তো ঢুকতে দিতে পারব না, তবে খেলোয়াড়দের নয়। এমনও শোনা যাচ্ছে, ইরান হয়তো নিজেই না আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তখন ইতালি তাদের জায়গা নিতে পারে।’ তবে বলটা শেষ পর্যন্ত ইরানের কোর্টে ঠেলে দিয়ে রুবিও বলেন, ‘যদি তারা না আসে, সেটি তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তেই হবে।’
রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জাম্পোল্লির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দূতাবাসটি লিখেছে, ‘ফুটবল জনগণের, রাজনীতিবিদদের নয়। ইতালি তার ফুটবলদক্ষতা মাঠে প্রমাণ করেছে, কোনো রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে নয়। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে, যারা মাঠে ১১ জন তরুণ ইরানির উপস্থিতিকেও ভয় পায়।’
বাছাইপর্বে ইরান বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম দিকের দলগুলোর একটি, সেখানে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জেরে দেশটির জাতীয় দলের কোচ এবং ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকে পদত্যাগ করতে হয়।
বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরান গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ পর্ব শেষে যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তবে শেষ ৩২–এর লড়াইয়ে ডালাসে মুখোমুখি হতে পারে দুই দল।
ক্রীড়া ডেস্ক